০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৭:৩৯ পিএম

সিজার বেড়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক, এটা গ্রহণযোগ্য নয় 

সিজার বেড়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক, এটা গ্রহণযোগ্য নয় 
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার

প্রসবজনিত ফিস্টুলা সমস্যার জন্য যখন মায়েদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, তখন তাদের জন্য আশার প্রতীক হয়ে যে চিকিৎসক আবির্ভূত হন তিনি হচ্ছেন অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। নিজ উদ্যোগে অসহায় মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য গড়ে তুললেন মামস ইনস্টিটিউট। তাঁর আবিষ্কৃত কনডম ক্যাথেটার দিয়ে স্বল্প খরচে নারীদের প্রসবকালীন রক্তপাত বন্ধ করার যুগান্তকারী পদ্ধতি আজ ব্যবহার হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশে। গুণী এই চিকিৎসক সারাজীবন কাজ করেছেন নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নে। এখনও অবিরত রয়েছে তার পথচলা। টিম মেডিভয়েস সম্প্রতি সাক্ষাৎকারের জন্য মুখোমুখি হয়েছিল প্রখ্যাত এই চিকিৎসকের। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন, তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি পরামর্শসহ নানা দিক। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষারকার নিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ মামুন। 

মেডিভয়েস: আপনার আবিষ্কৃত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কনডম ক্যাথেটার কি?  

প্রফেসর ডা.সায়েবা আখতার: এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ডিভাইস, যা দিয়ে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়।  নারীদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রসব পরবর্তী মৃত্যুর অন্যতম কারণ।  এটা খুবই সাধারণ এর দাম ও একশো টাকার মধ্যে।  রক্ত বন্ধে এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে।  জরায়ুর ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে স্যালাইন দিয়ে ফুলিয়ে দিলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।  এ পদ্ধতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রক্ত বন্ধ করা যায়। এটার মাধ্যমে দুটি সুবিধা, এক মায়ের মৃত্যু কমানো ও জরায়ু অক্ষত রাখা যায়।  অর্থ্যাৎ কেটে ফেলতে হয় না।  এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে মায়ের জরায়ু রক্ষা করতে পারি।  তাছাড়া এর মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্যটাও রক্ষা করা সম্ভব।

মেডিভয়েস: এটা কত সালের ঘটনা, এর আবিষ্কার কিভাবে?

প্রফেসর ডা.সায়েবা আখতার: ২০০০ সালের ঘটনা।  হঠাৎ করে আমার মাথায় এ ধারণাটা আসে। ২০০০ সালে একটা প্রশিক্ষণ ছিল সেখানে একটা বেলুন এসেছিল প্রসবকালীন রক্ত বন্ধকরণের জন্য। এর দাম ছিল অনেক বেশি, প্রায় তিনশো ডলার।  তখন একটা বেলুন আমরা রেখে দিয়েছিলাম।  পরে এটা হারিয়ে যাও।  এ ঘটনার পরে আমাদের মন খুব খারাপ হয়ে যায়।  আমরা কিভাবে প্রসূতি মাকে বাঁচাবো।  এরপরের দিনই একজন প্রসূতি মা আসলো রক্তক্ষরণ নিয়ে। আমাদের সিনিয়র জুনিয়র অনেক প্রফেসরের সামনে মেয়েটা রক্তক্ষরণে মারা গেলো।  আমাদের যা যা পদ্ধতি ছিল আমরা সব করলাম, কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারলাম না। 

যেদিন মেয়েটা মারা গেল সেরাত্রে আমার ঘুম হয়নি। হঠাৎ করে আমার মনে হলো কনডমতো একটা মেডিকেল ডিভাইস। এটাকে তো বেলুনের মতো ফুলানো যায়।  এটাকে ব্যবহার করে হয়তো বা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারবো।  পরবর্তীতে আমার অপারেশন থিয়েটারে কনডমের ভেতরে এক লিটার স্যালাইন দিয়ে এটাকে ফাটানোরে চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারলাম না। পরের দিন একটা রোগী আসলো মৃত বাচ্চা নিয়ে এটা তার প্রথম বাচ্চা ছিল। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল ওই প্রসূতি মায়ের। সবরকম চেষ্টা করেও যখন তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যাচ্ছে না তখন আমাদের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার সিদ্ধান্ত নিলেন তার জরায়ু কেটে ফেলবেন।  তখন আমি অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির জরায়ুতে একটি কনডম এনে ফুলিয়ে তার ভেতর প্রবেশ করালাম। সাথে সাথে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেলো।

তখন আমার খুব আনন্দ পেলাম।  এইবার আমরা এটা দিয়ে কিছু একটা করতে পারবো।  তখন আমরা এটাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করার জন্য ২০০০ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত একটা গবেষণা চালাই।  সেখানে আমরা ২৩ জন রোগীর ওপর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করি।  যখন দেখলাম আমরা শতভাগ কৃতকার্য হই, তখন আমরা গবেষণা পেপারটি পাবলিশড করি। পরে ব্যাংককে মাতৃ-মৃত্যু নিয়ে একটা আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে আমি একটা প্রেজেন্টেশানে হাতে কলমে শিক্ষা দেই।  এ বিষয়টি খুবই প্রশংসিত হয়।  তারপর অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অবস্ট্রাটেটিকসে একটা শর্ট কমিউনিকেশন পাবলিশ করি।  পরবর্তীতে এটা নিয়ে অনেক দেশে বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোতে এটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়।  তারপর ২০১১ সালে রয়্যাল কলেজ অব অবস্ট্রেটিকস আমার এ কাজের জন্য আমাকে অনারারি এফআরসি দেয়।  এটা রয়্যাল কলেজের সেরা অ্যাওয়ার্ড।  তখন পর্যন্ত আমাদের দেশে কেউ এটা পায়নি। তখন পর্যন্ত আমিই প্রথম ছিলাম নন মেম্বারদের মধ্যে। 

মেডিভয়েস: আমাদের চিকিৎসকদের এতো আবিষ্কার উদ্ভাবন সাধারণ মানুষ জানতে পারে না কেন?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: আমার মনে হয় প্রচারণাটা অত্যন্ত কম। এছাড়া অনেকেই আছেন প্রচারবিমুখ। অনেকে এটা পছন্দ করেন না। যেমন: আমাদের উদ্ভাবনটাও আমরা তেমন কাউকে জানাইনি। এ কারণেই হয়তো বা আমাদের উদ্ভাবনগুলো মানুষ জানে কম। 

মেডিভয়েস: গাইনি সাবজেক্ট বেছে নেয়ার কোন কারণ আছে কিনা? 

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত। আমার গাইনি পড়ার কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। আমার এক বান্ধবীর সাথে জেদ করেই গাইনিতে আসা। সে আমাকে বলতো তুমি চিকনা পাতলা মানুষ তোমাকে দিয়ে গাইনি হবে না। আমি এখনও ওকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। ও যদি আমাকে এভাবে উস্কে না দিতো তাহলে আমি হয়তো গাইনি বিশেষজ্ঞ হতে পারতাম না।  বিশেষ করে মেয়েরা এবং মায়েরা খুবই অসহায়। তাদের সেবা করার সুযোগটা হয়তো হতো না। 

মেডিভয়েস: আপনার প্রতিষ্ঠিত মামস ইনস্টিটিউট সম্পর্কে জানতে চাই? 

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: অনেক মা আছেন যারা মরতে মরতে বেঁচে যায়।  তারা ভাগ্যবান। আবার এমন কিছু মা আছে যারা ভোগেন, তাদের চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউ নেই।  কিন্তু প্রসব জানিত কারণে মেয়েদের একটা সমস্যা হয় যেটাকে বলে ফিস্টুলা। আমি মনে করি, এই রোগে যারা বেঁচে যায় তারা দুর্ভাগা।  হয়তো মরে যাওয়টাও তাদের জন্য ভালো ছিলে। কারণ তারা বেঁচে থেকে ও মৃত।  তাদের সমস্যাটা হলো বাধাজনিত প্রসবের কারণে তাদের প্রসাব ও পায়ুপথের রাস্তা এক হয়ে যাওয়া।  দিনরাত তাদের প্রস্রাব-পায়খানা ঝড়ে।  আশপাশের লোকেরা তাদের ঘৃণা করে, তাদের ছেড়ে চলে যায়।  এমনকি অনেক স্বামীও তাদের ছেড়ে চলে যায়।  নিকটাত্মীয় এমনকি ভাই-বোনও কিন্তু তাদের বাসা বাড়িতে রাখেন না। 

একমাত্র বাবা-মা ছাড়া কেউ পাশে থাকেন না। এজন্যই বলছি, এ রোগ হলে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। তবে এ রোগের কিন্তু চিকিৎসা হচ্ছে এবং ভালোও হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষই জানেন না এ রোগের চিকিৎসা হয়। আমি যখন হাসপাতালে ডিউটি করতাম, তখন ভাবতাম যদি কোনদিন সুযোগ পাই তাহলে তাদের জন্য কিছু একটা করবো। আমার সুযোগটি আসে আমি যখন বরিশালে ছিলাম। তারপর যখন ঢাকা মেডিকেলে আসি তখন অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ঢাকা মেডিকেলে একটা ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার খুলি। 

আমি যখন ঢাকা মেডিকেল থেকে অবসর গ্রহণ করি তখন তাদের জন্য আমার মন কাঁদতো যে, তাদের জন্য কিছু করতে পারলাম না। তখন আমি মনে মনে চিন্তা করলাম বেসরকারিভাবে তাদের জন্য কিছু একটা করবো। আমি যা ইনকাম করি তা দিয়েই ছোটখাটো একটা ফিস্টুলা সেন্টার করতে পারবো। আমার এখানে যারাই ভর্তি হয় তাদের চিকিৎসাটা বিনামূল্যেই করতে হয়। কারণ তারা এতোই হতদরিদ্র তাদের ব্যয় মিটানোর সাধ্য নেই। ফিস্টুলা সেন্টার করার জন্য আমি শ্যামলীতে গেলাম মিরপুরে গেলাম। বিভিন্ন জায়গায় হন্য হয়ে ঘুরলাম।

মিরপুরে একটা ডায়াগোনস্টিক সেন্টার বন্ধে করে দিবে সেটি তারা ভাড়া দিবেন। তবে শর্ত হচ্ছে আমাকে সেখানে একটা লিফট কিনে দিতে হবে। এটা শুনে আমি মর্মাহত হলাম। এখন যেখানে মামস ইনস্টিটিউটটি ভাড়া নিয়েছি, এটি নিতে আমার ভাই ও একজন কাজিন আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছে। তাছাড়া বাড়িওয়ালা ও আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছেন। আমার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দিয়ে আমার এ সেন্টার খোলার সুযোগ হয়েছে। নিজেদের যাকাতের টাকার পাশাপাশি এ কাজে আত্মীয় স্বজন এগিয়ে এসেছেন।  

মেডিভয়েস: চিকিৎসা ব্যয় মেটান কিভাবে?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় শতভাগ কিন্তু ফ্রি।  আপনি রোগীদের চেহারা দেখলেই বুঝতে পারবেন তাদের নিজেদেরই চলার মতো কোনো ক্ষমতা নেই।  এখানে যারা রোগী তাদের থাকা খাওয়া, চিকিৎসা সম্পূর্ণ ফ্রি। এমনকি যারা হতদরিদ্র তাদের যাতায়াত ভাড়াও আমরা দিয়ে দেই।  বিশ শয্যার হাসপাতাল হচ্ছে মামস। এখানে জটিল ও কঠিন অপারেশন করা হয়।  শতভাগ বিনামূল্যে করা হচ্ছে আর এই কাজে যারা সহযোগিতা করে থাকেন তাদের কাছে ও কৃতজ্ঞতা।  প্রথমদিকে আমার যা উপার্জন ছিল সবটাই আমি এখানে দিয়েছি। পারিবার ও এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেছে। 

প্রথমদিকে আত্মীয়-স্বজন ছাত্রছাত্রী ও সহৃদয়বান কিছু লোক ও আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন। এছাড়া মানুষের যাকাতের অর্থ নেয়া হয়। সেই অর্থ দিয়ে ও রোগীকে আমরা সাহায্য করে থাকি।  এখানে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ যেই সমস্যা নিয়ে আসে কাউকেই ফেরানো হয় না।  ২৪ ঘণ্টায় এখানে খোলা থাকে। মাঝরাতেও যদি কোন রোগী আসে তাকে আমরা ভর্তি করে থাকি।  হাসপাতালে নির্দেশনা আছে রোগীরা যত রাতেই আসুক তাদেরকে ভর্তি নিতে হবে। 

মেডিভয়েস: এখানে কি কি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়? 

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: এখানে ফিস্টুলা ছাড়াও প্রসবজনিত জটিলতার কারণে যেসব সমস্যাগুলো হয় বিশষ করে যাদের প্রসাব ঝরছে, জ্বরায়ু নিচে নেমে যাচ্ছে। এইসব রোগীদের এখানে বিনামূল্যে সেবা দেয়া। 

মেডিভয়েস: সিজারিয়ান বেড়ে যাচ্ছে, এটা কেন?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: আমাদের দেশে সিজার বেড়ে যাচ্ছে এটা খুবই দুঃখজনক।  আমার মনে হয় এটা গ্রহণযোগ্য নয়।  সিজারিয়ানের মাত্রা কমানো উচিত।  এতে দুটো পার্টি জড়িত। ডাক্তার এবং রোগী।  রোগীদের হয় কি অনেকের ধৈর্য ধরার শক্তি নেই। তারা জানে ব্যথা থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে সিজার।  আর ডাক্তারদেরও উচিত রোগীদের বুঝানো।  আর যাদের সিজার দরকার তাদেরকে তো করতেই হবে।  আর দেশে ও বর্তমানে কিছু হাসপাতালে ব্যাথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি সিস্টেম চালু আছে। তবে সেটা খুবই কম। আর মহিলাদের প্রথম থেকেই মানাসিকভাবেই প্রস্তুত থাকা দরকার তার নরমাল ডেলিভারির বিষয়ে।  কারণ মাতৃত্ব একটা বিশাল বিষয়। এজন্য ব্যথা কিছুটা শয্য করতে হবে।  আমি মনে করি এটার জন্যই দুইপক্ষ সমানভাবেই দায়ী।  এজন্য বিশাল পরিবর্তন আনা দরকার। সিজারিয়ান অবশ্যই কমানো উচিত আর সবা্রই পদেক্ষপ নেয়া উচিত এর মাত্রা কমানোর জন্য। 

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্যখাতকে কিভাবে দেখছেন?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় কিন্তু বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে অনেক অগ্রগতি সাফল্য অর্জন করেছে। এটা কিন্তু সরকারের অনেক বড় অর্জন। স্বাস্থ্যসেবা আরো বাড়ানো দরকার। কারণ আমাদের দেশে বেশিরভাগই লোকই দরিদ্র।  আরকেটি বিষয় হচ্ছে জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করা দরকার। 

মেডিভয়েস: চিকিৎসকদের নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করা হয় এটার প্রভাব কি পরতে পারে?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: এখন অনেক পরিবর্তন আসছে।  বিশেষ করে ডাক্তারদের নিয়েও ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করা হয়।  এমন একটা সময় ছিলো যখন আমি নিজের সন্তানদেরও ডাক্তার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করতে পারিনি।  সেজন্য অনেক ডাক্তারদের সন্তানই ডাক্তার হতে চায় না। কারণ তারা বলেন, যেখানেই যাই সেখানেই ডাক্তারদের নামে বদনাম।  ডাক্তাররা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেন। এরপরও যদি শুনতে হয় ডাক্তাররা কাজ করেন না এগুলো শুনলে আসলে হিতে বিপরীত হয়।  আর বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।  ডাক্তাররা অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে রক্ত দেয় এমনকি গরির রোগীদের ফিও নেয় না, এমনকি অনেক সময় তাদের ভাড়াও কিন্তু দেয়া হয় সেগুলো গণমাধ্যমে আসে না।  ডাক্তারদের খারাপ কাজগুলোর পাশাপাশি ভালো কাজগুলোও কিন্তু আসা উচিত। 

মেডিভয়েস: যারা গাইনিতে পড়তে চান তাদের বিষয়ে আপনার পরামর্শ? 

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: উচ্চতর ডিগ্রি অর্থ শুধু কাগজপত নয়। দক্ষ হওয়াটাই প্রধান বিষয়। দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে ডিগ্রি পেতে হবে। প্রশিক্ষণকালে এখনকার ছেলেমেয়েরা বই নিয়ে লেখাপড়া করে। শিক্ষক হচ্ছে রোগী। পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানার্জনের সাথে ভালো করে রোগী দেখতে হবে। তাহলে বইয়ের সাথে রোগীর কো-রিলেট করা যাবে। আর এটি না করলে প্রশিক্ষণটা ফলপ্রসূ হবে না।  তরুণদের বলবো বেশি করে রোগী দেখতে হবে, তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।  তাহলে উচ্চতর প্রশিক্ষণটা কাজে লাগবে।  

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব ও কর্মজীবন কোথায় কেটেছে?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: আমার জন্ম হয়েছে চট্টগ্রামে নানাবাড়ীতে। আমার বাবা ছিলেন টা্ঙ্গাইল সাদাত কলেজের প্রফেসর। আমার শৈশব কেটেছে খুব খোলামেলা একটা পরিবেশে। কলেজের পাশে। আমার মার কাছে রান্না বান্নার চেয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনাটা অনেক বড় ছিলো। আমার দুটো ভাই পাঁচ বোন। আমার বাবা বলতেন মেয়েদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত করো। কারণ ছেলেরা রাস্তায় কাজ করে খেতে পারবে কিন্তু মেয়েরা না। সেজন্য বাবা বলতেন মেয়েদের লেখাপড়া শিখাও যেন তাদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত। 

১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। সেখানেই আমি লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। তারপর পোস্ট গ্রাজুয়েশন করি বর্তমান বিএসএমএমইউতে। তারপর ট্রেনিং করি মিটফোর্ড হসপিটালে। নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে করি। কারণ সেসময় বুড়িগঙ্গার ওপর থেকে অনেক খারাপ রোগী এখানে আসতে। ওই খারাপ খারাপ রোগীদের দেখতে হয়েছে বিধায় পরবর্তীতে আমার কর্মজীবনে কাজে লেগেছে। 

এছাড়া কিছুদিন সৌদি আরবে ছিলাম। সেখানে বিশ্বের বড় ডাক্তারদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যাটারনিটি হসপিটালে ছিলাম। তারপর দেশে ফিরে বরিশাল মেডিকেলে ছিলাম।  তারপর ময়মনসিংহ ও সিলেট মেডিকেলে চাকরি করার সুযোগ হয়। সবশেষ ঢাকা মেডিকেলে ছিলাম। এবং ঢাকা মেডিকেলে কিন্তু আমার কনডম ক্যাথেটার আবিষ্কার হয়েছে।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল তিন বছর চাকরি করেছি।  তারপর আমি মামস ইনস্টিটিউট চালু করি। 

মেডিভয়েস: মেডিভয়েসকে কিভাবে দেখছেন?  

প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: আমি মনে করি যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন তাদের প্রয়োজন যেন তুলে ধরা হয়। হতে পারে সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক দুটোই। আমাদের ভুল থাকলে সেগুলো যেন তুলে ধরে। কারণ একজনের ভুল দেখে কিন্তু অনেকেই সংশোধন করতে পারেন। বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞান যে উন্নতি করছে সেটার সাথে যেন আমাদের নতুন প্রজন্মের ডাক্তারদের পরিচয় করিয়ে দেয়।  আমার মনে হয় মেডিভয়েসর এটা করা উচিত। 

মেডিভয়েস: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
প্রফেসর ডা. সায়েবা আখতার: আপনাদেরও।

Add
মেডিভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিপসম পরিচালক

মেধাবীরা পাবলিক হেলথে আসলে স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আসবে   

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স