২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৯:৩১ পিএম

ভারতে ডা. কাফিল খানের মামাকে গুলি করে হত্যা 

ভারতে ডা. কাফিল খানের মামাকে গুলি করে হত্যা 

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কাফিল খানের মামা নুসরতুল্লাহ ওয়ারসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টায় বাড়ির সামনে মাথায় গুলি করে খুন করা হয়। 

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে কয়েক মিটার দূরে আইনজীবী সিরাজ তারিকের বাড়িতে যান নুসরতুল্লাহ ওয়ারসি (৫৫)। পরে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি আসার পর একজন তার মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোরক্ষপুর সার্কেল আধিকারিক ভিপি সিং জানিয়েছেন, ইমামউদ্দিন ও অনিল সোনকার নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জমি সম্পর্কিত বিবাদের জেরেই তিনি খুন হয়েছেন। পুলিশ তাদের বাড়ির মহিলাদের সাথে দেখা করে খুনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

আপাত দৃষ্টিতে এটিকে সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা বলে মন্তব্য করে ভিপি সিং আরও বলেন, মামলা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের দল গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে। 

সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ চলার সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কাফিল খানকে আবার গ্রেপ্তার করে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও উত্তেজনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়। পরে ন্যশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে (এনএসএ) মামলা দায়ের করে পুলিশ।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ২৯ জানুয়ারি মুম্বাই থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় আলিগড়ের সিভিল লাইন্স থানায়। মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে আলিগড় নিয়ে আসা হয়, তারপর পাঠানো হয় মথুরা জেলে।

তারও আগে ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার বিআরডি মেডিকেল কলেজে অক্সিজেনের অভাবে ৬০ জন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ডা. কাফিল খানের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।  এ ঘটনায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে যোগী আদিত্যনাথ। ওই সময় সম্পূর্ণ বিনা দোষে ৯ মাস জেল কাটেন ডা. কাফিল খান।

পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয় যে কাফিল খানের জন্যই ওই হাসপাতালে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল বহু শিশু। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের ১০ তারিখ থেকে ওই হাসপাতালে টানা ৫৪ ঘণ্টা অক্সিজেন ছিল না। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না করায় নিজের টাকা খরচ করেই রোগীদের জন্য সিলিন্ডার এনেছিলেন ডা. কাফিল। এজন্য সারা দেশের মানুষ তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিল; কিন্তু কয়েকদিন পরেই উল্টো ওই ঘটনায় তার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে উত্তর প্রদেশ সরকার। নায়ক থেকে খলনায়ক বানিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এই চিকিৎসককে। 

এ সময় তার বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়। মূলত তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আক্রোশের শিকার ছিলেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত