ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,  
মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা। 
 


১৫ এপ্রিল, ২০২০ ০৩:১৮ পিএম

করোনা থেকে বাঁচতে আসুন না আগামী ১০টা দিন ঘরে থাকি

করোনা থেকে বাঁচতে আসুন না আগামী ১০টা দিন ঘরে থাকি

করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে দেশে একজন চিকিৎসকসহ কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩১ জন।   

করোনার বিস্তার রোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এসবের পাশাপাশি জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। 

তাহলো: 

যদি বলি, আর দিন দশেকের মধ্যে আমরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। তবে তা হবে রীতিমত হাস্যকর, তাই না!

অথবা যদি বলি আর দশ দিন, এরপর আর কোনো কিছুই আমাদের হাতে থাকবে না, সব চেষ্টাই বিফলে যাবে। এবার একটু আতঙ্কিত হবেন, তাই তো?

এবার বলি, উপরের দুটো কথাই সত্য হতে পারে। মানার দরকার নেই, তবে বোঝার দরকার আছে। তাই বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলছি, যা না বললেই নয়। এও বলে রাখি, সব কথাই কিন্তু আমার নিজস্ব চিন্তায় পরিপূর্ণ।

আমরা যা জানি:

প্রথমত, আমরা সবাই ইতিমধ্যে জেনে গেছি করোনাভাইরাস যা করে ১৪ দিনের মধ্যেই করে। এবং এটা হাঁচি, কাশি, স্পর্শের সাথে ছড়ায়।

দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধের জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, একজন থেকে আরেকজনের দূরত্ব বজায় রাখা, বাসার বাহিরে না যাওয়া।

তৃতীয়ত, গত ২৫ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটি, যা শোনার সাথে সাথে আমরা ছোটাছুটি করেছি। একই ঘটনা করেছি গত ৫ এপ্রিল তৈরি পোশাক কারখানা খোলার কথা বলে কর্মীদের ডেকে আবার ফেরত পাঠিয়ে।

উপরের তিনটি কথাকে মাথায় রেখে যা বোঝা যায় তা হলো, এ দেশের জনগণের মাঝে সর্বশেষ যে সর্বমিশ্রনের ঘটনা ঘটেছে তা হলো গত ৫ এপ্রিল।

এখন পর্যন্ত দেখা গেছে, গড়ে করোনা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ৭-৮ দিন।

তাহলে একটু অংক করি: ৫+(৭ থেকে ৮)= ১২ থেকে ১৩। এই ১২ -১৩ এপ্রিল লক্ষণ যুক্ত সন্দেহভাজন করোনা রোগী বা পজেটিভ রোগী বেশি হবার কথা। (এই যেমন ১২ তারিখ ১৩৯ জন পাওয়া গেল) ৫ + ১৪ = ১৯, অর্থাৎ এই পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ১৯ বা ২০- ২২ তারিখ পর্যন্ত দেখা যাবে। এদের সর্বাধিক বিগত ৫ তারিখের কন্টাক্টে আসা। তার মানে ৫ তারিখের জনস্রোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে করোনা ছড়িয়েছে তারা মূলত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত। 

তাই যে সার্জ (সংখ্যা বেড়ে যাওয়া) এখন শুরু হচ্ছে, তা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যেমন: প্রতিটি উপজেলায় বহিরাগতদের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা। তাহলে এই সার্জ নেমে যাবে ২১- ২৪ তারিখের মধ্যে। অতঃপর করোনা রোগী অল্প বিস্তর দেখা দিলেও তা দৃশ্যমান হবে না।

হয় তো বলবেন, বাহ, কি চমৎকার হিসাব! হ্যা হিসাবটি সোজা হলেও তাদের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা কিন্তু এত সোজা না। 

যদি তা না করা যায়, তাহলে ২২-২৪ এর পর যে সার্জ (সংখ্যা বেড়ে যাওয়া) হবে তা হবে সেকেন্ড লাইন কন্টামিনেশন। আর তার কারণ হবে, জনগণের অসচেতনতা, নিজের বাড়িতে এসে সবাইকে আক্রান্ত করার চেষ্টা আর কোনো কোনো স্থানে কর্তৃপক্ষ এর অবহেলার জন্য।

আর সেই সেকেন্ড লাইন সার্জ যখন শুরু হবে, তখন সীমিত জনবল নিয়ে আর সম্ভব হবে না সঠিকভাবে মোকাবেলা করার যার ফলাফল হবে ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন ও আমেরিকা বা তার থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি। 

এইতো আতঙ্কিত হয়ে গেলেন। তাই তো! আরে বাহে, এত সোজা নাকি, আমরা তো সমাধানটাও জানি। 

এ জন্য যা করতে হবে,

১. প্রতিটি উপজেলায় বহিরাগতদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত, ঢাকা ফেরত, যে কোনো এফেক্টেড জেলা থেকে বা উপজেলা থেকে আগতদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা যেতে পারে। 

২. আক্রান্ত উপজেলাগুলো থেকে কেউ যেন বের হতে না পারে, কেউ যেন আসতেও না পারে।

৩. জরুরি প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক পড়া, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ঘরে প্রবেশের পর পোশাক ধুয়ে নেওয়া।

৪. একে অন্যের সহায়ক হই। করোনা হলেই সব শেষ না, ৮০-৯০ ভাগ ক্ষেত্রে তা সহজেই ভালো হয়ে যায়।

৫. কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে অন্যের নামে গুজব না ছড়াই, আপনার গুজবে কান দিতে গিয়ে অনেক মানুষের পরিশ্রম করতে হয়। পরে কিন্তু আপনি আক্রান্ত হলেও সাহায্য পাবেন না। 

…তো অনেক বললাম, এসবই আমার ধারণা। 

ধারণা সব সময় অমূলক নয়, তাই এখনই সময়, হাতে সময় কম, কাজ একটাই এই দশটা দিন, ঘরে থাকি।
 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না