কামারুজ্জামান নাবিল

কামারুজ্জামান নাবিল

ছাত্র, ডক্টর অব মেডিসিন, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান


১৩ মার্চ, ২০২০ ১০:১১ পিএম

করোনাভাইরাস: চিকিৎসক-নার্সদের যে প্রস্তুতি জরুরি

করোনাভাইরাস: চিকিৎসক-নার্সদের যে প্রস্তুতি জরুরি

সারাবিশ্বে যখন করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই নিরাপদে থাকায় ব্যস্ত ঠিক তখন মানবতার খাতিরে নিজেদের জীবন বাজি রেখে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে সরাসরি লড়ে যাচ্ছেন বিশ্বের অগণিত চিকিৎসক ও নার্স। সেক্ষেত্রে নিয়োজিতদের নিজেদের নিরাপদ রাখতে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিয়েই আজকের লেখা।

প্রথমত নিজেকে নিরাপদ রাখতে প্রাথমিক যে সরঞ্জামগুলো দরকার তা হচ্ছে, গাউন অর্থাৎ স্পেশাল পোশাক, N95 অথবা FFP2 মাস্ক; যদি এই মাস্কগুলো হাতের নাগালে না থাকে তবে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া হাতের গ্লাভস এবং চোখের সুরক্ষা নিরাপত্তা চশমা গগলস ব্যবহার করা যেতে পারে। 

দ্বিতীয়ত, রুমে প্রবেশের আগে রোগের লক্ষণ রিসিপশনে জিজ্ঞাসার ব্যবস্থা থাকা। যদি জ্বর, সর্দি হয়ে থাকে তবে শ্বাস-কষ্ট আছে কিনা অবশ্যই জিজ্ঞাসা করে নেয়া উচিত। যদি থাকে তবে আলাদাভাবে ওই রোগীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। 

তৃতীয়ত, আক্রান্তদের কাছাকাছি যেসব চিকিৎসক ও নার্স অবস্থান করবেন ওই সময়টিতে নিজেদের পরিবার থেকে আলাদা অবস্থান করা তাঁদের জন্য অধিকতর নিরাপদ। ইরানের অভিজ্ঞতায় বলছি, এ অবস্থায় নিজেদের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে অনেক চিকিৎসক তাঁদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। 

চতুর্থত, যেহেতু আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেক সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত কিটের অভাব থাকবে। যে কারণে স্বাভাবিক অথবা সবার টেস্ট করার সুযোগ নেই অথবা টেস্টের ফলাফল আসা কিছুটা দীর্ঘ সময়ের বিষয়। সেক্ষেত্রে যারা করোনা নিয়ে চিন্তায় ভুগছেন বিশেষ করে শ্বাস কষ্ট অনুভব করছেন কিছুটা চিন্তামুক্ত করতে তাঁদের অক্সিজেন Saturation এবং বুকের এক্সরে করা যেতে পারে। 

পঞ্চমত, ইমার্জেন্সিতে যে রুমে রোগী দেখা হবে তা আইসোলেশন রুম করা যেতে পারে। 

এর পরে যেহেতু করোনাভাইরাসকে বিশ্বব্যাপী মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোতে এমন লক্ষণ নিয়ে অনেক রোগী আসবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই স্বাভাবিক সর্দি, জ্বর নিয়ে আসতে পারেন এবং হাসপাতালে এসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন সেক্ষেত্রে হাসপাতালে আসার ক্ষেত্রে তাঁদের নিরুৎসাহিত করে হটলাইনগুলোতে কল দেয়ার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। 

সব মিলিয়ে বলবো, এ অবস্থায় চিকিৎসক এবং নার্স যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিবেন তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনোমতেই কমতি করা যাবে না। আমি যদি ইরানের হিসাব বলি, তবে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১৪ জন চিকিৎসক এবং নার্স জীবন দিয়েছেন। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১০৫ জন। 

আর মৃতের মধ্যে অনেক কম বয়সী যেমন একজন ২৫ বছর বয়সী নার্সও আছেন।  

অন্যদিকে গত সপ্তাহের এক হিসাবে বলা হয়েছে, চীনে ৩ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্স আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২১ জন মারা গেছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন এমন হলে আমাদের কতটা প্রস্তুতি নেয়া উচিত। 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত