১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:৩৭ পিএম

১৪ দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শাহমুখদুম মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা

১৪ দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শাহমুখদুম মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে প্রায় সাত বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ। ভর্তি হয়ে বিপাকে পড়েছেন এখানকার ২০০ শিক্ষার্থী। প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনসহ ১৪ দফা দাবিতে মানববন্ধনসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ‘বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই গত সাত বছর ধরে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি পাস করা কয়েকজন শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস পাস করে। কিন্তু বিএমডিসির অনুমোদন না থাকায় তারা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাননি। এর পর বিষয়টি জানা জানি হয়। পরে বিএমডিসির অনুমোদনসহ ১৪ দফা দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।’

প্রতিষ্ঠানটি থেকে এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘নানা সংকটের মধ্যেও আমি গত বছর ১২ মার্চ এমবিবিএস পাস করেছি। কিন্তু ইন্টার্নশিপ করতে পারছি না। সেটি জানতে বার বার মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বানস্থ হয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যেন আমি বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করি। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন এখনও হয়নি। এ কারণে ইন্টর্নশিপ করতে পারছি না। চারজন এমবিবিএস পাস শিক্ষার্থীর একই অবস্থা বলে জানান তিনি।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের লাগাতার ক্লাস বর্জন ও আন্দোলনের মুখে অচল রাজশাহীর বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ব্যাচের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও সকল ছাত্রদের শনিবার রাত ৮টা এবং ছাত্রীদের রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “শিক্ষার্থীরা বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশনের দাবীতে গত ০৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যহত ভাবে ক্লাস বর্জন, পথসভা, সাংবাদিক সম্মেলন ও মিছিল-শ্লোগান করে আসছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সাথে দফায় দফায় আলোচনায় বসেন। তাদের কাছ লিখিত দাবি চাওয়া যাওয়া হয় এবং প্রতিনিধি মাধ্যেমেও দাবীনামা চাওয়া হয়। তাতে তারা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্দোলনের সময় চেয়েছিল। অতঃপর শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে ক্লাস বর্জনের কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।

এ অবস্থায় দ্রুত পরিস্থিতিতে আইন শৃংখলা অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের সকল ব্যাচের ক্লাস ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হল। এছাড়াও ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার মধ্যে সকল ছেলেদের এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে সকল ছাত্রীদের হোষ্টেল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।”

জানতে চাইলি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘বিএমডিসির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তারা পরিদর্শন করেছেন এবং কিছু শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে। হয়তো দ্রুত আমরা অনুমতি পেয়ে যাবো।’

তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী হয়তো কারো প্ররোচণায় আন্দোলনে নেমেছে। তারপরও তারা তাদের ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতেই পারে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি কিন্তু তারা শুনেনি। ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। সে কারণে প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’শিক্ষার্থীরা জানান, ‘বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই গত সাত বছর ধরে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি পাস করা কয়েকজন শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস পাস করে। কিন্তু বিএমডিসির অনুমোদন না থাকায় তারা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাননি। এর পর বিষয়টি জানা জানি হয়। পরে বিএমডিসির অনুমোদনসহ ১৪ দফা দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।’

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ব্যাচে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দুই ব্যাচ ও চতুর্থ ব্যাচে ২৫ জন করে এবং পরবর্তীতে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ ছিল। কিন্তু কলেজটির অনুমোদন না থাকায় আসন ফাঁকায় থেকে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কলেজে পরিদর্শন শেষে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন দেয়। কিন্তু সেখানে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এ অনিয়ম রাবি কলেজ পরিদর্শকের নজরে আসার পর ২০১৬ সালে সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত করা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা না মেনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করে গেছে কলেজটি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি