২২ এপ্রিল, ২০২০ ০২:৫৬ পিএম
মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকার

চিকিৎসকরা অসুস্থ হলে আমাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে: জেসি

চিকিৎসকরা অসুস্থ হলে আমাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে: জেসি
সাথিরা জাকির জেসি

করোনায় স্থবির পুরো বিশ্ব। ছোঁয়াছে এই ভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। প্রত্যেকেই শঙ্কিত জীবন নিয়ে। করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে মেডিভয়েসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম নারী ধারাভাষ্যকার সাথিরা জাকির জেসি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন

মেডিভয়েস: করোনার সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘরে থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে।  এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলুন।

সাথিরা জাকির জেসি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব পরামর্শ দিয়েছে, তা আমাদের ভালোর জন্যই দিয়েছে। আমাদের উচিত সেসব নির্দেশনা  যথাসম্ভব মেনে চলা। ঘরে থাকা, বারবার হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না। এখন পুরো বিশ্বেই করোনার কারণে স্থবির হয়ে আছে। সবাই লকডাউনের মধ্যে আছে। ছোঁয়াছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমাদের এখন ঘরে থাকাই ভালো।

মেডিভয়েস: করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন। তাদের নিয়ে কিছু বলুন

সাথিরা জাকির জেসি: ডাক্তাররা তো চিকিৎসা দেয়ার জন্যই এ পেশায় এসেছেন, তাই না!। মানুষের সেবা দেয়াইতো তাদের পেশা। তবে এই মুহূর্তটা আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের জীবনের প্রতি মায়া আছে। সবাই বাচঁতে চায়। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও ওনারা যেভাবে জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

এই মুহূর্তে ডাক্তারারই সত্যিকারের যুদ্ধটা করছেন। তারাই যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে আমাদের জন্য আরও খারাপ পরিস্থিতি হবে। এখন আমাদেরকে ওনাদের জন্য দোয়া করতে হবে, আল্লাহ যাতে সবাইকে সুস্থ রাখেন, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে ভালো থাকেন। শুনেছি, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (ডা. মঈন) মারা গেছেন, আরও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

মেডিভয়েস: যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য আক্রান্ত হলেও তেমন খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে যদি কিছু বলেন।

সাথিরা জাকির জেসি: আসলে পরিস্থিতিতিটাই এমন হয়ে গেছে। আমাদের কাছের মানুষ, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ আমরা তাদের খোঁজখবরও নিতে পারছি না। একটু সহমর্মিতা দেখাতে পারছি না। পাশের কেউ মারা গেলেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে না। এমন একটা মহামারীর পরিস্থিতিতে আমরা আছি। আশা করছি আল্লাহর রহমতে সবকিছু দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে, আল্লাহ আমাদের প্রতি রহম করবেন।

মেডিভয়েস: করোনার সংক্রমণ এড়াতে আপনি নিজে কী করছেন?

সাথিরা জাকির জেসি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব পরামর্শ দেয়া হয়েছে সেগুলো ফলো করার চেষ্টা করছি। সারাক্ষণ ঘরে থাকছি। বারবার হাত ধুচ্ছি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমাদের সবারই এ নির্দেশন ফলো করা উচিত। আমাদের মিরপুরে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন, যে কারণে বাসা থেকে বের হচ্ছি না।

আরেকটা বিষয় হলো আমরা যারা ক্রিকেটার বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা কিন্তু পরিবারকে সময় দেয়ার সেভাবে সুযোগ পাই না। তো এখন পরিবারকে সময় দিতে পারছি, এতে আমার পরিবারের সদস্যরাও খুশি। কিন্তু করোনার খবর দেখলে খুব ভয় করে। দোয়া করি যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, দেশের সবাই ভালো থাকেন।

মেডিভয়েস: করোনার প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে। সব খেলা বন্ধ, খেলোয়াড়রা গৃহবন্দি। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

সাথিরা জাকির জেসি: অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং, এই মুহূর্তে আমাদের মাঠে থাকার কথা ছিল। আমাদের প্রিমিয়ার লিগের খেলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমার মনে হয়না এই মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটের আর কোনো খেলা হবে। সামনে বর্ষাকাল আসছে। খেলা থাকলে ফিটনেস ধরে রাখা সহজ হতো।

এখন খেলা নেই ঘরে বসে তো আর মাঠের মতো প্র্যাকটিস করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করতে হবে নিজেকে ফিট রাখতে। এখন আসলে খেলার চেয়ে জীবন নিয়েই বেশি শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেঁচে থাকলে অনেক খেলা যাবে। এখন বেশি করে আল্লাহকে ডাকা উচিত। তিনি যেন আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

মেডিভয়েস: বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের সংকট দেখা যেতে পারে। এ ব্যাপারে কিছু বলুন।

সাথিরা জাকির জেসি: আসলে সেদিন একটা রিপোর্ট দেখলাম, সামনে আমাদের জন্য দুর্ভিক্ষ অপেক্ষা করছে। আমাদের আসলে কারো পক্ষেই সম্ভব না এমন পরিস্থিতি আসলে মোকাবেলা করা। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় আয়ের জায়গা হলো গার্মেন্টস সেক্টর। এখান থেকেই বেশি আয় হয়। করোনার কারণে সব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ। এই শিল্পের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় হতো সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। লোকজন বেকার হয়ে আছেন।

তাছাড়া বিদেশে যারা আছেন তারাও ঘরেবন্দি। আমি যেমন আইপিএলের জন্য চুক্তিবদ্ধ। আইপিএলটা হলে কমেন্ট্রি দিয়ে আগের চেয়ে বেশি কিছু টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল। এখন আইপিল অনিশ্চিত। বলতে গেলে আয়ের রাস্তা বন্ধ। কিভাবে যে চলব ঠিক বুঝতে পারছি না। তারপরও চেষ্টা করছি পরিবারের মধ্যে যারা দুর্দিনে আছেন তাদের সাহায্য করতে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের পাশে দাঁড়ানো। খাদ্য দিয়ে যথাসম্ভব হেল্প করা।

মেডিভয়েস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সাথিরা জাকির জেসি: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

চিকিৎসকরা অসুস্থ হলে আমাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে: জেসি

চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার অনুরোধ জানাই: শাহরিয়ার নাফীস

চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে: আকরাম খান

চিকিৎসকরাই এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা করছেন: হাবিবুল বাশার সুমন

চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা এই দুঃসময়ে খুব ভালো কাজ করছেন: নাঈমুর রহমান দূর্জয়

চিকিৎসকরা মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অসাধারণ কাজ করছেন: ক্রিকেটার আশরাফুল

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস নিয়ে তারকা ভাবনা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স