১৪ এপ্রিল, ২০২০ ০১:০২ পিএম

কিশোরগঞ্জে আরো দুই চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত

কিশোরগঞ্জে আরো দুই চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জ জেলায় আরো দুই চিকিৎসকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। উভয়েই জেলার করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। এছাড়াও ভৈরব এবং পাকুন্দিয়া উপজেলায় নতুন করে আরো দুজনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল করোনা সন্দেহে যে ৫০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে এ চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে করিমগঞ্জ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের স্বামীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। আমরা শুনেছি আক্রান্ত সেই চিকিৎসক তার স্ত্রীর সাথে করিমগঞ্জ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আমরা আশঙ্কা করছি তার থেকেই বাকি দুজন আক্রান্ত হয়েছে। তবে সেই আক্রান্ত চিকিৎসকের স্ত্রীর করোনা পজেটিভ এসেছে।

ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, নতুন আক্রান্ত দুজনের একজনের বাসা কিশোরগঞ্জে হওয়ায় তিনি এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন। আরেকজনের বাসা ঢাকায় হওয়ায় তিনি ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল বা কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন। আমরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। যেকোন সময়ে তাকে সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

পূর্বে আক্রান্ত চিকিৎসকের শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর আগে যে চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছিলেন, তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যেই পরিপূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আমাদের মধ্যে ফিরে পাবো। এছাড়া আমাদের অন্যান্য আক্রান্ত যারা রয়েছেন, তারাও আগের তুলনায় সুস্থ আছেন।   

করিমগঞ্জ হাসপাতাল সূত্র জানায়, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নারী চিকিৎসকের স্বামী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরের আগে (তিনিও চিকিৎসক, তবে এ হাসপাতালের নয়) তিনি এ হাসপাতালে বেশ কয়েকবার এসেছিলেন। পরে তাঁর করোনা ধরা পড়ায় ১১ এপ্রিল হাসপাতালের ইউএইচওসহ ১৪ চিকিৎসক সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজনের পজেটিভ ও সাতজনের নেগেটিভ এসেছে। বাকি পাঁচজনের রিপোর্ট কাল পাওয়া যাবে।

এদিকে দুই চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই দুই চিকিৎসকের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন। এদিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রোগীরাও পারতপক্ষে যাচ্ছে না হাসপাতালে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। তারা সবাই কোয়ারেন্টিনে। আক্রান্তরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল কিভাবে চলবে, নির্দেশনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনোভাইরাস
মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি