২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৩:৫৮ পিএম

ক্যান্সার আক্রান্ত ডা. মাসরুরা মুমিনুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

ক্যান্সার আক্রান্ত ডা. মাসরুরা মুমিনুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন (৫৪তম ব্যাচ) ছাত্রী ডা. মাসরুরা মুমিনু। গত ৮ মাস ধরে তিনি রেক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমাতে ভুগছেন। গরিব-দুঃখী মানুষের সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা পেশায় আসলেও এ মুহূর্তে দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিজেই হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। এতে নিজের স্বপ্ন-সাধ ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত দেড়মাস যাবৎ লাগাতার রক্তক্ষরণ  হচ্ছে মাসরুরার। দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন এক ইউনিট করে রক্ত পরিসঞ্চালন করেও বর্তমানে তার অবস্থা খুবই সঙ্গীন। এ অবস্থায় তাকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসা খুবই জরুরি। এ অবস্থায় চরম অসহায়ত্বে আচ্ছন্ন মুমিনু সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। আর চিকিৎসার বিশাল ব্যয় যোগান দিতে সবার অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা আলমগীর হোসেন।

এ প্রসঙ্গে ডা. মাসরুরা মুমিনু মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার গত দেড়মাস ধরে ব্লিডিং হচ্ছে। ব্লিডিং বন্ধের অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দিন দিন এটি বেড়েই চলেছে। গতকাল আমি আমার কোলোরেক্টাল সার্জনকে দেখিয়েছিলাম। স্যার আমাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডা. শামসুল আরেফীন স্যারকে দেখিয়ে কোলোনোস্কপি, এন্ডোসকপি করতে বলেছেন। শামসুল আরেফিন স্যার জানিয়েছেন, আমার এখনকার অবস্থায় পরীক্ষাগুলো করা খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই আগে স্যারের আন্ডারে ভর্তি হয়ে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে স্থিতিশীল হওয়ার পরামর্শ দেন'। 

তিনি বলেন, আমি যদি সেখানে ভর্তি হই তাহলে দেখা যায় যে, ‘সেখানে কেবিন ভাড়াই প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার মতো। সার্ভিস চার্জটাও অনেক বেশি। আর মেডিসিন, কনসালটেন্ট ফি মিলিয়ে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়। এ মুহূর্তে আমি আসলে বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত। সিদ্ধান্তহীনতায় আমি খুব অসহায় বোধ করছি। সবার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।’

ডা. মাসরুরা মুমিনু বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমার সম্মানিত স্যার ম্যাডাম, সিনিয়র, সহপাঠী ও জুনিয়র সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ আমার সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। সবার অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরছে, আমি এটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমি আমার বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করুন।’

চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে ডা. মাসরুরার বাবা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মাসরুরার ইন্টারনাল ব্লিডিংটা এখনও বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ক্যান্সার এখন তৃতীয় স্টেজে আছে। ইতিমধ্যে ক্যামোথেরাপী ১০টা ও রেডিওথেরাপী ৩০টা দেওয়া হয়ে গেছে। আমরা চাচ্ছি যে, ক্যামোগুলো দেয়ার পর এবং ব্লিডিংটা বন্ধ করাতে পারলে আমরা বিদেশে নিয়ে চেকআপের ব্যবস্থা করতে।’

খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও হয়তো ১৪/১৫ লাখ টাকা লেগে যাবে। অনেকেই সহযোগিতা করছে, বিশেষ করে চিকিৎসকরাও অনেক সহযোগিতা করছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরাও পাশে দাড়াঁচ্ছে। সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) প্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বময় সিএমসিয়ানদের অভূতপূর্ব সাড়া ক্যান্সার আক্রান্ত ডা. মাসরুরা মুমিনু ও তার পরিবারকে আপ্লুত করেছে। কিন্তু এখন সবচেয়ে জরুরী তার চিকিৎসা ত্বরান্বিত করা। সে তার বাবার সাথে ঢাকায় হোটেলে থেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো পরামর্শে বা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। তার বাবা এবং মাসরুরা অসহায় বোধ করছে। এ অবস্থায় তার চিকিৎসায় স্ব-প্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসার জন্য ঢাকায় অবস্থানরত সিএমসিয়ানদের অনুরোধ করছি।

ডা. মাসরুরা মুমিনুর সহপাঠী ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) সাবেক শিক্ষার্থী ডা. গোলাম দস্তগীর প্রিন্স বলেন, আমাদের হাতে খুবই কম সময় আছে। মাসরুরার চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের টাকা প্রয়োজন। আমাদের একজন বন্ধু হিসাবে, আমরা তার হাসি ফিরিয়ে আনতে চাই এবং এই যুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে চাই।

চমেকের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী শর্মী বড়ুয়া মৌ বলেন, আমাদের হাসিখুশি বান্ধবী মুমু নিজে একা একা লড়াই করতে করতে হাপিয়ে গেছে। এতোদিন কাউকে সে জানায়নি। আজ কতটা অসহায় হয়ে গিয়েছে একটু ভাবুন তো? নিজেকে ওর জায়গায় ভাবতে পারছি না। হয়তো আপনাদের সাহায্য আর অনুপ্রেরণা ওকে আবার বাঁচতে শিখাবে, প্রাণ খুলে আরেকবার হাসতে দিবে।

তিনি বলেন, আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে মানুষ আমাদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িঁয়ে দিয়েছে এবং অনেকেই আমাদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা দেশের বাইরে অনেক বাংলাদেশীদের থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। আপনাদের সাহায্য ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই কাজের সফলতা সম্ভব নয়।

মাসরুরাকে সাহায্য পাঠাতে:

মাসরুরার বাবার মোবাইল নং-01537414218
একাউন্ট নাম: Mohammad Alamgir, একাউন্ট নং— 1291030000206, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ও আর নিজাম রোড ব্রাঞ্চ, ব্রাঞ্চ কোড- 129, সুইফট কোড- DBBLBDDH, রাউটিং নম্বর- 090151480, চট্টগ্রাম।

শান্ত 01676238148 (বিকাশ)
সাকিব 01823928207 (বিকাশ, রকেট, নগদ)
প্রিন্স 01670974760 (বিকাশ, রকেট)

এছাড়াও মাস্টার কার্ড ব্যবহার করলে যে কেউ বাংলাদেশ থেকেও ফান্ডরাইজারে কন্ট্রিবিউশান করা যাবে।

রিজেন্ট ও জেকেজির প্রতারণার বিষয়ে ব্যাখ্যা

‘মহতী উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতারিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর’

কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির অবনতি: একদিনে সর্বোচ্চ ২,২৮,১০২ আক্রান্ত

রিজেন্ট ও জেকেজির প্রতারণার বিষয়ে ব্যাখ্যা

‘মহতী উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতারিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর’

কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির অবনতি: একদিনে সর্বোচ্চ ২,২৮,১০২ আক্রান্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি