০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৪:৩৩ পিএম

চীনফেরত শিক্ষার্থীকে নিয়ে তোলপাড়, যা জানা গেল

চীনফেরত শিক্ষার্থীকে নিয়ে তোলপাড়, যা জানা গেল
হাসপাতালটির চিকিৎসকদের দেখা গেছে, জীবানু প্রতিরোধী বিশেষ পোশাক, মুখোশ, চশমা আর দস্তানা পরে কাজ করছেন। ছবি বিসিসি বাংলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চীনফেরত তাশদীদ হোসেনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবগঠিত করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। 

রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট বা আইইডিসিআর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবারেই রংপুরে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ছাত্রটির রক্ত, লালা আর ঘামের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে ঢাকায় আনিয়েছে।

আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যশকে বলেছেন, পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ছাত্রটির শারিরীক অবস্থা এখন ভালো আছে। তবে ছাত্রটির করোনাভাইরাস হয়েছে সন্দেহে এরই মধ্যে একধরণের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রংপুরে।

চীনফেরত এই শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে তোলপাড় চলছে। শ্বাসকষ্ট ও বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের নবগঠিত করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীটির ব্যাপারে খোঁজ নিতে স্থানীয় অনেক সাধারণ ব্যক্তি, অনেকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে ভিড় জমিয়েছেন। 


ওই শিক্ষার্থীর বাবা যা বললেন:

তাঁর ছেলে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান আড়াই বছর আগে। ২৯ জানুয়ারি দেশে ফেরেন। ছেলের শরীরে জ্বর নেই। তবে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে প্রথমে তাঁকে সিভিল সার্জনের নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সিভিল সার্জন বাড়িতে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে বলেন। কোনো পরিবর্তন হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি। এখন তাঁকে হাসপাতালের আইস্যুলেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বিশেষ পোশাক পরে তাঁর চিকিৎসা করছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবগঠিত করোনা ইউনিট।  ছবি: বিবিসি বাংলা
করোনা ইউনিট:

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সম্প্রতি রংপুর মেডিকেল কলেজে করোনা ইউনিট খোলা হয়। রোববার সকালে ছাত্রটির চিকিৎসায় মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের বোর্ড গঠন করেছে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। 

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের দুটি বেডকে আলাদা করে এ ইউনিট বানানো হয়েছে। চার সদস্যের একটি বিশেষ চিকিৎসক দলও গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ঐ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। 


প্রসঙ্গত, তাশদীদ হোসেন চীনের আনহুই ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড টেকনোলজির সিভিল বিভাগের শিক্ষার্থী।  তাঁর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডোমারের মির্জাগঞ্জ গ্রামে।  তিনি ২৯শে জানুয়ারি চীন থেকে ফেরেন। চীনে একদফা এবং ঢাকায় বিমানবন্দরে আরেকদফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তার।  এরপর নীলফামারীতে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি।  চীন থেকে ফেরার আটদিন পর তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।  শ্বাসকষ্ট শুরুর তিনদিন পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

 

রাজু/মেডিভয়েস/ঢাকা

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি