২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:৩৮ পিএম

বায়ুদূষণ: মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢাকাবাসী!

বায়ুদূষণ: মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢাকাবাসী!

বেলাল হোসেন রাজু: রাজধানী ঢাকা। দেশের ব্যস্ততম এ শহরে মাত্রাতিরিক্তভাবে রাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ঢাকাবাসী। 

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে ঢাকার স্কোর ছিল ২৩০, যার অর্থ হচ্ছে রাজধানীর বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ । এছাড়া ঢাকা ও এর আশপাশের ৫৯টি এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ছয় লাখ মানুষ সীসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

গবেষণায় সীসা দূষণের উৎস হিসেবে ব্যাটারি রিসাইক্লিং করা হয়ে এমন ২০টি এলাকা, সীসা গলানো হয় এমন ২৩টি এলাকা, চারটি মাল্টিপল ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্ন শিল্প কারখানাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  ধুলা দূষণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, এলার্জি, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি হিসেবে দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই বেশি মাত্রায় দূষিত বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহার করে। সংস্থাটি আরোও জানায়, বায়ু দূষণ এমন একটি মারাত্মক প্রভাবক যার জন্য ২৪ শতাংশ পূর্ণবয়স্ক মানুষের হার্টের অসুখ, ২৫ শতাংশ স্টোক, ৪৩ শতাংশ পাল্মনারি রোগ এবং ২৯ শতাংশ ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে থাকে। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণ জনিত অসুখবিসুখের কারণে। কিন্তু সারা বিশ্বে এধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থার ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। 

বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে এ শহরের চারপাশে অবস্থিত ইটভাটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মোটর যান ১৯ শতাংশ, রাস্তার ধুলা ১৮ শতাংশ, মাটির কণা নয় শতাংশ ও ধাতু গলানোয় সাত শতাংশ মাইক্রো পলুটেন্ট বাতাসে মিশছে।

পরিবেশ অধিদফরের গবেষণায় প্রকাশ করে, ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটার ধোঁয়া ৫৮ শতাংশ দায়ী। বাকি ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী নির্মাণ ও মেরামতকাজের সঙ্গে আসা ধুলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া।

বায়ুদূষণের বৈশ্বিক কারণ:

বায়ুদূষণ কখনও প্রাকৃতিক কারণে আবার কখনও মানুষের দৈনন্দিন কাজের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর উপাদানের কারণে হয়ে থাকে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্র তরঙ্গসৃষ্ট লবণাক্ততা, ধুলোঝড় ও এসিড বৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক কারণ। 

মানুষের সৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ও পশুপাখির মৃতদেহ ফেলা। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বায়ু দূষিত হয়। জ্বালানি হিসেবে তেল, বিষাক্ত ও সীসাযুক্ত গ্যাস ব্যবহার, যান্ত্রিক যানবাহন, ইটভাটা, শিল্প ও কলকারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য, কৃষিজ বর্জ্য, খননের সময় খনির বর্জ্য বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। গাছ কাটা, বনে আগুন লাগা বা অন্য কোন কারণে বন কমে গেলে বায়ুমন্ডল দূষিত হয়। ক্ষেত খামারে ব্যবহৃত কীটনাশক ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য বায়ুদূষণ করে। 

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধে যেসব বোম, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে বায়ুদূষণ হচ্ছে। এসব অস্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহারেও বায়ুদূষণ হয়।

বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ সৃষ্টি করছে নানান স্বাস্থ্যঝুঁকি। 

দূষিত বায়ু শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণের ফলে দেশে অ্যালার্জি, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, হৃদরোগ সহ ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এতে বেশি ঝুঁকিতে থাকছে শিশু ও বয়স্করা।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞগণ। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া বায়ুদূষণ রোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছে তারা।   

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি