১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৯:৩১ পিএম

দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি সেই ঢামেক শিক্ষার্থী

দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি সেই ঢামেক শিক্ষার্থী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় (সিজোফ্রেনিয়া) আক্রান্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজকুমার শীল ও তার ভাই আনন্দ কুমার শীলকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে তাদের ভর্তি করা হয়।

সেখানে তারা কে-৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাকিরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের চিকিৎসায় কে-৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জলধি, কে-৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেডিসিন বিভাগের ডা. নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হয়েছে।

বোর্ডে কে-৪০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রংপুর মেডিকেল কলেজের ডা. নাহিদ রেজাও রয়েছেন।

এছাড়াও তাঁদের চিকিৎসায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মেহেদি, কে-৫৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ডা. সোহাগসহ স্থানীয় পেশাজীবী নেতারা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন।

জানতে চাইলে রাজকুমার শীলের মা পার্বতী রাণী শীল মেডিভয়েসকে বলেন, রাজ কুমারের সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট দিলে বোঝা যাবে তার সমস্যা কোন পর্যায়ে আছে।

চিকিৎসকদের আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা হাসপাতালে তাদেরকে আগামী চার-পাঁচ দিন থাকতে বলেছেন বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আলী হোসেন শাহ মেডিভয়েসকে বলেন, বিরামপুর থেকে কয়েকটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো হয়েছে। সেখানে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

যেভাবে পথ হারান রাজকুমার শীল

দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজি ও ফরেনসিকে অকৃতকার্য হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী রাজকুমার শীল। এতে গুরুতর মানসিক অসুস্থ (সিজোফ্রেনিয়া) হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যান ঢামেক কে-৪০ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী। বেঁচে থাকার তাগিদে এক পর্যায়ে কাজ নেন এক ভুষি কারখানায়। দিন শেষে ২০-৩০ টাকা মজুরি পান। আর এভাবেই চলছিল এ মেধাবী মানুষটির জীবন।

এ নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মেডিভয়েসে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। 

ব্যাচমেট ও ঢামেকসহ তার সময়ের অনেক চিকিৎসক রাজকুমারের খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেন। এগিয়ে আসেন তাঁর চিকিৎসায়।   

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পর ১৪/১৫ বছর ধরে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান রাজকুমার। সে সময় একটি কারখানায় কাজ করতেন। মাঝে এক বছরের মতো পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন। 

তাঁর মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল রাজকুমার। 

রাজকুমারের বাবা নগিনা শীল পেশায় নাপিত হলেও চার ছেলের একজন বাদে কাউকেই সেই পেশায় আসতে দেননি। তার আরও দুই ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন।

একই রোগে আক্রান্ত তার আরেক ভাই আনন্দ কুমার শীল রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি