০৬ মার্চ, ২০২০ ০২:১৪ পিএম

ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী

ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী
ডা. রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের এই দিনে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনি।   

ডা. রফিকুল ইসলাম ১৯৩৬ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

১৯৬৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও হাইজিন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ডা. রফিকুল ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) যোগ দেন এবং ২০০০ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই অবসরে যান। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন ‍ওষুধ নিয়ে গবেষণা করেন। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো খাবার স্যালাইন (ওরস্যালাইন)।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরগুলোতে কলেরা ছড়িয়ে পড়লে একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে শিরায় স্যালাইন (ইন্ট্রাভেনাস) দেওয়া হতো। কিন্তু ইন্ট্রাভেনাসের স্বল্পতার কারণে তাঁর আবিষ্কৃত খাবার স্যালাইন দিয়ে এই রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করে শরণার্থীরা।  

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল তাঁর এ উদ্ভাবনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলে উল্লেখ করেছিল।  

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার তাঁর আবিষ্কৃত ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। এ সময় ডায়রিয়ার চিকিৎসায় স্যালাইনের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এর ফলে এটি ‘ঢাকা স্যালাইন’ নামেও পরিচিতি লাভ করেছিল। 

এরপর ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) স্বীকৃতিও পায় ওরস্যালাইন। এছাড়া বাংলাদেশি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এই খাবার স্যালাইনকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

রফিকুল ইসলাম ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ।
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
বাংলাদেশের গাইনী এবং অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী

স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী