২১ এপ্রিল, ২০২০ ০৩:৫৪ পিএম
মেডিভয়েসকে ক্রিকেটার আশরাফুল

চিকিৎসকরা মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অসাধারণ কাজ করছেন

চিকিৎসকরা মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অসাধারণ কাজ করছেন
মোহাম্মদ আশরাফুল

করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব্ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। বন্ধ হয়ে গেছে সবধরনের শিল্প-কলকারখানা, ব্যবসায়িক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে মেডিভয়েসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বিভিন্ন ভাবনার কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন। পাঠকদের জন্য চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

মেডিভয়েস:  করোনার সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘরে থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্ম দিয়েছে। আপনি একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে যদি কিছু বলেন।

মোহাম্মদ আশরাফুল: হ্যাঁ, তাই তো করতে হবে। যা বলবে তা শুনতে হবে। করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশে না, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনও যেহেতু কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি এটার ঔষধই তো এখন ঘরে থাকা। এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। এই সংক্রমণ পুরোপুরি ক্লিয়ার হতে টাইম লাগবে, সে সময় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

মেডিভয়েস: করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মধ্যে অনেকে মারা যাচ্ছেন। অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও লড়াই করে যাচ্ছেন রোগীর সেবায়। তাদের নিয়ে যদি কিছু বলেন।

মোহাম্মদ আশরাফুল: এই সমস্যার সমাধান তো অবশ্যই করতেই হবে। অবশ্যই ধন্যবাদ তো পাবেই ওনারা। কিন্তু এটা তো ওনাদের দায়িত্বও বটে। মানুষের সেবা করার জন্যই তো ছোটকাল থেকে পড়াশোনা করে বড় হয়েছেন। এটাই আসলে ন্যাচারাল। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানেন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। তারপরও তারা হাল ছাড়েননি, তারপরও সেবা করতে হচ্ছে।

আমরা যে ক্রিকেট খেলি, ওই শরীরে বল লেগে মরতেও পারি। (ক্রিকেটে বলের আঘাতে অনেক ক্রিকেটারের মৃত্যুও হয়েছে।) যার যার প্রফেশনে সবাই জানে যে, একটা না একটা কিছু হতে পারে। তারপরও কিন্তু আমরা ওইটা ভালোবাসি। ওই কারণেই সেই প্রফেশনে যাই।

চিকিৎসক ও নার্সরা জানেন যে এই জায়গায় রিস্ক আছে, রিস্ক থাকার পরও যে এই পেশায় থেকে এক একটা মানুষকে ঔষধ ও চিকিৎসা দিয়ে বাঁচাচ্ছেন। এজন্য সব ক্রেডিট ওনাদের। অবশ্যই তারা অসাধারণ কাজ করছেন।

মেডিভয়েস: যারা ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদেরকে পরিবার ও প্রতিবেশীরা হেয় প্রতিপন্ন বা ঘৃণা করছেন। এ ব্যাপারে যদি কিছু বলেন।

মোহাম্মদ আশরাফুল: এটা আসলে এমন একটা রোগ যে, কিছু বলারও নাই। মানুষ মারা গেলে জানাযাও পড়তে পারছে না। কাছেও যেতে পারছে না, এটা আসলে কিছু করার নাই। সিচুয়েশনটা এমন হয়েছে যে,  এটা মেনে নিতেই হবে। এখন দেখা যাচ্ছে কেউ একজন মারা গেছে, আতঙ্কের কারণে আপনিও সামনে যেতে পারছেন না। গেলে আপনিও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে। এই কারণে এটাকে ওইভাবে না দেখে বরং মেনে নেয়া উচিত, আর এটাই স্বাভাবিক। আক্রান্তদের ঘৃণার চোখে বা হেয় দৃষ্টিতে দেখা কখনও উচিত নয়।  

মেডিভয়েস: আপনারা যারা খেলোয়াড় আছেন এখন আপনাদের মাঠে থাকার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই বন্ধ, গৃহবন্দি হয়ে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

মোহাম্মদ আশরাফুল: এই মুহূর্তে আসলে যা বুঝা যাচ্ছে, আমাদের বাংলাদেশের খেলার সিজনও শেষ। এই মৌসুমে আর খেলা হওয়াটা খুবই কঠিন। কারণ এই পরিস্থিতি ঠিক হতে এটলিস্ট আরও দুই তিন মাস লেগে যেতে পারে। ফিটনেস নিয়ে আমি আসলে এতটা চিন্তিত না। কারণ বেঁচে থাকতে পারলে অনেক খেলা খেলা যাবে। এখন যে সিচুয়েশন বেঁচে থাকাটাই মুশকিল। একমাত্র আল্লাহই জানেন কী হবে আমাদের?  

আর বিকালে ছাদে গিয়ে খেলার চেষ্টা করছি। এত বছর ধরে খেলছি ওই অভিজ্ঞতা তো আছেই, যে কারণে ফিটনেস নিয়ে এত বেশি টেনশন করছি না।

মেডিভয়েস: আপনি একজন সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটার হিসেবে নিজে এই মুহূর্তে কি করছেন আর আপনাকে যারা ফলো করেন তাদের উদ্দেশে করোনাভাইরাস এড়াতে কী পরামর্শ দেবেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল: সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে চলুন। আর আমি মনে করি, এখন পরিবারকে সময় দেয়া উচিত।আর  সবাই আসলে ব্যস্ততার কারণে সেভাবে পরিবারকে সময় দিতেও পারে না। সেই সুযোগ হয়েও ওঠে না। আর মুসলিম সবারই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া উচিত। বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া উচিত। এখন আসলে আল্লাহকে বেশি বেশি ডাকার সময়। যার যার ধর্ম নিয়ে তারা প্রার্থনা করবেন। আর পরিবারকে সময় দেবেন, এইতো।

মেডিভয়েস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ আশরাফুল: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

[আগামীকাল পড়ুন: দেশের প্রথম নারী ধারাভাষ্যকার সাথিরা জাকির জেসির সাক্ষাৎকার ]

আরও পড়ুন

►চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে: আকরাম খান

►চিকিৎসকরাই এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা করছেন: হাবিবুল বাশার সুমন

►চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই দুঃসময়ে খুব ভালো কাজ করছেন: নাঈমুর রহমান দূর্জয়

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস নিয়ে তারকা ভাবনা
সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স