ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

চিকিৎসক, প্রাবন্ধিক


২০ মার্চ, ২০২০ ০৩:৫৪ পিএম

করোনাভাইরাস: লকডাউনেই মিলবে সমাধান?

করোনাভাইরাস: লকডাউনেই মিলবে সমাধান?

করোনাভাইরাসে প্রিয় মাতৃভূমি আক্রান্ত হয়েছে৷ সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে ১ জন৷ যদিও এই হিসাব নিয়ে জনমনে বিস্তর সন্দেহ রয়েছে৷ এমতাবস্থায় অনেকেই বলছেন দ্রুত দেশ লকডাউন করা হোক৷ সরকারের দু-এক জন মন্ত্রীও প্রয়োজনে শাটডাউনের ইঙ্গিত দিয়েছেন৷

লকডাউন বা শাটডাউন কি আসলেই সমাধান দিবে? যেখানে এখনও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী দেশে আসছে৷ তাদের পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না৷ তাদেরকে কোয়ারেন্টাইন করার মতো পর্যাপ্ত সুবিধা নেই৷ হোম কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও অধিকাংশই তা মানছেন না৷ এর ফলে নিজের অজান্তেই পরিবার ও অন্যদের মাঝে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে৷

দেশে কোয়ারেন্টাইনের মতো জায়গা প্রস্তুত করা নেই৷ ভাইরাস শনাক্তের পর্যাপ্ত কিটও নেই৷ হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি নেই৷ ডাক্তার নার্সদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) নেই৷ তারপরও প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে! জানুয়ারি থেকে এই প্রস্তুতি শুরু হয়? 

এখন শোনা যাচ্ছে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান প্রস্তুত করার নির্দেশের কথা৷ কেন আজকে মাঠ প্রস্তুত করতে হবে? পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট নেই কেন? ডাক্তার নার্সদের পিপিই নেই কেন? এতদিন সময় পাবার পরও এসব প্রস্তুত না হওয়ার কি কারণ থাকতে পারে?

লকডাউন কি সমাধান?

এবার আসি লকডাউন প্রসঙ্গে৷ আমরা যারা লকাডাউন শাটডাউন বলে যিগির তুলছি, তারা কি জানি লকডাউন কি জিনিস? একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন তো৷ সারাদেশে হাহাকার পড়ে যাবে৷ দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে৷

চাল, ডাল, তেল ও আটাসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁবে৷ ইতোমধ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে৷ যাদের পকেটে টাকা আছে তারা না হয় কিছু দিন চালিয়ে নিতে পারবে৷ কিন্তু দেশের কয়েক কোটি মানুষ যারা দিন আনে দিন খায় তারা কোথায় যাবে? কি করবে? কি খাবে? সরকার কি তাদেরকে ইজতেমা ময়দানের মতো কোথাও জড়ো করে তিনবেলা ভাত দিবে?

বিদেশফেরত আক্রান্তদের থামান 

যারা ইতোমধ্যে দেহে ভাইরাসটি নিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন, তারা কিন্তু থেমে নেই৷ কেউ ভ্রমণে, কেউ বাইকের পিছনে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরছেন, কেউ বিয়ের পিড়িতে বসছেন, কেউবা শশুড়বাড়ির আতিথেয়তা নিচ্ছেন৷ কি ভয়ঙ্কর! কেনো তাদেরকে আটকানো যাচ্ছে না?

তবে বিদেশফেরত অনেক মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাদারীপুরের শিবচরে লকডাউনের ঘোষণা প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি নিশ্চিতে সমন্বয় থাকলে এমন চরমপথে হাঁটতে হতো না।  

অবিলম্বে নিশ্চিত হোক সকল প্রস্তুতি

স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই সরবরাহ করাসহ করোনা মোকাবেলায় যত রকমের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তা দ্রুতই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সারাদেশে বারুদ ভরে পরে ছিপি আটকানোর চেষ্টা অর্থহীন। করোনা বিস্ফোরণে হাজার হাজার লাশ পরা শুরু হলে জানাযার নামাযে বা দাফনে কোনো মানুষ থাকবে না৷

কাজেই এখন আর সময় নষ্ট করার মতো সুযোগ নেই৷পণ্যবাহী বিমান ব্যতীত সব ফ্লাইট বন্ধ করুন৷ করোনা পরীক্ষার কিট, পিপিই, স্যানিটাইজার, সাবান, জীবানুনাশক উৎপাদন করুন, আমদানি করুন৷ দ্রুততার সাথে এসব জিনিস হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করে চিকিৎসার পরিবেশ তৈরি করুন৷ যারা কোয়ারেন্টাইন মানছে না তাদেরকে নির্দিষ্টস্থানে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করুন৷ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন৷

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত