৩১ মার্চ, ২০২০ ০৭:৩০ পিএম

করোনা পরীক্ষায় প্রস্তুত মমেক ‘পিসিআর’ ল্যাব

করোনা পরীক্ষায় প্রস্তুত মমেক ‘পিসিআর’ ল্যাব

তানভীর সিদ্দিকী: করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ইতোমধ্যে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ‘পিসিআর’ ল্যাবসহ বসানো হয়েছে নতুন যন্ত্রপাতি। তবে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ অঞ্চলে আক্রান্ত সন্দেহে কোন রোগী না আসায় এর কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মেডিভয়েসকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ।

তিনি জানান, পিসিআর টেস্ট কার্যক্রমের জন্য আমাদের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে কোন রোগী না আসায় এর কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। তবে যে কোন সময়েই আমরা কাজ শুরু করে দিতে পারবো। প্রাথমিকভাবে যাদের করোনাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাবে তাদের পরীক্ষা করা হবে।

মমেক অধ্যক্ষ বলেন, আমাদের হাসপাতালে আগে থেকেই পিসিআর মেশিন ছিলো, ফলে এটা নিয়ে আরো আগেই আমরা কাজ করেছি। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য আনুসঙ্গিক আরো কিছু যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। কালই যদি আমাদের কাছে কোন সন্দেহভাজন রোগী আসে, তাহলে কাল থেকেই এর কার্যক্রম চালু হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রতিবার মেশিন চালু করা হলে ৯৬টি টেস্ট করা যাবে। এক্ষেত্রে যদি বেশি পরিমান রোগী আসে তাহলে দিনে ২০০ জনের কাছাকাছি পরীক্ষা করা যাবে।

কীট সংকট আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজি অফিস থেকে আমাদেরকে ২৪০টা কীট দেয়া হয়েছে। যদি আরো প্রয়োজন হয়, তাহলে চাইলেই দিয়ে দিবে। সুতরাং বলা যায় যে, কীটের কোন সংকট নাই। সরকার এ ব্যাপারে খুবই সচেতন থাকায় আমাদের জন্য পিপিই, গ্লবস, মাস্কসহ সবধরনের মেডিকেল সরঞ্জাম পর্যাপ্ত আছে।

স্যাম্পল কালেকশনের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহের এসকে হাসপাতালে পাঁচ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ রোগীদের জন্য আউটডোর করা হয়েছে। কোন রোগী আসলেই তার অবস্থা বুঝে আমরা তাদের সেম্পল কালেকশন করবো। সেম্পল কালেকশনের জন্য আমরা ৪জন টেকনিশায়ানকে দুইটি শিফটে ভাগ করে দিয়েছি, সকালে দুইজন কাজ করবে আর বিকালে দুইজন কাজ করবে। তারা সেম্পল কালেকশন করে নিয়ে আসলে আমরা সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করবো। এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সসহ সবার ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের জন্য একটা যুদ্ধ। আমাদের সকল ডাক্তাররাই আন্তরিকতার সাথে এ সময়ে কাজ করছে। ডাক্তারি পেশা হলো একটা ঝুঁকির পেশা, ঝুঁকি নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। তবে আমাদের দায়িত্ব হলো সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা চেষ্টা করছি সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিই, গ্লবস, মাস্কসহ সবধরনের মেডিকেল সরঞ্জাম দেয়ার।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সালমা আহমদ বলেন, সন্দেহজনক রোগীদের জন্য স্থানীয় এসকে হাসপাতালে স্থাপন করা আইসোলেশন ইউনিট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এই ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। আশা করছি আমরা দুই ঘণ্টর মধ্যেই পরীক্ষার ফল দিতে পারব। আজ থেকেই ল্যাবটি পুরোদমে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. লক্ষী নারায়ণ মজুমদার বলেন, বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগে ২ হাজার ১শ ২১জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও আইসোলেশনে কেউ নেই। কেউ আক্রান্ত হলে এসকে হাসাপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশে ৫ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে আমরা ৩০টি বেড প্রস্তুত করেছি। যদি প্রয়োজন পড়ে আরো ৩০ টির ব্যবস্থা আছে।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি