১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৭:৫০ পিএম

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা: প্রাণ গেলো ছয় চিকিৎসকের

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা: প্রাণ গেলো ছয় চিকিৎসকের

মেডিভয়েস ডেস্ক: চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ছয়জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মরণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৭১৬ জন চিকিৎসক-নার্স।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমন খবর দিয়েছে। প্রথমবারের মতো আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সদের সংখ্যা প্রকাশ করলো চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্সরাও দ্রুত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। আজ শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ছয় চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। 

এছাড়া দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৭১৬ জন চিকিৎসক-নার্স। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১০২ জনই হুবেই প্রদেশের উহান শহরের। 

জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক জেং ইজিনের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চীনে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৮ ভাগই চিকিৎসক। আর মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪ ভাগ। 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের এক নার্স গত বুধবার চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে লিখেছেন, তাঁর প্রায় ১৫০ জন সহকর্মী নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। 

পোস্ট তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে চিকিৎসাধীন আছি, সেখানকার রোগীদের বেশির ভাগই আমার সহকর্মী।’

ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক বেনজামিন কাউলিং বলেছেন, চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব চিকিৎসকদের। অথচ তাঁদেরই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনা চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটির সাধারণ মানুষ। প্রাণঘাতী করোনার ব্যাপারে তিনিই সর্বপ্রথম সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। ৭ ফেব্রুয়ারি এই করোনায় আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় তাঁর।

উহান সেন্ট্রাল হসপিটালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ লি উহানের সাত ব্যক্তির মধ্যে একটি ভাইরাসের সংক্রমণ দেখতে পেয়েছিলেন। ভাইরাসটি তাঁর কাছে সার্সের মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু সে সময় পুলিশ তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। 

গত ৩০ ডিসেম্বর লি একটি চ্যাট গ্রুপে বার্তা দিয়ে তাঁর সহকর্মী চিকিৎসকদের ভাইরাসটির ব্যাপারে সতর্ক করেন। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি তাঁর সহকর্মী চিকিৎসকদের সুরক্ষামূলক পোশাক পরার পরামর্শ দেন। চার দিন পর লিকে তলব করে পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো। তাঁকে একটি চিঠিতে সই করতে বলা হয়। চিঠিতে লির বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে তাঁর মন্তব্য সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই চীনে মারা গেছে ২৪২ জন, এখন পর্যন্ত যা এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও