১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৪:৩৭ পিএম

বিদেশি চিকিৎসক আনার প্রক্রিয়া পরিবর্তন হয়েছে: বিএমডিসি চেয়ারম্যান

বিদেশি চিকিৎসক আনার প্রক্রিয়া পরিবর্তন হয়েছে: বিএমডিসি চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

মো. মনির উদ্দিন: ঢালাওভাবে বিদেশি চিকিৎসক আসা কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট একটি মানদণ্ড করে দেওয়ার ফলে বিদেশি চিকিৎসকের আসার পথ প্রায় নব্বই ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে।

মেডিভয়েসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, সিএমই ও ফ্রি ক্যাম্পেইনের নামে নিয়ম ভঙ্গ করে বিদেশি চিকিৎসকদের সেবা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর ভূমিকা নিচ্ছে বিএমডিসি।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা বড় ধরনের একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছি।  বাংলাদেশে সিএমইর নামে, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের নামে বিদেশি ডাক্তারদেরকে এনে আমাদের দেশে রোগীদেরকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এর সঙ্গে যদি আবার এটা শোনা যায়, এখানে একটি বাণিজ্যের ব্যাপার জড়িত। তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত কাজ!’

বিদেশি চিকিৎসকদের আনার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে বিএমডিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা এত দিন অন্য নিয়মে চলছিল। মাত্র এক বছর আগে এ ধারাটির পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে নিয়ম ছিল, বিদেশি চিকিৎসক আনতে আগ্রহীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্য নিতো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতো, কখনো কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাদেরকে আনতে চাইতো। তার বিএমডিসিকে বলতো আমরা অনুমতি নিয়েছি, আপনারা অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন দেন। এ অবস্থায় আমাদের হাত-পা বাঁধা ছিল, …অনুমতি নিয়েই তো নিয়েছে। ডিজি অফিসের মাধ্যমে আসতো, আমাদের তখন ছিল ক্লারিক্যাল জব। আমরা কেবল দেখতাম, যে এসেছে সে আসলে ডাক্তার কিনা, তার রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা! এটুকুই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন দেশের চিকিৎসক সমাজও এ ব্যাপারে সোচ্চার হলো এবং বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলো, বিএমএ’র কাছে গিয়ে বললো এভাবে ঢালাওভাবে বিদেশি চিকিৎসক আনতে দেওয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োজন সাপেক্ষে অনুমতি দিতে হবে। আমরা তখন এ দাবিকে ভীষণভাবে সমর্থন দিলাম। বিএমএ এবং মন্ত্রণালয়ও এতে সমর্থন দিল। ’

অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, এখন নিয়ম হলো, কোনো বিদেশি ডাক্তার আনতে হলে প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করবে, তারা যদি মনে করে বিষয়টি এগুতে দেবে, তাহলে দেওয়া হবে অথবা না। তারা মনে করলে এটা বিএমডিসির কাছে পাঠাবে। তার পর বিএমডিসি পর্যবেক্ষণ করবে, কে আসছেন? তিনি কোন বিষয়ের? তাঁর মান কেমন? ওই চিকিৎসক এলে এদশের কোনো লাভ হবে কিনা? কত দিন থাকবেন? স্বল্প সময়ের জন্য এলে এক রকম আর দীর্ঘ সময়ের জন্য আরেক রকম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কয়জন চিকিৎসককে তিনি সহযোগী হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন?

তিনি আরও জানান, এ সব বিষয়ের আলোকে একটি মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে আনা শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় নব্বই ভাগ বিদেশি চিকিৎসকের আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দশ ভাগ আছে ট্রান্সফার অব টেকনোলজি নামে, যারা যৌক্তিক কারণেই আছে। এর পরও তারা শুনতে পান, কিছু কিছু জায়গায়  নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে।  এ ব্যাপারে বিএমডিসি কঠোর ভূমিকা নিচ্ছে। খবর পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ রকম কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে বিএমডিসি বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়ে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলবে। এ রকম অনেক দৃষ্টান্ত আছে। 

এ ব্যাপারে বিএমডিসি শক্ত অবস্থানে আছে উল্লেখ করে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিদেশি চিকিৎসকরা আসবেন ট্রান্সফার অব টেকনোলজি নামে। এটা হতে হবে নিয়মমতো ও নিয়ন্ত্রিতভাবে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি