ডা. নাজিরুম মুবিন

ডা. নাজিরুম মুবিন

মেডিকেল অফিসার, মিনিস্ট্রি অব হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার


২৩ মার্চ, ২০২০ ১০:৩৮ এএম

করোনাভাইরাস: যে কারণে ঘরে থাকা ও আতঙ্কিত হওয়া জরুরি? 

করোনাভাইরাস: যে কারণে ঘরে থাকা ও আতঙ্কিত হওয়া জরুরি? 

চীনের উহান প্রদেশ থেকে নভেল করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে। এতে আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সর্বশেষ বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী করোনায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত বিস্তার রোধ ঠেকাতে আক্রান্তদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশে লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, যেসব দেশে লকডাউন করা হয়েছে, সেখানে নতুন আক্রান্তের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আছে। নতুন করে সংক্রমণ কম হয়েছে।

তাই আসুন সহজে বুঝে নেই কেন ঘরে থাকবো এবং আতঙ্কিত হবো।

কেরানিল্যান্ড একটি কাল্পনিক দেশ। দেশটির জনসংখ্যা ২০ কোটি। দেশটির লোকজন খুব হাসি খুশি এবং সামাজিক। সেখানকার একেকজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে কোনো না কোনোভাবে তিনজন নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা করে। হ্যান্ডশেক করে। কোলাকুলি করে৷ এসব না করলে তাদের টয়লেট ক্লিয়ার হয় না।

কেরানিল্যান্ডে হঠাৎ একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন৷ খাসলত অনুযায়ী তিনি নতুন তিনজন সুস্থ মানুষের সাথে দেখা করলেন, হ্যান্ডশেক করলেন, কোলাকুলি করলেন। নতুন তিনজনসহ মোট চারজন আক্রান্ত ব্যক্তি প্রত্যেকে আরো নতুন তিনজনের সংস্পর্শে আসলেন। এভাবেই চলতে থাকলো কেরানিল্যান্ডের দিন রাত।

আসুন অঙ্ক কষে দেখি এভাবে চলতে থাকলে পুরো দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রত্যেকে আক্রান্ত হতে কয়দিন সময় লাগবে!

দিন-১: ১ জন
দিন-২: ৩ জন
দিন-৩: ১২ জন
দিন-৪: ৪৮ জন
দিন-৫: ১৯২ জন
দিন-৬: ৭৬৮ জন
দিন-৭: ৩,০৭২ জন
দিন-৮: ১২,২৮৮ জন
দিন-৯: ৪৯,১৫২ জন
দিন-১০: ১৯৬,৬০৮ জন
দিন-১১: ৭৮৬,৪৩২ জন
দিন-১২: ৩,১৪৫,৭২৮ জন
দিন-১৩: ১২,৫৮২,৯১২ জন
দিন-১৪: ৫০,৩৩১,৬৪৮ জন
দিন-১৫: ২০১,৩২৬,৫৯২ জন [প্রায় ২০ কোটি]

অর্থাৎ, মাত্র ১৫ দিনে পুরো দেশের প্রত্যেকটি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাবে।

এবার দেখুন উল্টো চিত্রটি

এখন সেদেশের মানুষ যদি প্রতিদিন তিনজন নতুন মানুষের পরিবর্তে দুইজন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে তাহলে ১৫ দিন শেষে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩,১৮৮,৬৪৬ জন [প্রায় ৩১ লাখ]। 

তারা যদি ঘরের বাইরে চলাফেরা আরো কমিয়ে ১০ দিনে নতুন ৫ জনকে সংক্রমিত করে তাহলে ১৫ দিন শেষে আক্রান্তের সংখ্যা হবে ২২৩,৫১৭ জন [প্রায় ২ লক্ষ]

যদি তারা ঘরের মধ্যে নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় বন্দি রেখে ১০ দিনে মাত্র ১ জন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসেন তাহলে ১৫ দিন শেষে আক্রান্তের সংখ্যা হবে ১৬,৯৯২ জন [প্রায় ১৭ হাজার]

কেরানিল্যান্ডের মানুষজন তাদের খাসলত বদলিয়ে ঘরে বসে ছিলো কি না তা জানা যায়নি। তবে বাংলাদেশের মানুষরা করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চাইলে ঘরে বসে থাকার কোনো বিকল্প নেই। নইলে ১৫ দিনই আমাদের দেশের সবাইকে সংক্রমিত করার জন্য যথেষ্ট।

করোনাভাইরাস খুবই ইগোসর্বস্ব ভাইরাস৷ সে নিজে নিজে আপনার ঘরে আসবে না, যতক্ষণ না আপনি দাওয়াত দিয়ে বাইরে থেকে তাকে ঘরে আনবেন।

তাই আতঙ্কিত হোন।
ঘরে থাকুন।
সুস্থ থাকুন।
সুস্থ রাখুন।

 

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত