০৪ এপ্রিল, ২০২০ ০২:৪১ পিএম
করোনাভাইরাস

নার্সরা আক্রান্ত হলে সকল স্বাস্থ্যকর্মীই অরক্ষিত হবেন: ঢামেক ভাইরোলজি প্রধান

নার্সরা আক্রান্ত হলে সকল স্বাস্থ্যকর্মীই অরক্ষিত হবেন: ঢামেক ভাইরোলজি প্রধান

তানভীর সিদ্দিকী: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু বলেছেন, মহামারি আকারে রূপ নেয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসকদের পাশে থেকে আক্রান্তদের অবিরাম সেবা দিচ্ছেন নার্সরা। তবে সেবাদানের সময়ে তাদেরকে অবশ্যই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নার্সরা আক্রান্ত হলে তাদের মাধ্যমে সকল স্বাস্থ্যকর্মীই কর্মক্ষেত্রে অরক্ষিত হয়ে পড়বেন, যা বিদ্যমান সংকটকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মেডিভয়েসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢামেক ভাইরোলজি প্রধান বলেন, রোগীদেরকে সেবাদানের সময় নার্দেরকে অবশ্যই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করতে হবে। আর এটা অবশ্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। নার্সরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের সুরক্ষার ব্যাপারে অবশ্যই আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।

ডা. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ডাক্তাররা যেমন রোগীদের কাছে গিয়ে সেবা দিচ্ছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন, তেমনি নার্দেরকেও রোগীদের কাছে যেতে হচ্ছে, পাশাপাশি থাকতে হচ্ছে এবং ডাক্তারদের লেখা ওষুধগুলো এনে খাইয়ে দিতে হচ্ছে। ডাক্তারের মতো হয়তো তাকে রোগীর গায়ে হাত দিতে হচ্ছে না, কিন্তু সেবা করতে হচ্ছে। এছাড়া একজন ডাক্তারকে যেমন এক রোগী থেকে আরেক রোগীর কাছে যেতে হচ্ছে, তেমনি নার্সদেরকেও ওয়ার্ডের সকল রোগীদের কাছে যেতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের মতোই নার্সদেরও সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে তাদের গ্লাবসটা বারবার বদলানো উচিত। সে কারণে তাদের জন্য প্রচুর পরিমানে পিপিই, প্রচুর পরিমানে গ্লাবস, মাস্ক এগুলো সরবরাহ করা উচিত।

ঢামেক নার্সরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম পাচ্ছে কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমার কিছু বলার সুযোগ নেই। কারণ, আমি ডায়াগনস্টিক দিকটা দেখি। এ ব্যাপারে হাসপাতাল প্রশাসন ভালো বলতে পারবে। তবে, আমি যতটুকু জানি, আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে নার্সদেরকে পিপিইসহ পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। কিন্তু এই পিপিইগুলো সত্যিই প্রটেক্ট করছে কিনা এই ব্যাপার লক্ষ রাখা উচিত। আমি মনে করি এই পিপিইগুলো ওয়ানটাইম হওয়া উচিত। কিন্তু এগুলো যদি পুনঃরায় ব্যবহারযোগ্য হয় এবং একই পিপিই পড়ে যদি তারা এ ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে যায়, এটা কিন্তু গ্রহনযোগ্য নয়।

তিনি আরো বলেন, নার্সদেরকে সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়ার পাশাপাশি এগুলোর ব্যবহার নিয়ে তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে ট্রেনিং দরকার। কিভাবে এগুলো পড়তে হবে, কিভাবে এগুলো খুলতে হবে, আবার খোলার পর এগুলো কোথায় ডিস্পোজ করতে হবে -এগুলো নিয়ে তাদের খুব বেশি ধারনা থাকার কথা না। তাই তাদেরকে ট্রেংনিয়ের আওয়াত ‍নিয়ে আসা জরুরি। এই বিষয়গুলো তারা না জানে তাহলে কিন্তু এই ভাইরাস হাসপাতালেও ছড়াবে।

এ প্রসঙ্গে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক সোনালী রানী দাস মেডিভয়েসকে বলেন, সারাদেশের নার্সরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এ অবস্থায় নার্সদের সুরক্ষা খুবই জরুরি। নার্সরা যদি কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে তো তারা সেবা দিতে পারবে না। আর সেবা দিলেও তারা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে এটা সকলের মধ্যেই ছড়িয়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত সবাইকেই পিপিইসহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া।

পিপিই’র ব্যবহার নিয়ে নার্সদের কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা যারা আগে থেকেই কাজ করি, আমরা তো এর ব্যবহারবিধি জানি। তবে, নতুন যারা আসছে তাদের জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে এর ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যারা জানি, আমরাও তাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছি। সুতরাং এ নিয়ে কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়গুলো খুবই সচেতনতার সাথে দেখছি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ই মার্চ। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। সবশেষ হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৯ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি