১০ মার্চ, ২০২০ ০৭:৩৫ পিএম

৩৯তম বিসিএস চিকিৎসকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, কী ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর?

৩৯তম বিসিএস চিকিৎসকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, কী ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর?
৩৯তম বিসিএসে যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের ওরিয়েন্টেশন। ফাইল ছবি

মো. মনির উদ্দিন: দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে রয়েছে। বেশিরভাগ হাসপাতালেই নির্ধারিত পদের অর্ধেক চিকিৎসকও নেই। এমনকি অনেক হাসপাতাল চলছে মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে। যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে (৩৯তম) প্রায় সাড়ে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। নতুন এ চিকিৎসকরা নিজেদের উজার করে দিয়েছেন দেশের তরে। তবে কাজ করতে গিয়ে নৈমিত্তিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন নতুন এ ক্যাডাররাও। 

তবে নতুন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মুগ্ধ তারা। 

নতুন চিকিৎসকরা মেডিভয়েসকে জানান, অবকাঠামো ও তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না তারা। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার শিকার না হলেও আবাসনকেন্দ্রিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া কোথাও কোথাও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না চিকিৎসকরা। 

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর বিষয়ে তাদের জানালে দ্রুত সমাধান করা হবে।

নতুন চিকিৎসকদের কথা

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখানে আমাদের সর্বমোট ১৯ জনের পদায়ন হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন বাকিদের সাব সেন্টারে আছেন। সহকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে আমরা যথেষ্ট সন্তুষ্ট। সবাই সহযোগী মনোভাবাপন্ন। এছাড়া কাজের পরিবেশও আগে এ রকম ছিল না। আমরা আসার পরে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) সহযোগিতা পাচ্ছি। বিশেষ করে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিকতায় আমরা কাজের একটি ভালো পরিবেশ পেয়েছি। কোয়ার্টারে থাকি, আমাদের আসার আগে রং করে পরিবেশ সুন্দর করা হয়েছে।’

তবে বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, ‘শুধু আমাদের যেটা সমস্যা তাহলো, ইমার্জেন্সি রুমটা খুবই ছোট। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেবাটা কাঙ্ক্ষিত মানের হচ্ছে না। এখানে সিসি ক্যামেরা নাই। এ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে কোনো প্রমাণ থাকবে না। মেয়েদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরদার করা দরকার। যদিও পাশে থানা আছে। তাদেরকে অবহিত করার পরে হয় তো আসবে, কিন্তু তার আগেই তো ঘটনা ঘটে যাবে! এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া এখানে ১৪ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। আউটডোরে আলাদা রুম নেই। দুইজন করে বসলেও জায়গা পাওয়া যায় না। আমরা একই রুমে ৩/৪ জন করে একসঙ্গে বসে আপাতত যতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব দিয়ে যাচ্ছি।’

সংকটের কথাগুলো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বগুড়া ধূনটের ছেলে ডা. রবিউল বলেন, ‘ইমার্জেন্সির অগ্রগতির জন্য স্যারকে বলা হয়েছে। তিনি জানালেন, একটু সময় লাগবে।’

তবে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ইউএইচএফপিও স্যার খুবই ভদ্র মানুষ ও সহযোগী। সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো কাজ না পারলে বলেন, এটা আমার ক্ষমতার বাইরে। সরকারি পর্যায়ে এটুকু সহযোগিতা পেলে নির্দ্বিধায় কাজ করা যাবে।’

স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে রোগীরা সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই বছর ধরে তিনজন মেডিকেল অফিসার ছিলেন, এর আগের দুই বছর ছিলেনই না। এসব কারণে প্রথম দিকে রোগী কম আসতো। এতো চিকিৎসক এখানে পদায়নের পর জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, এখন গেলে ডাক্তার পাবো। ফলে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনে হয়েছে, তারা বেশ সন্তুষ্ট।

একই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে সমস্যা ও সম্ভাবনা দুটোই খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। এখানে ডাক্তার-নার্স পর্যাপ্ত। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সমস্যা বেশ তীব্র। এটি হাসপাতালের সেবার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। এখানে তিনটি অপারেশন থিয়েটার আছে। অথচ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অভাবে এগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে একজন ওয়ার্ডবয়, একজন নাইটগার্ড, একজন ওটি বয়। তাদেরকে নিয়ে এসে ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করানো হচ্ছে।  

এছাড়া প্রথম, শ্রেণি ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মরতদের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতাকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। 

ডা. আশিক বলেন, ‘এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এখানে আবাসন ব্যবস্থা খুবই ভালো। তবে নিরাপত্তা বেস্টনি না থাকায় বাহিরের লোকজন অবাধে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া প্রথম দিকে বেতনে সমস্যা ছিল। তবে সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়েছে বেতন নিয়মিত প্রদান করবে।’

তিনি আরও বলেন, এখানে অনেক ডাক্তার থাকলেও মাত্র একজন ইএনটি কনসালটেন্ট আছে। গাইনি বা মেডিসিনের কোনো কনসালটেন্ট নাই। ফলে স্পেশাল সার্ভিস দেওয়া যাচ্ছে না।

পাশাপাশি বিভিন্ন সুবিধার দিক তুলে ধরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক পদায়ন হওয়ায় আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। এতে সহজে রোগীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তারা বেশি সেবা পাচ্ছে। রোগী আসার পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে গেছে। যোগাযোগের জন্য কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। খাওয়া-দাওয়াসহ অন্যান্য বিষয়গুলো খুবই চমৎকার’। 

এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ডা. আশিক জানান, এখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সরকার প্রায় ১২৮ প্রকারের রোগের ওষুধ প্রদান করছে। 

রোগী-ডাক্তারের মধ্যে আপনারা কেমন সম্পর্ক দেখছেন জানতে চাইল তিনি বলেন, এখানে রোগীদের সঙ্গে তিক্ততার কোনো ঘটনা এখনও পর্যন্ত ঘটেনি। তারা আমাদেরকে যথেষ্ট সম্মান করে।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ বিপ্লব বলেন, ইমার্জেন্সি ও আউটডোরে দায়িত্ব পালনের সময় যন্ত্রপাতির সমস্যায় পড়ি। অকসিজেন সিলিন্ডার, নেবুলাইজার আছে মাত্র একটি করে। ইমার্জেন্সি দায়িত্ব পালনের সময় ডাক্তারের পাশাপাশি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, এমজন এমএলএস, নার্সও দরকার হয়ে পড়ে।কিন্তু সবগুলোই এক হাতে করতে হয়। 

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর পাশাপাশি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তা নেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। 

তিনি আরও বলেন, এক মাস আগে নতুন ইউএইচএফপিও ডা. কাজী নাহিদ হাসান নয়ন আসার পর হাসপাতালে বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বিভাগ, হাসপাতালে পুরো এলাকায় আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ উল্লেখযোগ্য। 

তিনি উদ্যোগী হয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নতুন চিকিৎসকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ায় সব কিছু সহজ হয়ে গেছে। 

‘আমাদের আবাসনে সমস্যা ছিল, তবে তা কেটে গেছে’, যোগ করেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ১৯তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী। 

একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরেক মেডিকেল অফিসার ডা. হীরন্ময় বর্মণ সাগর বলেন, এখানে নিরাপত্তাসহ সবকিছু ভালোই আছে। 

তিনি বলেন, ‘সবাই দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন। এখানে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ জন চিকিৎসকের সবাই যথেষ্ট আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোস্টার অনুযায়ী তারা যথাযথভাবোয়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে যদি এতে পরিবর্তন করতে হয় তাহলে নিজেরা আলোচনা করে পরির্তন করে সেবা দিচ্ছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না’। 

প্রথম মাসে বেতন নিয়ে একটু ঝামেলায় পড়েছিলেন জানিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩৫ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, এখন আর এ সমস্যা নেই, ব্যাংকে বেতন চলে যাচ্ছে। তুলতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। 

তবে হাসপাতালে আরও কিছু যন্ত্রপাতি থাকলে কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে গোপালপুর ইউনিয়ন সাবসেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. ইশতিয়ার রেজা বলেন, ‘১০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লাগবে। ফলে কোয়ার্টার বা ডরমেটরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা নিজ দায়িত্বে থাকছি। এতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আগামী ৫-৭ মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘১০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যন্ত্রপাতি অপর্যাপ্তই বলতে হবে। ৫০ শয্যায় উন্নীত হলে এ সংকট কাটবে।’

কোনো রকমের নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হননি উল্লেখ করে ডা. ইশতিয়ার রেজা বলেন, সবাই হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।  

তিনি আরও বলেন, ‘আগে চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কোনো কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়নিা। কিংবা অনকলে থাকতো। এখন চিকিৎসকরা প্রতিটি শিফটে শতভাগ উপস্থিত থাকছেন।’ 

যা বললেন স্বাস্থ্য প্রশাসক  

৩৯তম বিশেষ বিসিসের চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের বিপ্লব সাধিত হবে বলে মনে করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. অসীম কুমার দাস। 

তিনি বলেন, ‘এ উপজেলায় ২/১টি সাবসেন্টার ছাড়া বাকিগুলোর সবাই ভালো আছেন। ২/৩টি সাবসেন্টারে স্থাপনার কিছুটা সমস্যা আছে। রোগীরা সেবা নিতে আসছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার আছে, চমৎকার কর্ম পরিবেশ আছে।ছয় মাস পরে নিজস্ব ভবনে চলে গেলো আরও ভালো সেবা দিতে পারবো।’

ভালো সেবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ২৮তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘রোগীদেরকে হয়তো সন্তুষ্ট করতে পারবো না, তবে চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ দেওয়ার।’

এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ করা চিকিৎসকদের বেতন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ আসছে, আমরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছি। কোনো কোনো জায়গা সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বেতন পাচ্ছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য: 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ৩৯তম বিসিএসের পদায়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়েছে। যেখানে অবকাঠামোগত সুবিধা আছে সেসব জায়গাতেই পদায়ন করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় অবকাঠামোর সংকট আছে সেখানে কাউকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে না। একটি উপজেলার অধীনে কিছু ইউনিয়ন আছে। সেখানে তাদেরকে পদায়ন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘তৃতীয় বা চতুর্থ  শ্রেণির কর্মচারী স্বল্পতার বিষয়টি সত্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পন্ন হয়ে গেলে সমস্যা থাকবে না।’ 

অনেক জায়গায় কোনো কনসাটেন্ট না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘থাকা দরকার। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিছু দিন আগে বিশাল সংখ্যক চিকিৎসক জুনিয়র কনসালটেন্ট থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হয়ে যাওয়ায় কিছুটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয় সামনে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে প্রমোশন দিলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এটা খুব শিগগিরই হবে।’ 

নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে ডা. মো. বেলাল হোসাইন বলেন, রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের খুব নিবিড়ভাবে মিশে যেতে হয়। ফলে নিজেদের কিছুটা সচেনতার বিকল্প নাই। আত্মরক্ষা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। 

কোনো কোনো হাসপাতালে যন্ত্রপাতির স্বল্পতার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলে এ সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। 

তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে বিভাগীয় পরিচালক, হাসপাতালের পরিচালক, সুপারিন্টেন্ডেন্টদের সঙ্গে আমাদের ভিডিও কনফারেন্স হয়। একেবারে জনে জনে কথা হয়। চিকিৎসকরা যে কোনো সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করতে পারে। আমরা ব্যবস্থা নেবো।’ 

বিশেষজ্ঞ প্রত্যাশা:  

সদ্য যোগ দান করা চিকিৎসকরে প্রতি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, ‘তাদের প্রতি পরামর্শ হলো, তারা তরুণ। এটি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ নেবার সময়। এ কারণে সরকার তাদেরকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পদায়ন করেছে। তারা সেখানে যোগদানও করেছে। ওখানে সেবা প্রার্থীর সংখ্যাও অনেক, গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী রয়েছে, তারাও সেবাপ্রার্থী। এসব মানুষের সেবায় তারা আত্মনিয়োগ করবে। তাদের বয়সের যে আনুকূল্য রয়েছে, বয়সের যে সুবিধা তারা পাচ্ছে, এর ফলে তারা অনেক কাজই করতে পারে। যেটি তাদেরকে চেয়ে অপেক্ষাকৃত বয়স্করা করতে পারেন না। তরুণ চিকিৎসকরা তাদের তারুণ্য কাজে লাগিয়ে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারে। তারা গ্রামে থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করবে সেটিই আমার প্রত্যাশা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি