২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১০:৩২ এএম

ক্ষত গ্রন্থের লেখক ডা. সুমনা তনুর সাক্ষাৎকার

ক্ষত গ্রন্থের লেখক ডা. সুমনা তনুর সাক্ষাৎকার
ডা. সুমনা তনু শিলা 

এই বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ডা. সুমনা তনু শিলার দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ক্ষত’। তার লেখা গল্পগ্রন্থ রকমারি ডটকমে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে সেকেন্ড বেস্ট সেলার।  একুশের বই মেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনীর (প্যাভিলিয়ন ১৪) স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। যশোর সদর উপজেলারর পুরাতন কসবা, ঘোষ পাড়া এলাকায় জন্ম নেয়া এ চিকিৎসক বিসিএসের ২৪তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে বর্তমানে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজির সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। বই ও নিজের জীবন সম্পর্কে মেডিভয়েসের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন  ডা. সুমনা তনু শিলা তার নানা অভিব্যক্তি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর সিদ্দিকী

মেডিভয়েস: আপনার নতুন বই সম্পর্কে কিছু বলুন। 

ডা. সুমনা তনু শিলা: এটা একটা ছোট গল্পের সংকলন, যেটাতে বিশটা ছোট গল্প আছে। বইটা প্রকাশিত হয়েছে স্বরে অ প্রকাশনী থেকে। ইতিমধ্যেই বইটা বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। বইটা মেলাতে আসতে একটু দেরি হয়েছে। যার জন্য আমি খুব চিন্তায় ছিলাম। গতবারের মত প্রচার করতে পারিনি। সবাইকে ঠিকমত জানাতে পারিনি। কাজেই আমি ধরে নিয়েছিলাম, গতবারের মত আমার এই বইটা আমার সব পাঠকের হাতে পৌঁছাবে না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, দশ দিন পরে প্রকাশিত হয়েও রকমারি ডট কমে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে আমার দ্বিতীয় গল্প গ্রন্থ " ক্ষত " এখন সেকেন্ড বেস্ট সেলার। আমার পাঠকেরা এর মধ্যেই দারুণ দারুণ সব বুক রিভিউ দেওয়া শুরু করেছেন। সত্যিই কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।

মেডিভয়েস: ‘ক্ষত’ বইটির এই নামকরনের কারণ কী?

ডা. সুমনা তনু শিলা: সমাজের ক্ষতগুলো নিয়েই আমার বইটা। আমারদের সমাজে, বিশেষ করে মেয়েদের সাথে যে বৈষম্য গুলো হয়, সেগুলো খুব গভীরভাবে দেখার চেষ্টা করেছি। কেন বৈষম্যগুলো হয়? কেন ক্ষত তৈরি হয় ? সেগুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। আসলে সমাজের ক্ষত গুলো আমাকে ঘুমাতে দেয় না, জাগিয়ে রাখে। ভালোবাসার টানা পোড়েন গুলো দেখে, যে ক্ষত তৈরি হয় মনের গভীরে, সেগুলো লিখতে পারি না তেমন করে। শুধু অনুভব করতে পারি। দেখতে থাকি ক্ষত গুলো, লিখতে থাকি আনাড়ি হাতে। ক্ষত বইটার বৈশিষ্ট্য হলো, গল্পগুলোতে যখন ক্ষত তৈরি হয়, প্রথমে মনে হয়, এরকম অবস্থান থেকে কখনোই উঠে আসা সম্ভব নয়। কিন্তু অধিকাংশ গল্পেই শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সে, সেই অবস্থান থেকে উঠে আসতে পেরেছে। এজন্যই আমার ফলোয়ার যারা আছেন, তারা সব সময়ই বলেন, " আপনার লেখাগুলো আশা জাগানিয়া। নতুন করে শুরু করার সাহস পাই। " এজন্যই আমার বইটার নামকরণ করেছি, " ক্ষত "।

মেডিভয়েস: আপনার লেখা আরও কোন বই আছে কিনা? সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. সুমনা তনু শিলা: এর আগে আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ " জানালা ", ২০১৯ এর বইমেলাতে প্রকাশিত হয়। এটাও ছোট গল্পের সংকলন। বাইশটা ছোট গল্প আছে। গত বইমেলাতেই এর প্রথম মুদ্রন শেষ হয়। বইটা প্রচুর পাঠকপ্রিয়তা পায়। এখনও পর্যন্ত বইটা সবাই সংগ্রহ করতে চায়। ঐ সময় আমাকে অনেকে বলতো, জানালা খ্যাত ডা. সুমনা, কেউ কেউ বলতো, জানালাদি। যারা গতবার আমার " জানালা " সংগ্রহ করেছেন, তাদের অধিকাংশই এবার আমার " ক্ষত " সংগ্রহ করছেন। যারা গতবার শেষে জানালা সংগ্রহ করতে পারেননি কপি সংকটের কারণে, তারা এবার শুরুতেই " ক্ষত " সংগ্রহ করেছেন। পাঠকরা বলেছেন,  এবার কোনোক্রমেই মিস করতে চাই না। 

মেডিভয়েস: আপনার লেখালেখি কবে থেকে শুরু? 

ডা. সুমনা তনু শিলা: আগে মাঝে মাঝে কবিতা লিখতাম। কিন্তু গল্প লেখা শুরু করেছি, মাত্র বছর দুয়েক হলো।

মেডিভয়েস: আপনার লেখালেখির অনুপ্রেরণা কী?

ডা. সুমনা তনু শিলা: লেখালিখির অনুপ্রেরণা বলতে গেলে আমার বাবার কথা বলতে হয়। আমার বাবা একজন আবহাওয়াবিদ ছিলেন। কিন্তু তার নেশাই ছিল লেখালিখি। তার লেখা নাটক এবং প্রচুর নাটিকা সে সময়ে খুলনা বেতার থেকে প্রচারিত হয়েছে। আব্বার লেখা দুটো উপন্যাস আছে। এছাড়া বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় উনি নিয়মিত লিখতেন।

এছাড়া অনুপ্রেরণার কথা যদি বলি, ডাক্তারদের গ্রুপ "প্ল্যাটফর্ম " এবং " পেন্সিল " নামক আরো একটা গ্রুপে আমি নিয়মিত লিখি। এখানকার পাঠকরা আমার গল্পে প্রচুর লাইক, কমেন্ট করে আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন।

মেডিভয়েস: লেখালেখি করতে গিয়ে কোন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন কি??

ডা. সুমনা তনু শিলা: এটা একটু মজার ব্যাপার। শুরুতে আমার স্বামী এসোসিয়েট প্রফেসর ডা মোস্তাক বলতো, এসব লেখালিখি করে সময় নষ্ট না করে, নিজের পড়ালেখা করো। মাঝে মাঝে একটু বিরক্তও হতো। পরবর্তীতে যখন তার পরিচিত ডাক্তাররা তাকে বলতো, " সুমনা তো খুব ভালো লেখে। আমার ওয়াইফ ওর লেখার ভীষণ ভক্ত। আমিও ওর লেখা সব পড়ি। " তখন থেকেই সে চেঞ্জ হয়েছে। এখন তো খুবই সহযোগিতা করে। আমার লেখালেখি সংক্রান্ত যে কোন সাফল্যে, সে খুবই খুশি হয়।

আমার যখন প্রফেশনে চাপ বেশি পড়ে, তখন লেখালিখি একটু কমে যায়। কিন্তু সময় পেলেই লিখে ফেলি।

মেডিভয়েস: লেখক হিসেবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ডা. সুমনা তনু শিলা: আমি একজন নবীন লেখক। এতটাই নবীন যে, নিজেকে লেখক পরিচয় দিতে লজ্জা পাই। তারপরও আরো কিছু গল্পের বই প্রকাশের ইচ্ছা আছে। বাচ্চাদের গল্প কখনো লেখা হয়নি। সুযোগ পেলে সেটা লেখার চেষ্টা করবো।

মেডিভয়েস: নবীন লেখক ও চিকিৎসকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

ডা. সুমনা তনু শিলা: আসলে পরামর্শ দেওয়ার মত যোগ্য এখনও হইনি। তারপরও বলবো, আমরা আমাদের আশেপাশে যা দেখি, যা অনুভব করি, সেগুলো লিখে ফেললেই কিন্তু গল্প হয়ে যায়। সবগুলো লেখাই যে পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে, তা নয়। কিন্তু যদি কোন লেখকের একটা গল্পও পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়, সেখানেই লেখকের স্বার্থকতা। কাজেই লিখতে হবে বেশি বেশি করে। চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও বলবো, নিজ পেশার পাশাপাশি যদি একটু লেখালিখি করেন, তাহলে একঘেয়েমি দূর হবে, মনের খোরাক জুটবে। আর, এক একটা পেশেন্ট এর জীবন তো - এক একটা গল্প।

মেডিভয়েস: আপনার প্রিয় লেখক, বই কোনটা?

ডা. সুমনা তনু শিলা: বিভূতিভূষণ এর পথের পাঁচালী, শরৎচন্দ্রের পল্লী সমাজ, হুমায়ূন আহমেদ এর হিমু সমগ্র, মার্ক টোয়েন এর দুঃসাহসী টম সয়ার।

মেডিভয়েস: আপনার শিক্ষা জীবনের গল্প আর প্রত্যাশার কথা বলুন।

ডা. সুমনা তনু শিলা: আমি যশোর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে এসএসসি এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাস করি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমববিএস পাস করি ২০০২ সালে। বিএসএমএমইউয়ের অধীনে এমফিল করি ফিজিওলজিতে ২০১৯ সালে। আমি দীর্ঘ সাত বছর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনির রেজিস্ট্রার ছিলাম। আমার ছোট ছেলেটা জন্ম নেওয়ার পরে, ওকে দেখাশোনা করার জন্য গাইনি ছেড়ে দিই। কারণ সিলেটে আমাকে সাপোর্ট দেওয়ার মত কোন আত্মীয়-স্বজন ছিল না। ইচ্ছা আছে, যদি কখনো সময় বা সুযোগ হয়, গাইনির এফসিপিএস ফাইনাল পরীক্ষাটা আবার দেবো।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি