১২ মার্চ, ২০২০ ০৬:১৩ পিএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইতালি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইতালি

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেড় কোটির বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইতালি। ইউরোপের এ দেশটিতে একদিনে রেকর্ড ১৩৩ জনের মৃত্যুর খবরও এসেছে। 

ইতোমধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে এ ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় দেশটির লম্বারদিয়া অঞ্চলসহ ১৪ প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তি।

সরকারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭। আর একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৪৯২ জন। ফলে দেশটিতে কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১২ হাজার ৪৬২ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ১ হাজার ৪৫ জন।

এছাড়া স্কুল, জিম, জাদুঘর, নাইটক্লাব বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই অবস্থা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ইতালির সেনাপ্রধান সালভাতর ফারিনাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। 

রোগীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী কোন্তি গতকাল (১১ মার্চ) জাতির উদ্দেশ্য ভাষণে বলেন, আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের জন্য অফিস, আদালতসহ সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।

বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, সংবাদপত্র বিক্রয়, পেট্রোল পাম্প, কম্পিউটারের দোকান স্টেশনারী দোকান, হোম ডেলিভারী খাবার ইত্যাদি। এর আগের ঘোষণায় বার, রেস্টুরেন্ট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলার নিয়ম থাকলে বৃহস্পতিবার থেকে সব বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার।

ভুতুড়ে ইতালি 

প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তের ঘোষণা পর এক কোটি ৬০ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। ১৪টি প্রদেশের ওই দেড় কোটির বেশি মানুষ এখন বিশেষ অনুমতি ছাড়া এলাকা ছাড়তে পারবেন না। 

কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে ২৬০ ইউরো জরিমানা ও তিন মাসের জেল দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। করোনা ঠেকাতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ ভাইরাসের কারণে গোটা ইতালি জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। পুরো রাস্তা ফাঁকা থাকায় দেশটির প্রতিটি শহর ভূতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

শহরের রাস্তায় রাস্তায় থাকছে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা। পাশাপাশি মাইকিং করে ঘর থেকে বাইরে যেতে জনগণকে নিষেধ করা হচ্ছে।

মৃতের সংখ্যায় চীনের পরেই ইতালি 

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা চীনের পরই এখন ভূমধ্যসাগরীয় দেশ ইতালির অবস্থান। এর পর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইরানে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৯৪ জন মানুষ মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা একদিনে বেড়েছে ৪৯ জন। 

এছাড়া ফ্রান্সে ১৯ জন, স্পেনে ১৭ জন ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। রোববার দেশটিতে দুই জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। 

সূত্র: বিবিসি 
 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত