২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০২:১৩ পিএম
চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-২০১৯

সেরা গীতিকার অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ 

সেরা গীতিকার অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ 
পুরস্কার গ্রহণ করছেন অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ (বাম দিক থেকে প্রথম)। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

মো. মনির উদ্দিন: '১৪শ চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০১৯' এ ‘সেরা গীতিকারে’ ভূষিত হয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। 

গত ৩০ জানুয়ারি রাতে হবিগঞ্জের দ্য প্যালেস রিসোর্টে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। 

পুরস্কার গ্রহণের পর লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, 'আনন্দ বেদনার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে পুরস্কারটা ধরে আছি। তবে আনন্দ যতটা তীব্র, বেদনা তার চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ। এই গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে মাকে হারিয়েছি। ঢাকার বাইরে থেকে যখন বাসায় ফিরতাম, মা বারবার ফোন করতো, বায়জীদ, কত দূর? বায়জীদ, কত দূর? আমি বলতাম, এই তো চলে এসেছি। কিন্তু এখান থেকে মার কাছে আর ফেরা হবে না। বরাবরের মতো পুরস্কারটা তাঁর হাতে দেওয়া হবে না। সেই মা এখন আমাদের ছেড়ে কতদূর চলে গেলেন। জানি না কোথায় চলে গেলেন, কবে আবার দেখা হবে। বাবার কবরের পাশেই মাকে দাফন করেছি। বাবাকে হারিয়েছি ৫ বছর আগে।’

বাবা-মাকে এ পুরস্কার উৎসর্গ করে তিনি বলেন, ‘আব্বাজী-আম্মাজী তোমাদের জন্য এই পুরস্কার, যার কাছে তোমরা চিরতরে চলে গিয়েছো, সেই মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া, আমাকে এমন বাবা-মা উপহার দেয়ার জন্য, আজকের এই পুরস্কার উপহার দেয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, যে গানটার জন্য এই পুরস্কার সেই গানটার শিরোনাম ‘দেশহারা’, যার প্রতিপাদ্য বিষয় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক। কাজেই মার মতো মমতা নিয়ে যিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বুকে টেনে নিয়েছেন এ পুরস্কার সেই জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য। এ পুরস্কার গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল আবু বকর মারি তাম্বাদোউর জন্য এবং অতি অবশ্যই ওই নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য।

বাংলাদেশের সঙ্গীতজগত এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে উল্লেখ করে নিপসম পরিচালক জানান, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যেমন বিবিধ সুবিধা এনে দিয়েছে, আবার অনেক সমস্যাও তৈরি করেছে। গান রচনা, সুরারোপ, কণ্ঠদান—কারো কারো কাছে অতি সহজ মনে হচ্ছে। এগুলো যে শেখার বিষয়, চর্চার বিষয়, সাধনার বিষয় তা তাদের বিবেচনায় নেই। সঙ্গীত যে একটি শাস্ত্র সে সম্বন্ধে তারা উদাসীন। এ ক্ষেত্রে গানের কথায় সবচেয়ে শোচনীয় দশা। গানের কাব্যধর্মিতা যে অপরিহার্য তা আজ উপেক্ষিত। মোটকথা গানের শিল্পগুণ আজ বিপন্ন। এমন দুঃসময়ে চ্যানেল আই’র এই অব্যাহত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার্হ।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন ধরনের সংগীত এবং এর নানা শাখায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে গত ১৪ বছর ধরে সম্মাননা দিয়ে আসছে চ্যানেল আই। 

১৪তম আসরে অন্যান্য যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন। লোকসংগীত: বিউটি, রবীন্দ্র সংগীত: শিমু দে, নজরুল সংগীত:  ইয়াসমীন মুশতারী, আধুনিক গান: কোনাল, মিউজিক ভিডিও: সৈকত নাসির, কাভার ডিজাইন: সৈয়দ কামাল, সংগীত পরিচালক: প্রিন্স মাহমুদ, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার: এম.জি. কিবরিয়া, নবাগত শিল্পী: ঐশী, অভিও কোম্পানী: ধ্রুব মিউজিক স্টেশন, ছায়াছবির গান: আঁখি আলমগীর ও ব্যান্ড: শিরোনামহীন।

দেশের নবীন-প্রবীন শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল। উপস্থিত ছিলেন সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান, শেখ সাদী খান, মানাম আহমেদ, প্রিন্স মাহমুদ, নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু, চিত্রনায়ক সাইমন, সংগীতশিল্পী মো. খুরশীদ আলম, সৈয়দ আবদুল হাদী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফেরদৌস আরা, সামিনা চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, অনিমা রায়, মেহরীন, রমা, বিউটি, কিশোর দাস, ঝিলিক, ইমরান, কনা, কোনাল, পিন্টু ঘোস, সজিব, শারমিন, ইতি, খায়রুল, তিন্নি, অবন্তী সিঁথি, বাপ্পি, শফিক তুহিনসহ আরো অনেকে। সেই সাথে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক এবং সরকারি ও বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইজাজ খান স্বপনের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। 

অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদের বেড়ে ওঠা  

জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় ১৯৬৮ সালে নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশী রিয়াজ। তবে তাঁর শৈশব-কৈশোর-যৌবন কেটেছে ঢাকা শহরে। পড়াশোনা করেছেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ওখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। পরে জাপানের নাগুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। 

পারিবারিক জীবন 

অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের স্ত্রী রুমান কাইয়ুম পেশায় একজন গৃহিনী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোম ইকোনমিক্সে মাস্টার্স করেছেন। তার দুইজন কন্যা সন্তান রয়েছে। শহীদ বীরোত্তম আনোয়ার গার্ল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করছে। বড় মেয়ে এ বছর ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে আছে। ছোটজন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। বাবা মুহাম্মদ শফীউল্যাহ সরকারি চাকরি করতেন। তিনি প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান সংস্থায় ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালে বাবা মারা যান। আমার মা খোরশেদা পাহলোয়ান শিক্ষয়ীত্রি ছিলেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশলয় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ২৫ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। গত ২৪ জানুয়ারি না ফেরারে দেশে পাড়ি দেন খোরশেদা পাহলোয়ান। 

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করার পর ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি হাসপাতালে কাজ শুরু করেন অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। রাজধানীর নয়াবাজারে ওই শ্রমজীবী হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দুই বছর কাজ করেন তিনি। পরে ১৭তম বিসিএসে কোয়ালিফাই করেন। এরপর নবাবগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, মিরপুরে ইউনানী এবং আয়ুর্বেদিক কলেজ, জাতীয় বাতজ্বর ইনস্টিটিউট এবং কিছু দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ-টুর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে। ২০১৬ থেকে নিপসমের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
বাংলাদেশের গাইনী এবং অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী

স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী