১০ মার্চ, ২০২০ ০৬:৪৪ পিএম

বাংলাদেশে অকাল মৃত্যু ঝুঁকিতে স্বর্ণকাররা, বিএসএমএমইউর গবেষণা 

বাংলাদেশে অকাল মৃত্যু ঝুঁকিতে স্বর্ণকাররা, বিএসএমএমইউর গবেষণা 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে স্বর্ণকারদের অকাল মৃত্যুর হার বেশি বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওই গবেষণায় দেখানো হয়েছে, দেশে স্বর্ণকারদের গড় আয়ু মাত্র ৫৯ বছর। আর ৫৫ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, যার মধ্যে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক অন্তর্ভুক্ত। এ পেশায় জড়িতদের ধূমপান পরিহার, মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ও কাজের সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেও গবেষণায় বলা হয়েছে। 

বিএসএমএমইউর অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশে স্বর্ণকারদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘Cause of death in goldsmith Workers of Bangladesh: Finding From Verbal Autopsy’ আয়োজিত কর্মশালায় এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 

ফলাফলে জানানো হয়, বাংলাদেশে আনুমানিক তিন লক্ষ মানুষ স্বর্ণকার পেশায় নিয়োজিত। ভিন্ন ধরণের পেশাগত ঝুঁকির কারণে তাঁদের মৃত্যুর কারণ জানা জরুরি। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বর্ণকারদের অকাল মৃত্যুর হার বেশি, যেখানে তাঁদের গড় আয়ু মাত্র ৫৯ বছর। ৫৫ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, যার মধ্যে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোক অন্তর্ভুক্ত। মৃত স্বর্ণকারদের রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা দেখা গেছে, তাঁদের ৪৫ ভাগ কার্ডিওভাস্কুলার রোগে ভুগছিলেন এবং ২০ ভাগ আক্রান্ত ছিলেন ক্যান্সারে। 

অসংক্রাম রোগ বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, মৃতদের ৬৫ ভাগ উচ্চ রক্তচাপ, ৫০ ভাগ ডায়াবেটিস, ৩৫ ভাগ হৃদরোগ এবং ২০ ভাগ কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৭৫ ভাগ স্বর্ণকারই দুই বা ততোধিক অসংক্রামক রোগে ভুগছিলেন। স্বর্ণকারদের জীবনধারণের অভ্যাস তাঁদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়। মৃত স্বর্ণকারদের ৭০ ভাগ নিয়মিত ধূমপান ও ২০ ভাগ ধোঁয়াহীন তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন করতেন। তাঁদের ৫০ ভাগের নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস ছিল।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিশেষ ছিলেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, আইসিডিডিআর,বি-এর ইমেরিটাস সাইনটিস্ট ডা. মো. ইউনুস। 

সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষকদের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। 

ভারবাল অটোপসি পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা এ ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এই গবেষণার সহযোগী প্রধান গবেষক ডা. মোহাম্মদ তানভীর ইসলাম। 

কর্মশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পেশাগত স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে জড়িত প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য গবেষক, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, নীতি নির্ধারক, গণমাধ্যমে থেকে আগত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণা কর্মকে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিএসএমএমইউর বর্তমান প্রশাসনও গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

স্বর্ণকারদের নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁদের কাজের পরিবেশ, দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভাস ইত্যাদি বিষয় অন্তভুর্ক্ত করা জরুরি। 

সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো গবেষণার সূতিকাগার’।

তিনি বলেন, গবেষণা হতে হবে, জনকল্যাণমুখী এবং বৃহৎ আকারের, যাতে এ থেকে প্রত্যেকটি জানার বিষয় সুন্দরভাবে উঠে আসে।  

বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞ ও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, স্বর্ণকারদের পেশাটি ও তাঁদের জীবযাত্রাসহ খাদ্যাভাস হৃদরোগ ছাড়াও বক্ষব্যাধির বিভিন্ন ধরণের রোগের সাথে যোগসূত্র রয়েছে। স্বর্ণকাররা পেশা ও ধূমপানের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ—রেসট্রিকটিভ ও অবস্ট্রাকটিভ লাং ডিজিজেস বা বাধাজনিত শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়। এগুলো প্রতিরোধের জন্য ধূমপান পরিহার, মদ্যপান থেকে বিরত থাকা ও কাজের সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান গবেষক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, স্বর্ণকারদের অকাল মৃত্যুর কারণ তাঁদের খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রা কিনা এবং অকাল মৃত্যুর কারণের সঙ্গে স্বর্ণকারদের কাজের পরিবেশ, তাঁদের পেশা, দীর্ঘ সময় কাজ করার কতটা যোগসূত্র রয়েছে, তা পরবর্তীতে আরো গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।  
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত