১৬ মার্চ, ২০২০ ০৫:৩২ পিএম

করোনা চিকিৎসা: ঝুঁকিমুক্ত থাকতে তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

করোনা চিকিৎসা: ঝুঁকিমুক্ত থাকতে তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

বিল্লাল হোসেন রাজু: মরণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সারিয়ে তুলতে গুরু দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। আক্রান্ত রোগীদের সারিয়ে তুলতে এখন পর্যন্ত ৬ চীনা চিকিৎসক সহ ৭জন জীবন দিয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক সহ সেবাকর্মী । কিন্তু তারপরেও রোগীদের মাসের পর মাস চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৭ হাজার ২৫৭ জন রোগী। 

করোনা সংঙ্কটে সবাই যখন ঘরে থাকার জন্য ব্যস্ত, তখন চিকিৎসক ‍ও নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের পাশে থেকে সেবা দিচ্ছেন। ফলে করোনা আক্রান্তের  বেশি ঝুঁকিতে চিকিৎসক ও নার্সরা, তারা যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে সেবা দিবো কে? তাই চিকিৎসকদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। চিকিৎসক সহ সংশ্লিষ্ট সবার সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে মেডেভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু এসব কথা বলেন।  

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হবে, তবেই ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে । সার্জারি ওয়ার্ডে ঠিক যেভাবে হাত ধুতাম, ঠিক সেভাবেই ধুবো। এসব বিষয়ে ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ জরুরি, বিশেষ করে তরুণ ডাক্তারদের। 

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব চিকিৎসকদের। অথচ তাঁদেরই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে এ মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক বেনজামিন কাউলিং। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ৬ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭১৩ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। এমন কি করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করা সর্বপ্রথম চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং চীনের উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে কাজ করার সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, চীনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্সরাও দ্রুত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।  চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ছয় চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭১৬ জন চিকিৎসক-নার্স। চীনে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশই চিকিৎসক। আর মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। 

চিকিৎসকরা নিজেদের সুরক্ষিত রেখে কিভাবে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিবেন এ ব্যাপারে ঢামেক ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বানু আরো বলেন, প্রথম চিকিৎসকরা পিপি বা পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট পরবে, না হয় গ্রাউন্ড পরবে, সার্জিকেল মাস্ক বা সাধারণ মাস্ক পরবে, গ্লাভস পরবে, মাথায় ক্যাপ দিয়ে ঢেকে নিবে। প্রতিবার রোগী দেখার পর খুব ভালোভাবে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে এবং অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকরা রোগী দেখে মাস্ক পরিবর্তন না করলেও হাতের গ্লাভস পরিবর্তন করে নতুন গ্লাভস পরতে হবে। আর যদি কেউ হাঁচিকাশি দিয়ে ফেলে, যদি মনে হয় আপনার শরীরে কফ বা থুথু এসেছে, তখন অবশ্যই সব কিছু পরিবর্তন করতে হবে। 

যখন চিকিৎসকারা গ্রাউন্ড খুলবে, তখন জামার বাইরের দিক ভিতরে আর ভিতরের দিক বাইর করে গুটিয়ে রাখতে হবে। পোশাকটা ঝাড়া যাবে না, না হয় জীবণু বাতাসের সাথে মিশে ছড়িয়ে যাবে। তাই সেবা চিকিৎসক ও নার্সদের খুব সচেতন থাকতে হবে। 

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের একটি সামুদ্রিক বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়েছে। এরপরই এটি দ্রুত মহামারী আকার ধারণ করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৭৫ জনে।

শুধু ইতালিতেই গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩৬৮ জন, যা এ পর্যন্ত একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড। চীনসহ বিশ্বে ১৫৬ দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৮ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৭ হাজার ২৫৭ জন।

এ নিয়ে অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানুর একটি ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন:

 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি