৩০ মার্চ, ২০২০ ১০:১০ পিএম

এলাকাবাসীর অসম্মতি, থমকে আছে বিডিএফের ‘করোনা কেয়ার সেন্টারের’ কাজ  

এলাকাবাসীর অসম্মতি, থমকে আছে বিডিএফের ‘করোনা কেয়ার সেন্টারের’ কাজ  

মো. মনির উদ্দিন: আক্রান্ত চিকিৎসকদের ‘করোনা কেয়ার সেন্টার’ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডক্টর ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)। একাধিক হাসপাতাল সুযোগ করে দিলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে কাজটি থমকে আছে। তবে নিরিবিলি পরিবেশে চিকিৎসকদের জন্য এ সেন্টার খোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। 

জানতে চাইলে বিডিএফের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. নিরুপম দাশ মেডিভয়েস বলেন, ‘শ্যামলীতে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু করে দেবো। আজকে জায়গাটা পাওয়া গেলে কাল থেকেই কাজ শুরু করবো। শুরু করার সাত দিনের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে যাবে। আবাসিক এলাকা হওয়ায় প্রভাবশালী লোকজন সম্মত হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, শ্যামলী ও মালিকবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছে।  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত চিকিৎসকদের চিকিৎসায় করোনা কেয়ার সেন্টারের জন্য জায়গা দিতে সম্মত হলেও এলাকাবাসী ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে কাজটি থমকে আছে। 

তিনি বলেন, ‘এখনো খোঁজা হচ্ছে। জনবহুল এলাকা ছাড়া নিরিবিলি কোনো জায়গা পাওয়া গেলে সেটি ভাড়া নিয়ে চিকিৎসকদের জন্য সেন্টার খোলা হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিডিএফের মডারেটর ডা. পলাশ গোলদার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শ্যামলীতে করোনা রোগীর জন্য হাসপাতাল করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী থেকে শুরু করে ভবনের সকল মুক্তিযোদ্ধা তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সম্মত হচ্ছেন না। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। যদি আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে সেন্টারটি করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘জনবসতি কম—এমন এলাকায় কোনো হাসপাতালের সন্ধান করছি। ঢাকা তো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। আইসোলেটেড ভবন ছাড়া করোনার মতো হাইলি কনটেজিয়াস রোগীর জন্য কেয়ার সেন্টার করা নিরাপদ না। অনেক জায়গায় একজন রোগী থাকলেও পুরো ভবন লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ ভবনে কয়েক হাজার মানুষের অবস্থান, সেখানে এ রকম করোনা সেবা কার্যক্রম চালু করা অন্যদের জন্য নিরাপদ না। আমরা এমন একটা জায়গা খুঁজছি যেখানে শুধু করোনা আক্রান্ত চিকিৎসা দেওয়া যায়।’

তবে জায়গা না পেলেও বিডিএফ করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যাদের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজন ছাড়া আর কোনো ডাক্তারের পজিটিভ আসেনি। বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের চিকিৎসায় করোনা কেয়ার সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেয় চিকিৎসকদের অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)। এর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সংগঠনটি বহন করবে বলে গত ২০ মার্চ মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেন সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা ডা. নিরুপম দাশ।

রাজধানীর শ্যামলী কলেজ গেইটের পাশে একটি জায়গা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ৪ বেডের আইসিইউ থাকবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয় নভেল করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত সারাপৃথিবীতে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৫ হাজার ১১৪ জন। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪৯ জন আক্রান্তের পাশাপাশি ৫ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত