০৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:৫৭ এএম

চিকিৎসায় নোবেল জাপানি বিজ্ঞানী ইউশিনোরির

চিকিৎসায় নোবেল জাপানি বিজ্ঞানী ইউশিনোরির

চিকিৎসাশাস্ত্রে এ বছর নোবেল পেলেন জাপানের বিজ্ঞানী ইউশিনোরি ওসুমি। শরীরে কোষের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ‘নবায়নযোগ্য শক্তিব্যবস্থা’ (অটোফেজি) আবিষ্কার করে এ সম্মান অর্জন করলেন ৭১ বছর বয়সী এ কোষবিজ্ঞানী।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে নোবেল কমিটি সোমবার (৩ অক্টোবর) নোবেলজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ইউশিনোরিকে দেওয়া হবে ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (সাত লাখ ১৮ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড)। কমিটির নিজস্ব ওয়েবসাইট নোবেলপ্রাইজ ডটঅর্গ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোষের ভেতর অটোফেজি প্রক্রিয়ার খোঁজ দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউশিনোরিকে এবারের চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। অটোফেজি হলো কোষের ভেতরকার নবায়নযোগ্য একটা ব্যবস্থা। ইউশিনোরি দেখিয়েছেন, কোষেরা নিজেরাই নিজেদের বর্জিতাংশকে আটকায়। এরপর সেখান থেকে উপকারী উপাদানগুলোকে ছেঁকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই দরকারি উপাদানগুলো দিয়ে উৎপাদন করে শক্তি কিংবা গড়ে তোলে নতুন নতুন অনেক কোষ।

এই ধরনের নবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া শরীরের জন্য খুবই দরকারি, বিশেষ করে ক্যানসার কোষ রুখে দিতে, ক্ষত নিবারণ এবং বিপাক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে। ডায়াবেটিস যেন না হতে পারে, কোষকে এ রকম প্রতিরোধ ক্ষমতাও দিয়ে থাকে অটোফেজি। শরীরে যখন এই কাঠামো ভেঙে পড়ে তখন ক্যানসার, পারকিনসন ও ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

২৭ বছর আগে ইস্ট নিয়ে গবেষণার সময় ইউশিনোরি ওসুমি এই অটোফেজি ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছিলেন। দেখিয়েছিলেন, নিজেকে সুস্থ-সবল রাখতে প্রতিটি প্রাণিকোষ নিজেরই উপাদানগুলোকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে। ইউশিনোরি টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কোষীয় জীববিদ্যার অনারারি প্রফেসর।

গত বছরও চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন এক জাপানি বিজ্ঞানী সাতশি ওমুরা। চিনের নারীবিজ্ঞানী ইউইউ তু ও আয়ারল্যান্ডের উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের সঙ্গে তিনি নোবেল পান। ১৯০১ সালে প্রথম চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পান জার্মান শারীরতত্ত্ববিদ এমিল ভন বাহরিং।

প্রথা অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের নোবেলজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও