১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০২:০৮ পিএম

গ্রন্থমেলায় পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে চিকিৎসকদের বই

গ্রন্থমেলায় পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে চিকিৎসকদের বই

বেলাল হোসেন রাজু:  বাঙালির অন্যতম প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের মেলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। মেলায় প্রতি বছর প্রকাশিত হয় কয়েক হাজার নতুন বই। প্রকাশনায় পিছিয়ে নেই স্বাস্থ্য খাতের প্রাণ ভোমরা চিকিৎসকরাও। স্বাস্থ্য বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ সহ সাহিত্যের সব শাখায় সরব উপস্থিতি রয়েছে তাঁদের।

এবারের মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে চিকিৎসকদের লেখা প্রায় দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার অনেক চিকিৎসকের বেরিয়েছে একাধিক বই। লেখালেখির মাধ্যমে তৃপ্তি খুঁজে নেওয়ার এ প্রতিযোগিতা যেন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনের বার্তা।

গ্রন্থমেলায় ডা. মোহিত কামালের উপন্যাস ‘হ্যাঁ’ ও অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলামের ‘পজেটিভ সাইকোলজি’ নামের দুইটি বইসহ চিকিৎসকদের লেখা অনেক বই ইতিমধ্যে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। 

জানা গেছে, মেলায় প্রায় আড়াই হাজার নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। অপেক্ষায় রয়েছে আরও হাজার খানেক বই।  তবে এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবার প্রত্যাশা করছেন কৃর্তপক্ষ। 

চিকিৎসকরা শুধু রোগী দেখাতেই সীমাবদ্ধতা নন। তারা সাহিত্য চর্চায় এগিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপারে ইউনাইটেড মেডিকেলের এনাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম জানান, যে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি লেখালেখি করছেন তাঁদের তিনি শুভেচ্ছা জানান। নিশ্চয়ই তারা লেখালেখির মাধ্যমে বাঙলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্যখাতকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছেন। চিকিৎসকরা যাতে লেখালেখির ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন সে প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেন। 

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কালাম বলেন, ‘আমার সাহিত্য সত্ত্বাটা শিশু কাল থেকেই। এজন আমাকে যদি কেউ কথা সাহিত্যিক মোহিত কালাম বলে, আমার খুব ভালোলাগে।  তারপরেও আমি মনোবিদ হিসেবে বিশ্বব্যাপী যে সুনাম, প্রশংসা অর্জন করেছি, সেটাকেও আমি এনজয় করি, সেটা আমার আলাদা সত্ত্বা। যখন বই মেলায় আসি বা লেখালেখির জগতে আসি, সাহিত্যের জগতে আসি, তখন আমার সাহিত্য সত্ত্বাটা আমাকে বেশি স্পন্দিত করে, আলোড়িত করে।’

বাস্তবভিত্তিক হওয়ায় চিকিৎসকদের বই ছাপাতে প্রকাশকরাও বেশ আগ্রহী। এনিয়ে প্রকাশক অঞ্জন হাসান পবন বলেন, চিকিৎকদের লেখা বই পাঠকরা বেশ আগ্রহ দেখায়। এসব লেখা বইয়ের বেশ চাহিদাও থাকে। তাছাড়া চিকিৎসকদের লেখা স্বাস্থ্য বিষয়ক বই পাঠকরা বেশি ক্রয় করে। তাই কোন চিকিৎসক পাণ্ডুলিপি নিয়ে আসলে আমার চেষ্টা করি বইটি প্রকাশ করতে । 

নতুন নতুন বই প্রকাশের মধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা দেশের সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করছেন। একদিন এসব লেখকদের থেকেই আধুনিক মেডিসিনের জনক ক্ষুরধার লেখক ও ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ওসলার ও একুশ শতকের কথাসাহিত্যিক খালিদ হুসাইনির মতো লেখক এই তৈরি হবে, বিশেষজ্ঞদের এমনটাই প্রত্যাশা।  

প্রসঙ্গত, এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি স্টলসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ ছাড়াও ৬টি উন্মুক্ত স্টল রাখা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯ সালে ৪৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিলো। ওই বছর ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার বই বিক্রয় হয়েছিল।  ২০১৮ সালে ৪৫৯১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল। ওই বছর বিক্রয় হয়েছিল ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই। 

গ্রন্থমেলা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন  দেখতে..

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি