২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১০:১৮ পিএম
সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক 

‘সেরা নারী বিজ্ঞানীর’ পুরস্কার পেলেন ডা. ঈশিতা

‘সেরা নারী বিজ্ঞানীর’ পুরস্কার পেলেন ডা. ঈশিতা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশনাল ইউমেন অ্যাওয়ার্ডে (আইআইডব্লিউএ ২০২০) ‘সেরা নারী বিজ্ঞানী অনূর্ধ্ব-৩৫’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন খ্যাতিমান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক ডা. ইশরাত রফিক ঈশিতা। 

গত ১৮ জানুয়ারি ভারতের ইউপি হোটেল পার্ক অ্যাসেন্টে আয়োজিত গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয় আয়োজক সংস্থা জিআইএসআর ফাউন্ডেশন। 

এছাড়াও ডা. ঈশিতা সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় রত্ন অ্যাওয়ার্ড ২০২০ এর জন্য নির্বাচিত হন, যার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের পর চলতি মাসের ২২ তারিখ ব্যাংককে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গবেষকের’ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। 

বর্তমানে আমেরিকান সেক্সুয়াল হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অ্যাম্বাসেডর, ন্যাশনাল সার্ভিকাল ক্যান্সার কোয়ালিশন অ্যাম্বাসেডর এবং গ্লোবাল গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কর্মরত আছেন ময়মনসিংহের মেয়ে ঈশিতা।

ডা. ঈশিতার আরও কিছু অর্জন 

গত বছরের ৩১ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক একসেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯-এর ‘বেস্ট রিসার্চ এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা লাভ করেন বাংলাদেশি এ গবেষক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পার্ক রেজিস ক্রিস কিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

এর আগে ২০১৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে লিনডাও নোবেল লরিয়েট মিট মেডিসিনে অংশ নেন ডা. ইশরাত রফিক ঈশিতা।

২০১৮ সালে আমেরিকান কলেজ অব হাইপারবেরিক মেডিসিনে ‘ডক্টর অব মেডিসিন’, ও ‘ডক্টর অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন’ লাইসেন্স পান। ২০১৯ সালে USMLE পাস করেন। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার কাজও চালিয়ে যান।

এ পর্যন্ত তার ৮৩টি গবেষণাপত্র ইন্টারন্যাশনাল পিয়াররিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য একাধিকবার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি এ চিকিৎসা গবেষক।

ইয়াং সায়েন্টিস্ট গ্রান্টঅ্যাওয়ার্ড ২০১৮, ন্যাশনাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৯, গ্লোবাল ইয়ুথ লীডারশিপ অ্যাওয়ার্ড (হেলথ) ২০১৯ পান ডা. ইশরাত।

এছাড়াও তিনি নানা সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। পাশাপাশি আমেরিকান সেক্সুয়াল হেলথ অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল সার্ভিক্যাল ক্যান্সার কোয়ালিশন, প্রগ্রেস ফর কোয়ালিটি এডুকেশন, চাইল্ড অ্যাবিউজ প্রিভেনশনের অ্যাম্বাসেডর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাম্বাসেডর অব এডুকেশন, পিস, ডেভেলপমেন্ট, অ্যাম্বাসেডর অব একসেলেন্স, ওয়ার্ল্ডওয়াইড অ্যাম্বাসেডর, গ্লোবাল গুডউইল এবং গ্লোবাল পিস অ্যাম্বাসেডর হিসাবে কর্মরত।

বেড়ে ওঠার গল্প

ডা. ইশরাত রফিক ঈশিতার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও তাঁর জন্ম ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি ১৯৯৩ সালের ৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে ময়মনসিংহ জেলায়। তাঁর বাবা খন্দকার রফিকুল ইসলাম সিনিয়র ফ্যাকাল্টি মেম্বার, বিকেবি এবং মা হেলেন রফিক, এমএমসি ঢাকা ইউনিভার্সিটি। একমাত্র বড় বোন এমআইটি বোস্টন আমেরিকাতে পিএইচডি করছেন।

ডা. ঈশিতা ২০০৮ সালে বিদ্যাময়ী গভর্মেন্ট গার্লস হাই স্কুল ময়মনসিংহ থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে মমিনুন্নেসা গভমেন্ট গার্লস কলেজ ময়মনসিংহ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হন তিনি। ২০১৬ সালে এমবিবিএস পাস করেন ঈশিতা। ২০১৮ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জন করেন। 

বর্তমানে তিনি আমেরিকান সেক্সুয়াল হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অ্যাম্বাসেডর, ন্যাশনাল সার্ভিকাল ক্যান্সার কোয়ালিশন অ্যাম্বাসেডর এবং গ্লোবাল গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি