৩১ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:০০ পিএম

কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়েছে যেসব ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া 

কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়েছে যেসব ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া 

মেডিভয়েস ডেস্ক: বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস । ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এর পর থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২১৩ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯ হাজারের বেশি মানুষ। ইতোমধ্যে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  (ডব্লিউএইচও) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে । 

করোনাভাইরাসের এমন ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়েছে কয়েকটি রোগ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইবোলা, এইচআইভি/এইডস, প্লেগ, কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা,  বসন্ত ও যক্ষ্মা ।  এ সব ভাইরাস - ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও আক্রান্ত হচ্ছেন।

ইবোলা

২০১৪ সালে গোটা বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম ছিলো ইবোলা ভাইরাস। ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় প্রাণঘাতী ইবোলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। কমপক্ষে ১১ হাজার মানুষ মারা যান।  ২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায়, স্বাস্থ্যগত বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ।

এইডস

১৯৮০ সালে এইচআইভি’র দ্বারা সংক্রমিত হয়ে আফ্রিকায় এইডস রোগের সূচনা ঘটে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৮ কোটি মানুষ এইডসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ মারা গেছেন। 

সম্প্রতি জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত। আফ্রিকাতে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। ২০১৮ সালে এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে মধ্য আফ্রিকায় প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। প্রথম ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েকশ চিকিৎসক-নার্সসহ ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।  আফ্রিকার একটি নদীর তীরে প্রথম এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে বলে ওই নদীর নাম রাখার হয় ‘ইবোলা’। এই ভাইরাসটি মূলত বাদুড়ের খাওয়া ফল থেকে মানুষের দেহে প্রথম প্রবেশ করে। ভাইরাসটি মূলত মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়।  

প্লেগ

প্লেগকে বিশ্বের সবচেয়ে মহামারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ২০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। 

১৩৪৬ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই উপমহাদেশেও প্লেগ হানা দিয়েছিলো। ১৮৯৬ সালে মহারাষ্ট্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

‘দ্য ব্ল্যাক ডেথ’ খ্যাত এ রোগ সম্পর্কে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাক্টেরিয়া প্রধানত ইঁদুর বা মাছির মধ্যে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত ইঁদুর বা মাছির কামড়ের দ্বারা মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত করতে পারে।

কলেরা

কলেরার মহামারি শুরু হয়েছে ১৮০০ সালে। চীন, রাশিয়া ও ভারতে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে ৪ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ কলেরায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ইনফ্লুয়েঞ্জা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা অনুযায়ী, ১৯১৮ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৫ কোটি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি হতে পারে।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উদ্ভব হয়েছে, যেগুলো বিশ্বব্যাপী মানুষের কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই ভাইরাসের বিভিন্ন জাতি, মানুষ, পাখি, শূকর প্রভৃতি জীব প্রজাতির মাধ্যমে এটা ছড়ায়।

গুটিবসন্ত

ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে এ রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু। বিংশ শতাব্দীতে গুটিবসন্তে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৭৯ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেন। 

যক্ষ্মা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গত দুই শতাব্দীতে ১০০ কোটি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গবেষণা বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে ৬ থেকে ৯ কোটি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাবেন।

যক্ষ্মা সাধারণত ফুসফুসে ছড়ায়। তবে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির কফ, হাঁচি বা থুতু থেকে বাতাসের মধ্য দিয়ে সহজে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত