১৮ এপ্রিল, ২০২০ ০৬:২৪ পিএম

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য এফডিএসআর’র আইসিইউ ব্যবস্থা 

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য এফডিএসআর’র আইসিইউ ব্যবস্থা 

মো. মরিন উদ্দিন: করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য ডেডিকেটেড নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থা করেছে চিকিৎসকদের অন্যতম সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর)। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত এক ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়েছে। 

এফডিএসআর বলেছে, ‘আমরা এফডিএসআর’র পক্ষ থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য ডেডিকেটেড একটি আইসিইউ প্রস্তুত করেছি। আক্রান্ত কোনো চিকিৎসকের অবস্থার অবনতি হলে তাদের এয়ার এম্বুলেন্স স্থানান্তরের সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও করছি। চাহিদার তুলনায় আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকবে সহায়তা প্রদানের।’

ঘোষণায় আরও বলা হয়, ‘আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি বহুসংখ্যক চিকিৎসকগণ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মেধাবী চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। চিকিৎসকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এবং মন্ত্রণালয়ের যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় পেয়েছি তাতে করে আমরা এফডিএসআর’র পক্ষ থেকে আক্রান্ত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সংগঠনটির মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রাজধানীর শ্যামলীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি এবং বক্ষব্যাধী হাসপাতালে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রিটিক্যাল মেডিসিনের এক দল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখানে কাজ করবেন। সেবা দিতে প্রস্তুত আছেন সিনিয়র-জুনিয়র অনেক চিকিৎসক। বাণিজ্যিক কোনো বিষয় জড়িত না থাকায় এখানে আইসিইউতে খরচের পরিমাণও খুব পড়বে।’

কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন হলে এ মুহূর্তে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগেও আমাদের এ রকম পরিকল্পনা আছে। এতে বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত চিকিৎসকরা সংশ্লিষ্ট জোনে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এজন্য তাদের কষ্ট করে ঢাকায় আসতে হবে না।’

এখন ব্যাপক সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে কী অবস্থা আছে বোঝা যাচ্ছে না। এক সময় দেখা যাবে, জেনারেল হাসপাতালগুলোই সাধারণের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট না। পূর্ণ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করার পরও উন্নত দেশগুলোতে ১০ ভাগ চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছেন। সুতরাং বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও আক্রান্ত হয়ে যাবেন। তখন তাদের এ ধরনের সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়বে। এছাড়া তাদের জন্য আলাদা উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষও ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা পাবে। 

এমন উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসকদের মনোবল বাড়বে বলেও মনে করেন এফডিএসআর মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘মরহুম ডা. মইনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে এফডিএসআর’র তরফ থেকে। সঙ্গে ছিলেন মইনের স্ত্রী। ওসমানী মেডিকেল থেকে একজন চিকিৎসকও দেওয়া হয়নি। পরে তারা দায় এড়ানোর জন্য বলেছে, ডা. মইনকে স্থানান্তরের অবস্থা ছিল না। অথচ তাঁর অবস্থা ছিল শোচনীয়, যা পরে প্রমাণিত হয়েছে।’ 

এ ঘটনায় চিকিৎসকরা শঙ্কায় ছিলেন উল্লেখ করে ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ রকম বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পেলে সাহসিকতার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার জন্য চিকিৎসকদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে। চিকিৎসকরা আস্থা পাবেন যে তারা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য অন্তত একটি জায়গা আছে। ’

এফডিএসআর মহাসচিব জানান, এজন্য এফডিএসআর’র সদস্যদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম সামর্থ্যবান চিকিৎসকদেরকে এর মাধ্যমে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার করা হবে। 

আইসিইউতে একসঙ্গে ১০ জন চিকিৎসক ভেন্টিলেটর সুবিধা নিতে পারবেন। এত সংখ্যক চিকিৎসক একসঙ্গে আক্রান্ত হবেন বলে আমরা আশা করি না। 

ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন ‘আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য সেনাবাহিনী থেকেই এ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে। তারা বলেছে, এর পর কোনো চিকিৎসক আক্রান্ত হলে আমাদেরকে জানাবেন আমরা সরবরাহ করবো।’ 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
দাফন করা যাবে পারিবারিক কবরস্থানে

মৃত দেহে তিন ঘণ্টা সক্রিয় থাকে করোনাভাইরাস

দাফন করা যাবে পারিবারিক কবরস্থানে

মৃত দেহে তিন ঘণ্টা সক্রিয় থাকে করোনাভাইরাস

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত