১৪ মার্চ, ২০২০ ০৮:৩৯ পিএম

যে কোনো মুহূর্তে ঢামেক বন্ধ ঘোষণা: অধ্যক্ষ  

যে কোনো মুহূর্তে ঢামেক বন্ধ ঘোষণা: অধ্যক্ষ  
ঢাকা মেডিকেল কলেজ। ফাইল ছবি

মো. মনির উদ্দিন: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ইঙ্গিত পেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় মেডিভয়েসকে এ কথা  জানান তিনি। 

অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ইঙ্গিত পেলে মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করে দেবো। জাতির প্রয়োজনে, সবার সুস্বাস্থ্যের জন্য এবং ছাত্রদের নিরাপত্তার জন্য যা সবচেয়ে ভালো হয়, তাই করবো।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত কলেজ বন্ধ করছি না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেখবো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পলিসি দেখবো।’ 

ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘আজকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ঢাবি ভিসি এবং আমি বৈঠক করেছি। মাননীয় মন্ত্রী আমাদের স্বাস্থ্যের অভিভাবক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ৫৬ মেডিকেল কলেজের অভিভাবক। ডিন হিসেবে আমি এসব দেখে থাকি। আমরা কথা বলেছি, আমরা এ মুহূর্তে বন্ধ করছি না।’ 

শিক্ষার্থী ও তাদের পিতা-মাতার উদ্বেগের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে বন্ধ করে দেবো। কিন্তু সারাদেশ যেখানে ঝুঁকি বহন করছে, সারা পৃথিবী যেখানে ঝুঁকি বহন করছে, সেখানে আমি ওদেরকে ছেড়ে দিলাম..., ঝুঁকিটা কোথায় বেশি? ওরা এখানে ওয়ার্ডে যায়, রোগীদের কনটাক্টে যায়। আমরা ওদের বলেছি, যেসব রোগী সাজেস্টিভ হবে তোমরা তাদের ফিজিক্যাল এক্সামিন করো না, ওখান থেকে একটু দূরে থাকো।’ 

করোনার প্রাদুর্ভাব রাজধানীর তুলনায় গ্রামে বেশি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব প্রবাসী ফেরত এসেছেন। তাদের অধিকাংশের বাড়ি ফরিদপুর, মাদারীপুর, শিবপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে।  

এর পরও প্রয়োজন হলে বন্ধ করে দেবেন জানিয়ে ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত একাডেমিক ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দিয়েছে। ওরা তো আমার ঘরের কাছে। আমরা এটা খেয়াল রাখছি। আগামীকাল আবারও দেখবো, আমরা পর্যবেক্ষণ করবো। যখন দরকার হবে তখনই সিদ্ধান্ত দেবো। যে কোনো মুহূর্তে বন্ধের সিদ্ধান্ত দিতে পারি।’ 

তবে অবস্থা ভালো হলে লেখাপড়া অবশ্যই অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেডিকেল কোর্স-অ্যান্ড কারিকুলাম এত কমপেক্ট এখানে একজন শিক্ষার্থী ৭ দিন ছুটি পায় না।

সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজকে অনুসরণ করে উল্লেখ করে অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বন্ধ করতে গেলে আমাকে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে করতে হবে। এখানে আন্ডার গ্রাজুয়েট-পোস্ট গ্রাজুয়েট মিলিয়ে আড়াই হাজার ছাত্র। এখানে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা করতে হয়।’

শিক্ষার্থীরা বন্ধের বিষয়ে কোনো চাপ দিচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা আজকে আমার সঙ্গে দেখা করেছে। আমি বলেছি, আমি তোমাদের ব্যাপারে সতর্ক। রোগীদের সঙ্গে যেন তোমাদের বেশি দেখা না হয়, তা করে দিচ্ছি। ওয়ার্ডে না গিয়ে ক্লাসগুলো করতে থাকো। বাকি সময় হোস্টেলে থাকবে।’

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে এরই মধ্যে হল ছেড়ে তারা বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছে। 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত