ডা. আব্দুন নূর তূষার

ডা. আব্দুন নূর তূষার

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 


২৬ এপ্রিল, ২০২০ ১২:০৬ পিএম

করোনা যুদ্ধে ব্যর্থ হলে শুরু হবে ‘ইতালিকরণ’ কর্মসূচি!

করোনা যুদ্ধে ব্যর্থ হলে শুরু হবে ‘ইতালিকরণ’ কর্মসূচি!

করোনা আক্রমণের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুটো যুদ্ধ। একটা হলো সংক্রমণ কমানো এবং সংক্রমিতদের সুস্থদের কাছ থেকে আলাদা করা। আরেকটা হলো চিকিৎসা করে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো। এর সাথে সাথে আরেকটা যুদ্ধ আছে। সেটি হলো অর্থনীতিকে বাঁচানোর যুদ্ধ।

মানুষ বাঁচতে হলে কাজে ফিরতে হবে। উৎপাদনের চক্র অব্যাহত রাখতে হবে। যদি দ্রুত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা তার কাজটা না করতে পারে, তাহলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

কারণ কি?

কারণ হলো আমাদের মতো শ্রমঘণ দেশে, শ্রমিক মরে গেলে এমনিতেই উৎপাদন শেষ হয়ে যাবে। কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে শ্রমের জোগান না থাকলে উৎপাদন কমে যাবে। আবার যদি কেউ কাজে না যায় তাহলেও উৎপাদন হবে না। অথচ আমরা কি করছি?

আমরা লকডাউন করছি কিন্তু টেস্টের পরিমান বাড়ানো, চিকিৎসকদের সুরক্ষা, অস্থায়ী আইসোলেশন হাসপাতাল তৈরী, সস্তা সার্জিকাল মাস্ক উৎপাদন ও বন্টন, সাবান ও স্যানিটাইজার সহজলভ্য করা, কিছুই ঠিক মতো করছি না।

করোনা ব্যবস্থাপনায় আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে না লকডাউনের মধ্যে। অথচ সেটা বাড়ানো ছিল জরুরী। উল্টো আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশের সংখ্যা কমছে। ফলে লকডাউন এর সময় বাড়ছে।

একসময় অজুহাত দেয়া হবে যে লকডাউন করে কাজ হচ্ছে না, সব খুলে দেই। তখন শুরু হবে ‘ইটালীকরণ’ কর্মসূচি।

তাই....

১. অবিলম্বে চায়না থেকে মাস্ক না, সস্তা মাস্ক উৎপাদনের কারখানা এনে এখানে বসাতে হবে। ৫ টাকায় মাস্ক দিতে না পারলে কোনভাবেই কারখানা খোলা যাবে না। কাজ করা যাবে না।

২. স্যানিটাইজারের/ ডিসইনফেকট্যান্টের কৃত্রিম সংকট বন্ধ করতে হবে।

কেন ১৫০ টাকার নিচে যে হেক্সিসল পাওয়া যেতো সেটা বাজারে নাই আর অন্যরা ২২০/ ২৫০ টাকায় একই রকম বোতলে একই ধরনের পণ্য বাজারজাত করছে? কেন বড় জারে ডেটল স্যাভলন বাজারে নাই। কেন ছোট বোতলে সরবরাহ বেড়ে গেছে?

মুনাফা বাড়াতে হলে যতো বেশী খুচরা ততো ভালো। তাই ৫০ এমএল স্যানিটাইজার এর দাম রাখা হচ্ছে ৮০ টাকা। যা আগে ছিল ২০০ এম এল ২০০ টাকা। কেন নতুন নতুন কোম্পানী স্যানিটাইজার সরবরাহ করছে আর যারা এতদিন এসব বানিয়েছে তারা বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারছে না, এমনকি স্বাভাবিক সময়ের সরবরাহও দিতে পারছে না? নাকি দিচ্ছে না?

গরীব মানুষকে বাঁচানোর জন্যই সামাজিক সুবিচার জরুরী। ধনী এমনিতেই টিকে থাকে।

১৬ কোটি লোককে ভেন্টিলেটরে তোলা সম্ভব না। কিন্তু ১৬ কোটিকে মাস্ক ও সাবান সরবরাহ দেয়া সম্ভব। সে কাজ করে নিজেই কিনে নেবে। আমরা কি সেটা করেছি? এসবই আমাদের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। আমরা সব অস্বীকার করতে পারি। বলতে পারি সব ঠিক আছে। বলতে পারি কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যা ঘটার সেটা ঘটবেই। আর এখন থেকে ১০ বছর পরে , ২০ বছর পরে মানুষ ঠিকই বলবে, কি ব্যর্থতা ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছিলাম আমরা।

তেলমারা লোকগুলি, মিথ্যাবাদী লোকগুলি তখন থাকবে না। ইতিহাস বিবেচনা করবে ভবিষ্যতের মানুষেরা।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত