ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


১২ মার্চ, ২০২০ ০৪:১৮ পিএম

করোনা থেকে বাঁচতে কেমন মাস্ক পরবেন ও কিভাবে পরবেন?

করোনা থেকে বাঁচতে কেমন মাস্ক পরবেন ও কিভাবে পরবেন?

আজ হাসপাতালে রোগীদের বা তার আত্মীয়ের অনেককেই দেখলাম মাস্ক পরে এসেছেন। যে সব মাস্ক পরে এসেছেন তার শতকরা আশি ভাগই কোনো কাজের না। 

আবার অনেককে দেখলাম মাস্ক পরেছেন, কিন্তু বারবার সেই মাস্কে হাত লাগাচ্ছেন, মাস্ক খুলছেন, পরিষ্কার করছেন আবার পরছেন। পকেট বা পার্সে রাখছেন। এসবও ঠিক নয়। 

যে মাস্ক ব্যবহার করছেন এগুলো বেশির ভাগ ফুটপাতের ধোয়া ধূলো-বালি থেকে মুক্তি পাবার। ধূলোর সাইজ আর করোনা ভাইরাসের সাইজ আকাশ পাতাল তফাৎ। 

মাস্ক পরার একটা নিয়ম আছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একজন সার্জন যেভাবে মাস্ক পরেন; যে নিয়মে তিনি মাস্ক পরেন বা পরে থাকেন অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত, করোনাভাইরাস ঠেকাতে হলে আপনাকেও ঠিক সেভাবেই মাস্ক পরতে হবে। সার্জনরা কখনো তার মাস্কে হাত দেন না। মুছেন না বা বের করে পকেটে রাখেন না। সার্জনের মাস্ক পরিবর্তন করতে হলে, খুলতে হলে সেই কাজটি এসিস্ট নার্স বা ব্রাদারকে করতে হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের প্রধান কয়েকটি শর্ত:

মাস্ক-এর পিছনে ফিতা বা রাবারের অংশকে আলতো করে ধরে মাস্কটি পরতে হবে। মাস্ক নাক-মুখ দুই ঢেকে রাখবে, অনেকটা হিজাবের মতো। 

হাঁচি-কাশি দিলে মাস্ক ভিজতে পারে। ভিজলে নির্দিষ্ট জায়গায় তা ফেলে দিতে হবে। এবং সাবান দিয়ে পুনরায় আপনার হাত ধুয়ে নিতে হবে। নতুন মাস্ক লাগাতে হবে। 

একই মাস্ক বার বার খুলে প্যান্টের পকেটে, পার্সে বা হ্যান্ড ব্যাগে রাখা যাবে না। বাসায় গিয়ে মাস্ক যত্রতত্র রাখতেও পারবেন না।

মাস্ক একবার পরার পর বারবার তাতে হাত লাগানো যাবে না। হাত দিয়ে মাস্ক স্পর্শ করলে আপনাকে সেই আবার হাত ধূয়ে নিতে হবে। 

একজন, একটি মাস্ক একবারই ব্যবহার করতে পারবনে। মাস্ক খুলে যাকে তাকে দিতে পারবেন না। যেখানে সেখানে রাখতে পারনেন না। পানি দিয়ে ধূয়ে ব্যবহার করতেও পারবেন না।

আপনি যাতে বারবার নাকে মুখে হাত না দেন মাস্ক পরার এটাও একটা উদ্দেশ্য। এখন সে উদ্দেশ্য যদি হাসিল না হয় তাহলে অযথা মাস্ক পরে রোবটের মতো হেটে লাভ কি হলো।

আর মনে রাখবেন, সাধারণ চলাফেরায় গণহারে মাস্ক পরার দরকার নেই। আপনি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত কারো কাছে যাবেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা আছে—এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মাস্ক পরতে হবে। এবং তা নিয়ম মেনে। 

আর ভাইরাস মাস্ক এবং ডাস্ট মাস্ক কিন্তু আলাদা। মনে রাখবেন ভাইরাসের সাইজ ডাস্ট-এর সাইজের চেয়ে কয়েকশো গুণ ছোট। টিস্যু পেপার ও রাবার দিয়ে মাস্ক বানিয়ে সেটা দিয়ে করোনাভাইরাস আটকানো কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়। 

এটা হয়তো আপনাকে ইউটিউব সেলিব্রিটি বানাবে, ধূলোবালি থেকে বাঁচাবে। কিন্তু করোনাভাইরাস মুক্ত করতে পারবে না। পক্ষান্তরে জোরসে হাঁচি আসলে আপনার টিস্যু মাস্ক প্যারাসুট হয়ে উড়ে গিয়ে অন্যের গায়ে মুখে পড়বে। 
 

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
জাতীয় মেধায় প্রথম হওয়া চিকিৎসকের নির্মোহ অভিব্যক্তি

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই: ১৪ মাসের মেয়েটাকে দেখি না তিন সপ্তাহ ধরে 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

জাতীয় মেধায় প্রথম হওয়া চিকিৎসকের নির্মোহ অভিব্যক্তি

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই: ১৪ মাসের মেয়েটাকে দেখি না তিন সপ্তাহ ধরে 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি