১৩ এপ্রিল, ২০২০ ০৩:১৫ পিএম

ইউএসটিসির ৩৪ স্বাস্থ্যকর্মী চাকরিচ্যুত 

ইউএসটিসির ৩৪ স্বাস্থ্যকর্মী চাকরিচ্যুত 
বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) অধীনে পরিচালিত বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ৩৪ স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন নার্স এবং ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪ জন আয়া রয়েছেন। 

গত ৮ এপ্রিল এক নোটিসের মাধ্যমে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়।চাকরিচ্যুতির এ নোটিসে চরম হতাশায় পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। 

যা বললো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ 

জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের এখানে মোট ৭৮ জন নার্স কর্মরত আছেন। তারা অনেকেই মেট্রিক পাস করেনি। তারা ওয়ার্ডে কাজ করতো। তাদের নিয়োগ নিয়ে আগ থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ছিল। যোগ্যতার ঘাটতি থাকায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ২০ জনকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে তাদের বিদায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাজটি চূড়ান্ত হতে হতে এপ্রিল পর্যন্ত গড়ালো। তাদের বিপরীতে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ২২ জন নার্স ও ১৫ জন নতুন ক্লিনার নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘চাকরিচ্যুতদের বেতন-বোনাসসহ যাবতীয় পাওনা দিয়ে আমরা তাদের বিদায় দিচ্ছি। তাদেরকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না। তাদের অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সাথে আমরা কথা বলেছি, জানতে চেয়েছি তারা কোনো শর্তে যেতে চায়। সব শর্ত মেনেই তাদের বিদায় দিচ্ছি। তারা যাবতীয় পাওনা নিয়েই যাবেন। আর একমাস সময় আমরা হাতে রেখেছি। এই এক মাসের বেতনও তারা পাচ্ছেন। তারা একেকজন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে পাবেন। তারপরও দেশের অবস্থা খারাপ থাকলে তাদের কনটিনিউ করা হবে।’

তিনি বলেন, তাদের ইউনিয়ন থেকে অপপ্রচার করা হচ্ছে, তারা কিন্তু নার্স না। 

এ সংকটে কেন তাদের বিদায়ায়োজন চূড়ান্ত হয়েছে জানতে চাইলে মেডিভয়েসকে তিনি বলেন, ‘এটা আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত না। বোর্ড অব ডিরেক্টরের সিদ্ধান্ত।’

চাকরিচ্যুত নার্সদের বক্তব্য 

চাকরিচ্যুত নার্স হামিদা আক্তার বলেন, ‘আমরা ডিপ্লোমাধারী না হলেও আমাদের দিয়েই ইউএসটিসির সৃষ্টি। সরকারতো ডিপ্লোমা ছাড়া নার্স নিয়োগ দিতে নিষেধ করেছে। আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করতে বলেনি।’

ইউএসটিসিতে ১৯ বছর ধরে চাকরি করার কথা জানিয়ে রেহানা আক্তার নামে আরেক নার্স বলে, ‘আমি বাইরে ডিপ্লোমা করেছি। নার্সিং কাউন্সিলের নম্বর ছিল না। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা করেছি তাদের নম্বর ছিল। সেটা ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।’

ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের বক্তব্য 

ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মানের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ নার্স, আয়া, স্টাফদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিদায় করার নোটিস দিয়েছে। মালিকপক্ষের এসব অনিয়মের কারণে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত দুইজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। 

চাকরিচ্যুতির নোটিসে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে কাউকে চাকরিচ্যুত করা যায় না। এর প্রতিবাদে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর পুলিশের কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও খুলশী থানাসহ, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে এই মুহূর্তে আন্দোলনে যেতে না পারলেও পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হবো।’ 

সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইফতেখার ইসলাম ইউএসটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী ডা. সাবা কাশ্মীরের নাগরিক। ৬ মাস আগে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস পাস করে তিনিও হাসপাতালে ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত