ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


২৯ এপ্রিল, ২০২০ ১১:৩৬ এএম

ইতিহাসের মাপকাঠিতে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ ও কার্যকরিতা

ইতিহাসের মাপকাঠিতে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ ও কার্যকরিতা

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ৮০ শতাংশই সামান্য সর্দি-জ্বর, কাশির পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। কারণ এই ভাইরাস আক্রমণের পর আক্রান্তের দেহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় করোনা প্রতিরোধী এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এর নাম এন্টিবডি। এই এন্টিবডি পরবর্তী সময় করোনা আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। ফলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে– এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া কোনো রোগীর শরীর থেকে এন্টিবডি সংগ্রহ করে যদি একজন সুস্থ মানুষের দেহে পুশ করা হয়; তবে কী সেই সুস্থ মানুষ এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাবেন? চিকিৎসা বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কী বলে?

একজনের শরীর থেকে এন্টিবডি নিয়ে অন্যের শরীরে দেয়াকে বলা হয় প্লাজমা থেরাপি। এ থেরাপি করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কতটুকু কার্যকর হবে- ইদানীং এ বিষয়ে অনেকেই জানতে চাচ্ছেন।

কারও শরীরে কোনো রোগের আক্রমণের পর প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট এন্টিবডি সংগ্রহ করে যদি সুস্থ মানুষের দেহে পুশ করা হয়, তবে যে জীবাণুর বিপরীতে ওই এন্টিবডি তৈরি হয়েছে ওই জীবাণুর আক্রমণ থেকে তিনি সুরক্ষা পাবেন। এই পদ্ধতির নাম সিরাম কনভ্যালেসেন্ট থেরাপি (Serum Convalescent therapy)।

করোনা থেকে এ পদ্ধতিতে সুরক্ষা পাওয়া যাবে কিনা?

প্রথমে প্রশ্নটির উত্তরে বলি– হ্যাঁ, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে প্লাজমা ডিরাইভড থেরাপির সুফল পাওয়া গেছে। সম্প্রতি চীনে এর প্রয়োগ হয়েছে। সুফল পেয়েছেন চীনা চিকিৎসকরা। যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ইতিহাসের মাপকাঠিতে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ:

কিছু ঐতিহাসিক মহামারী ঠেকাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই এন্টিবডি থেরাপি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সুফল পাওয়া গেছে। যেমন ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর আক্রমণে যখন ইউরোপে লাখো মানুষ মারা যাচ্ছিলেন, তখন একপর্যায়ে চিকিৎসকরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

স্প্যানিশ ফ্লু থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর শরীর থেকে সিরাম এন্টিবডি সংগ্রহ করে তা অসুস্থ ও সুস্থ মানুষের দেহে পুশ করা হয়। এতে স্প্যানিশ ফ্লুর সংক্রমণ ৫০ শতাংশ কমে যায়।

একইভাবে ১৯৩৪ সালে পেনসিলভানিয়াতে মিজেলস (Measles) রোগের মহামারী ঠেকাতে সুস্থ শিশুদের দেহে অসুস্থ শিশুদের রক্তের এন্টিবডি দেয়া হয়েছিল এবং ভালো সুফল পাওয়া যায়। ৬২ জন সুস্থ ছাত্রের শরীরে মিজেলস এন্টিবডি পুশ করা হয়েছিল এবং এতে ৫৯ ছাত্র মিজেলস থেকে সুরক্ষা পেয়েছিল।

এই প্লাজমা ডেরাইভড থেরাপি অতিসম্প্রতি ইবোলা মহামারী ও এভিয়ান ফ্লু মহামারীতে প্রয়োগ করা হয়ে এবং সুফল পাওয়া যায়।

জাপানের তাকাডা ফার্মাসিউটিক্যালস এ নিয়ে গবেষণা করছে। হয়তো তারা অচিরেই এ পদ্ধতির আরেকটু উন্নত সংস্করণ করে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করে ফেলবে। করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর কাছ থেকে রোগপ্রতিরোধী সিরাম এন্টিবডি সংগ্রহ করে এ গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এই প্রোগ্রামের নাম TAK-888।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য ইমিউনোলজিস্ট ও ভাইরোলজিস্টরা এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন এবং গবেষণা শুরু করতে পারেন।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে