০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১০:৩৮ এএম
চীনে করোনাভাইরাস

ক্লান্ত শরীরে হাসপাতালের চেয়ার-মেঝেতেই ঘুমাচ্ছেন চিকিৎসকরা

ক্লান্ত শরীরে হাসপাতালের চেয়ার-মেঝেতেই ঘুমাচ্ছেন চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২২ জনে। সেইসঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চীনের চিকিৎসকদের। অবস্থা এমন পর্যায়ে রূপ নিয়েছে যে, রাতে ঘুমানোর জন্য বাড়ি যাওয়ার সুযোগও মিলছে না তাদের। ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের চেয়ার, বেঞ্চ এমনকি মেঝেতেও ঘুমিয়ে নিচ্ছেন অনেক চিকিৎসক।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকদের হাসপাতালে ঘুমানোর বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ পোশাক ও মাস্ক পরিহিত অবস্থায়ই ৮ জন চিকিৎসক হাসপাতালের মেঝেতে পাশাপাশি ঘুমাচ্ছেন। আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, রোগীর চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়া চিকিৎসকেরা বাসায় যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে নিজের ডেস্ক এবং বেঞ্চেই ঘুমাচ্ছেন।

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন এত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার চাপ থাকলেও নিজেদের দায়িত্বে এতটুকু ছাড় দিচ্ছেন না দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরা। নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়েই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। অনেকে টানা ২৮-৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করছেন। এরই মধ্যে দেশটিতে জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন তাঁরা। এক চিকিৎসক বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। হাজার হাজার রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন। আমি কখনো হাসপাতালে একসঙ্গে এত রোগী দেখিনি।’

চীনের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বেশ কম। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য গড়ে মাত্র দুজন চিকিৎসক আছেন। উহানে চিকিৎসক সংকট দেখা দেওয়ায় অন্য প্রদেশগুলো থেকেও ৬ হাজারের বেশি চিকিৎসক উহানের হাসপাতালগুলোতে এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। আরও চিকিৎসকের উহানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২২ জনে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, শনিবার পর্যন্ত নতুন করে ৮৬ জন মারা গেছেন, যাদের ৮১ জনেই হুবেই প্রদেশের। সেইসঙ্গে নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৯ জন। এনিয়ে চীনজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৫৪৬ জনে দাঁড়ালো। 

ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানায়, চীনের বাইরে সব চেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জাপানের মানুষ। সেখানে ইতিমধ্যে ৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এরপরেই আছে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর৷ সেখানে ২৫ ও ২৪ জন এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে সব থেকে বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জার্মানিতে। আক্রান্তের সংখ্যা ১২। বেলজিয়ামে এই প্রথম এক জনের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে। উহান থেকে মোট নয় জন বেলজিয়াম ফিরেছিলেন, তার মধ্যেই একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও