২৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৬:০২ পিএম

করোনা: যে আশ্রমের পরিচয়হীন ৭২ বৃদ্ধ ও শিশুকে খাবার দেওয়াটাই চ্যালেঞ্জ!

করোনা: যে আশ্রমের পরিচয়হীন ৭২ বৃদ্ধ ও শিশুকে খাবার দেওয়াটাই চ্যালেঞ্জ!

বিল্লাল হোসেন রাজু: দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই সংক্রমিণের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যসংকট। বিশেষ করে এতে বিপাকে পড়েছে অসহায় অভিভাবকহীন বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। 

অসহায় বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ফ্রি আশ্রম রাজধানী কল্যাণপুরের ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ (বাড়ি: ৪৬২, সড়ক: ০৮ দক্ষিণ পাইপাড়া)। এর প্রতিষ্ঠাতা মিলটন সমাদ্দার। প্রায় অর্ধযুগ ধরে পরিচয়হীন অসহায় বৃদ্ধ ও শিশুদের রাস্তা থেকে তুলে এনে সেবা সুস্থ করে এই আশ্রমে স্থান দিচ্ছেন তিনি। 

মিল্টন সমাদ্দার মেডিভয়েসকে বলেন, বর্তমানে এখানে ৬৬ জন প্রবীণ ও ৬টি শিশু আছেন। এ ৭২ জনকে প্রতিদিনকার প্রতিদিন খাবার, ওষুধ, কর্মচারীদের বেতনের ব্যবস্থা করা বেশ কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।  প্রায় ছয় বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অসহায় পরিচয়হীন ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু চলমান করোনা মাহামারিতে বেশ সংকটে পড়েছি।

মিল্টন সমাদ্দার আরো বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং তাঁর পরিচালিত একটি নার্সিং এজেন্সি করোনাভাইরাসের বিস্তারের ফলে বন্ধ আছে। ফেসবুকের শুভাকাঙ্ক্ষীসহ অন্যদের কাছ থেকে দান – সহযোগিতার পরিমাণ কমে গেছে। অথচ বাড়িভাড়া, সবার খাবার, চিকিৎসাসহ মাসেই খরচ হয় প্রায় ১১ লাখ টাকা। এই সময়ে তাঁদের পাশে মানুষ না দাঁড়ালে ডাল – ভাত খাবারের সংস্থান করাই কষ্টকর হয়ে যাবে।

মিল্টন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে প্রবীণ ও শিশুদের পরিষ্কার – পরিচ্ছন্নতার পেছনেই অনেক খরচ করতে হচ্ছে। খাবার তো আছেই। তবে এখন পর্যন্ত কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্রবীণদের অনেকের শরীরেই ঘা, পচন তো আগে থেকেই আছে।’ তবে করোনাকালেও প্রবীণের আসা বন্ধ হয়নি কেন্দ্রটিতে। করোনাকালেই মিরপুরের একটি সড়কে পড়ে থাকা ৮৫ বছর বয়সের জাহানারা বেগম কেন্দ্রটিতে এসেছেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া অলাভজনক এবং একক ব্যক্তি উদ্যোগে গঠিত এ আশ্রমে এখন পর্যন্ত বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ৩১ জন ইন্তেকাল করেছেন। আবার অনেকে ফেসবুকে দেখে তাঁদের পিতা, মাতা ও স্বজনদের নিতে এলে আমরা তাঁদের স্বজনদের তাঁদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি বলেন তিনি জানান।  

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
দাফন করা যাবে পারিবারিক কবরস্থানে

মৃত দেহে তিন ঘণ্টা সক্রিয় থাকে করোনাভাইরাস

দাফন করা যাবে পারিবারিক কবরস্থানে

মৃত দেহে তিন ঘণ্টা সক্রিয় থাকে করোনাভাইরাস

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি