১৭ মার্চ, ২০২০ ১০:১২ পিএম
করোনা ভাইরাসের বিস্তার

হাসপাতালগুলোতে বড় পরিসরের মর্নিং সেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত, নোটিশ কাল

হাসপাতালগুলোতে বড় পরিসরের মর্নিং সেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত, নোটিশ কাল

তানভীর সিদ্দিকী: করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নেই কোনো ছুটি। ফলে, হাসপাতালে নিয়োগকৃত সরকারি চিকিৎসকের পাশাপাশি অক্লান্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কোর্সে অধ্যয়নরত রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে সরকারের ছুটির মধ্যেও পোস্টগ্রাজুয়েট রেসিডেন্টদের ক্লাস এবং প্রতিদিনকার মর্নিং সেশন চলে আসছিলো। তবে কয়েকটি হাসপাতালে বড় পরিসরের মর্নিং সেশন বন্ধের ব্যপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কাল মিটিংয়ের পর নোটিশের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ও ন্যাশনাল ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউটের (নিটোর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল গনি মোল্লাহ।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, বড় পরিসরের মর্নিং সেশনগুলো বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছি। বিশেষ করে যেসব বিভাগে শতাধিক লোকজন থাকে সেগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে বলে দিয়েছি। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের একসাথে যে যৌথ সভা, সেটাও বন্ধ করে দিতে বলেছি। সেখনে ১০০/১৫০ ডাক্তার থাকে তো, সেখানে একটা গ্যাদারিং হয়। কিন্তু অনেক ডিপার্টমেন্টে আছে ৪০/৫০ জন, সেটাও বন্ধ করবো কিনা কাল মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা তো হুট করে বন্ধ করে দিতে পারি না। কারণ, এখানে রোগীদের দেখাশোনারও একটা ব্যাপার আছে। এসব সেশনে রোগীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভালো খারাপ অবস্থার পর্যবেক্ষণ হয়, এগুলো নিয়ে ডিসকাশন হওয়ার কারণে পেশেন্টের ইন্টারেস্টের ব্যাপারও আছে এখানে। কাল ডিনদেরকে নিয়ে একটা মিটিং ডেকেছি, সেখানে এটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত করবো।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, রেসিডেন্টদের ক্লাস হোক বা ক্লিনিক্যাল মিটিং হোক, যেগুলোতে গ্যাদারিং হবে, সেগুলোই কাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। আর ৫০ জনের নিচে যে বিভাগগুলোতে গুলো আছে, সেগুলোর ব্যপারে ফাইনালি কাল মিটিংয়ের পর নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
  
এদিকে, এ প্রসঙ্গে নিটোর পরিচালক বলেন, যেহেতু সকল মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, আমরাও কাল থেকে বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সকালের মনিং সেশনও কাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। যেহেতু এখানে একটা গ্যাদারিং হয়, সুতরাং আমরা এটা নিয়ে কোন রিস্ক নিতে চাই না। তাই কালই মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর করে নোটিশ দিয়ে দিব। 

চিকিৎসকরা বলছেন, দেশের বড় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন সকালেই মর্নিং সেশন হয়। সেশনে হাসপাতালের সব চিকিৎসকদের থাকতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে ভালো একটা গ্যাদারিং হয়। করোনা সংক্রমন এড়াতে যেহেতু মাস গ্যাদারিংকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, সেইসঙ্গে মেডিকেল কলেজগুলোতে ক্লাস বন্ধ রাখা হচ্ছে, সেহেতু মর্ণিং সেশনগুলোও আপাতত পোস্টপোনড রাখা উচিৎ।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সকল চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম যথা নিয়মে অব্যাহত থাকবে। উল্লেখিত সময়ে চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সম্মতি রয়েছে। 

দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ম্যাটস, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যক্ষের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ ও সতর্কতার অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ মার্চ) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলো ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয় কর্তৃপক্ষ। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হাই পিএএ স্বাক্ষরিত এক নোটিসে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি