ঢাকা      রবিবার ২৫, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. রেজাউল হক বুলবুল

প্রফেসর, কার্ডিয়াক সার্জারি, বিএসএমএমইউ


স্বাস্থ্য সেবায় মধ্যস্বত্বভোগী

সরাসরি উৎপাদনে অংশগ্রহন না করে উৎপাদিত পন্য বা লভ্যাংশের ভাগ যারা আদায় করে নেয় তাদেরকে মধ্যস্বত্বভোগী বলা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যসেবায় মধ্যস্বত্বভোগীরা একটু অন্যধরনের, তারা যথেষ্ট শ্রম দেয় এবং বিনিময়ে মূল চিকিৎসকের চেয়েও ক্ষেত্রবিশেষে বেশী মুনাফা অর্জন করে থাকে।

স্বাস্থ্যসেবায় মধ্যস্বত্বভোগীরা (Arbitrator, broker, middleman) কারা সেটা কমবেশি সবায় জানেন। এটাও সর্বজন স্বীকৃত যে এর ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে তা পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেই কলুষিত করে ফেলেছে এবং এখন এর থেকে বেরিয়ে আসা আসলেই কঠিন।

এই দালাল গোষ্ঠীর আকার, আয়তন এবং কলেবর প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের ভিতর আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত ছিল হাসপাতাল,ক্লিনিক বা নার্সিং হোমের কিছু কিছু কর্মচারী, পল্লী চিকিৎসক, ঔষধের দোকানদার ইত্যাদি। এখন যোগ হয়েছে চিকিৎসক, রোগীর আত্মীয়-স্বজন এবং চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগী নিজেও।

গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে যেসব রোগী আত্মীয় স্বজনের বাসায় ওঠেন একটু আশ্রয়ের জন্য, তাদেরকে ভাল ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানোর নাম করে পূর্বনির্ধারিত ডাক্তার বাদ দিয়ে কমিশনের লোভে অন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় এসব আত্মীয় স্বজনেরা। কোন কোন সময় দেখা যায় জামাই শ্বশুরের, ভাই ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ঘুষ খাচ্ছে। একজন সেরে ওঠা রোগী অন্য রোগী এনে দালালি করে আবার কিছু টাকা পয়সা উপার্জন করছে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন খাওয়ার একটা বদনাম চিকিৎসকদের আছে। এটা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যি। কিন্তু বাস্তবতা কি?

খুব কম ডাক্তারই এসব টেস্টের হিসাব রাখেন, বেশীরভাগ ডাক্তারই এসব টাকা নেন না। ডাক্তার যে ডিস্কাউন্ট দেন- সেটা শুধুমাত্র এই টাকা থেকে কাটা যায়, ডাক্তার টাকা না নিলেও এতে রোগীর বিন্দুমাত্র উপকার হয়না। কারণ রোগীর কাছ থেকে একই টাকা নেওয়া হয় এবং কমিশনের টাকা ম্যানেজার অথবা কর্মচারীরা ভাগ করে নেন।

ডাক্তারদের নাম মাত্র কমিশন দিয়ে বেশীরভাগ টাকা ম্যানেজার মেরে দেন। এবং কিছুদিন পর চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজেই একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন। ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে এসবের। কোন রকম পার্থক্য না রেখে পরীক্ষার ফি নির্দিষ্ট করে দিয়ে ঠিকমত মনিটর করা গেলে ডাক্তারের মর্যাদা এবং রোগীর পকেট দুটোই বাঁচত।

বিভিন্ন এন জি ও, রাজনৈতিক কিম্বা প্রভাবশালী ব্যক্তি হেলথ ক্যাম্প, ফ্রী চিকিৎসার নামে তাদের প্রভাব বলয় বৃদ্ধির জন্য ডাক্তারদের ব্যবহার করে থাকেন। তারা হন নমস্য ব্যক্তি। অথচ নানা কারণে ডাক্তার হন ঘৃণিত। মিডিয়ার প্রচার বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। নিজের প্রভাব, ক্ষমতা ব্যবহার করে, ব্লাক মেইল করে অনেক সুবিধাই তারা (রাজনৈতিক কিম্বা প্রভাবশালী ব্যক্তি) নেন। নিজেরা মহান হন। কিন্তু চিকিৎসা পেশার লোকজনকে অপদস্থ করেন- অনেক ক্ষেত্রেই এটা সত্যি। 

মধ্যস্বত্বভোগ পুঁজিবাদী সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাজার চিকিৎসা সেবা এবং পেশাকে নিয়ন্ত্রন করে। বাজার যাজক, মোল্লা-পুরুত সবাইকে নিয়ন্ত্রন করে, তাদেরও পেট চালাতে হয়, সংসার দেখতে হয়, থানা-পুলিশ, কোর্ট কাছারিতে, অফিস-আদালতে ঘুষ, উৎকোচ, উপঢৌকন দিয়ে কাজ আদায় করতে হয়। 

সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে অংশগ্রহন না করে অলস দিবাস্বপ্ন দেখলে ফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবস্থাপনায় মশারীর বিকল্প প্রস্তাব

ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবস্থাপনায় মশারীর বিকল্প প্রস্তাব

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব সরকারি হাসপাতাল এবং কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতাল…

বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়া ও কিছু প্রস্তাবনা

বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়া ও কিছু প্রস্তাবনা

কিছুদিন পরেই সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের সাথে সাথে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর