১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৩:৫৫ পিএম

মমেক হাসপাতালে সর্বাধুনিক ‘ক্যাথল্যাব’ চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা

মমেক হাসপাতালে সর্বাধুনিক ‘ক্যাথল্যাব’ চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হার্টে রিং পরানোর সর্বাধুনিক ‘ক্যাথল্যাব’ মেশিন স্থাপন করা হলেও এটি চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করার কথা থাকলেও অনুষ্ঠানে ‘প্রধান অতিথি’ করার ব্যাপারে একটি মহল হাসপাতালের পরিচালককে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে কে হতে চান প্রধান অতিথি -এমনটি জানা যায়নি।

স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যাথল্যাব চালু হওয়ার কথা থাকলেও একটি মহল কোনো এক নেতাকে প্রধান অতিথি করা নিয়ে দৌড়ঝাপ ও সমস্যা তৈরি করছে। আমি চার বছর তিন মাসে স্বেচ্ছায় কোথাও প্রধান অতিথি বা উদ্বোধক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিনি। আমি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করি, আমার কারো স্বীকৃতির বা সম্মানের প্রয়োজন নেই।’

স্ট্যাটাস দেওয়ার পর অনেকেই কমেন্টস বক্সে প্রধান অতিথির নাম জানতে চান। আবার অনেকেই পরিচালকের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে সাহস জুগিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, হার্টের নিজস্ব রক্তনালির রক্তচলাচল কি অবস্থায় আছে সেটি দেখার পদ্ধতির নাম এনজিওগ্রাম। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাবে এটি করা হবে। এই মেশিন দিয়ে হৃদরোগ বিষেশজ্ঞগন হার্টের নিজস্ব রক্তনালির রক্তচলাচল কেমন আছে তা সরাসরি দেখতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ রক্তনালির রক্তচলাচল বেলুন ও রিংয়ের (স্টেন্ট) মাধ্যমে সচল করে দিতে পারেন। এছাড়াও এর মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের রোগীগন পুনরায় স্বাভাবিক জীবন ফিরে পান।

এ ব্যাপারে ডা. মো. নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত এনজিওগ্রামের ফি রয়েছে। এছাড়া এনজিওপ্লাস্টির জন্য অর্থাৎ রিং বা স্টেন্ট পরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বেলুন, স্টেন্ট, ক্যাথেটারসহ অন্যান্য উপকরণের সরকার নির্ধারিত মূল্য রয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট রোগীকে বহন করতে হবে। মূল্য তালিকা কার্ডিওলজি বিভাগে দেয়া থাকবে। এছাড়াও টেম্পোরারি পেসমেকার, পার্মানেন্ট পেসমেকার স্থাপন করার কাজও চলবে সরকারি মূল্যেই। তবে গরীব রোগীদের হতাশ হবার কারণ নেই। যথাযথ প্রমান সাপেক্ষে ফ্রী এনজিওগ্রাম এবং প্রয়োজনে ফ্রী স্টেন্ট পরানোর ব্যবস্থা করা হবে। যতদিন আল্লাহ আমাকে তৌফিক দেন।

তিনি আর বলেন, আপনাদের হাসপাতাল। এর সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি চলে গেলেও এ হাসপাতালের স্বাভাবিক গতির জন্য আপনাদের সবার দায়িত্ব আছে; যাতে হাসপাতাল দুর্বৃত্তদের আস্তানা না হয়। আমি ৪ বছর ৩ মাস নিরলসভাবে আপনাদের সহযোগিতায় যতটা সম্ভব করেছি। আপনারা হাসপাতালকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, ৮শ শয্যা বিশিষ্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কপালে জুটে না হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা। বিশেষ করে ক্যাথল্যাবের অভাবে জটিল রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ অন্য সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অথচ এ হাসপাতালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাজীপুরের একাংশের মানুষ এখানে চিকিৎসা সেবা নেন। এ হাসপাতালের ২০ শয্যার হৃদরোগ বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০জন রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু ক্যাথল্যাব মেশিন না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। তবে, অত্যাধুনিক এই ক্যাথল্যাব কার্যক্রম চালু হলে রোগীদের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি