২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৪:৪৫ পিএম

বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু

বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু

বেলাল হোসেন রাজু: বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (প্রতিস্থাপন) শুরু হয়েছে। 

আজ ২০ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে  এ ঘোষণা দেয়া হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান ও মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সিইও অধ্যাপক এম এ রশীদ, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীসহ চিকিৎসক দলের সদস্যরা।

এর আগে গত ১৩  ফেব্রুয়ারি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে সফলভাবে কুমিল্লানিবাসী জাহানারা খাতুনকে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এতে অংশ নেন হাসপাতালের অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। অসুস্থ জাহানারাকে লিভারে একটি অংশদান করেন তার ছেলে অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে লিভারদাতা ও গ্রহীতা দুজনেই সুস্থ আছেন।

বক্তারা জানান, বারডেম হাসপাতালে ১৯৯৯ সালে প্রথম হেপাটো-বিলিয়ারি-প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১০ সালের জুন মাসে বারডেম হাসপাতালে বাংলাদেশে প্রথম সফল যকৃৎ প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ করা হয়। দ্বিতীয় সফল অস্ত্রোপচার ঘটে ২০১১ সালের আগস্টে। ওই সার্জারি টিমের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। সর্বশেষ গত ১৩  ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালের ৩য় লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। 

প্রসঙ্গত, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ থেকে ৭ ভাগ হেপ ‘বি’ এবং এক ভাগ হেপ ‘সি’তে আক্রান্ত। তাদেরই একটি অংশ পরে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের শিকার হয়। প্রায় ১ কোটি মানুষ নানা ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ ভাগেরই লিভার সিরোসিস হতে পারে। এই পর্যায় থেকেই মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত বা লিভারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে মারা যায়। কোনো ব্যক্তির রোগাক্রান্ত বা অকার্যকর লিভার সম্পূর্ণ অপসারণ করে সেই স্থানে দাতা ব্যক্তির সম্পূর্ণ অথবা আংশিক সুস্থ লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। যুগান্তকারী এই জটিল চিকিৎসাপদ্ধতি বিশ্বে প্রথম শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। সেই থেকে লাখ লাখ ‘লিভার ফেলিউর’ রোগীর জীবন রক্ষাকারী একমাত্র শেষ চিকিৎসা হিসেবে শুধু প্রতিস্থাপন করাটাই গণ্য হচ্ছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি