২৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৩:৩৭ পিএম

পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের মূলধারায় আনতে মুগদা মেডিকেলের সবাই সচেষ্ট

পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের মূলধারায় আনতে মুগদা মেডিকেলের সবাই সচেষ্ট
ডা. শাহ গোলাম নবী

ঢাকায় অবস্থিত মুগদা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে চলেছে। শুরু থেকেই যিনি তাঁর দক্ষতা, মেধা, যুগোপযোগী পরিকল্পনা দিয়ে কলেজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. শাহ গোলাম নবী। কিছুদিন আগে মেডিভয়েসের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন তার অভিজ্ঞতার কথা, কর্মপরিকল্পনার কথা; দিয়েছেন নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ। পাঠকের উদ্দেশ্যে তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. মনির উদ্দিন

মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, স্যার কেমন আছেন?
ডা. শাহ গোলাম নবী: ভালো আছি। মুগদা মেডিকেলে আসার জন্য মেডিভয়েস টিমকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব-কৈশোর, শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই।  
ডা. শাহ গোলাম নবী: আমার জন্ম বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল লালমনিরহাটের পাটগ্রামে। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করি। ১৯৮৮ সালে রংপুর করমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করি। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের ইউনিভার্সিটি লিব্রে ডি ব্রাসেলস থেকে পাবলিক হেলথে মাস্টার্স সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া ফেইবার ইনস্টিটিউট থেকে টিচিং মেথডলোজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করি।  

মেডিভয়েস: আপনার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে চাই। 
ডা. শাহ গোলাম নবী: মুগদা মেডিকেল কলেজ আমার ১৪তম কর্মস্থল। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে আমার জর্মজীনের শুরু হয়। সেখান থেকে আসি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে। এখানে একবছর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে গ্রামে দুই বছর চাকরির বাধ্যবাধকতা শেষ হয়। পরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বহির্বিভাগে যোগদান করি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাই। তারপর মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বেশ কিছু দিন চাকরি করেছি। সেখান থেকে যাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। তার পর বেলজিয়াম সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট করার জন্য চলে যাই ব্রাসেলসে। সেখান থেকে ফিরে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল কালাজ্বরের এলিনিমেশন প্রোগামে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি। এ প্রোগ্রামে কাজ করেছি পাঁচ বছর। বাংলাদেশে যে কয়টি প্রোগ্রাম সফলভাবে এগিয়ে চলছে, তার কালাজ্বর এলিনিমেশন অন্যতম। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কালাজ্বর প্রায় নির্মূলের পথে। এ সময় আমরা উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান রাখতে সক্ষম হই। যেমন কালাজ্বরের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বিসাম (এম্ফোটারিসিন বি) চালুকরণ। ওই সময় আমার টিমের সহযোগিতায় কালাজ্বরের বেলেমাছি নির্মূলের লক্ষ্যে রেসিডুয়াল স্প্রে চালু করেছিলাম। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমরা এটি চালু করতে পেরেছিলাম, যার ফলে এখন বাংলাদেশ থেকে কালাজ্বর নির্মূলের পথে। এরপর সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশনে কাজ করি। মুগদা মেডিকেল প্রতিষ্ঠিত হলে আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এখানে যোগদান করি।

মেডিভয়েস: মুগদা মেডিকেল কলেজ গত কয়েকটি প্রফে চমৎকার ফলাফল করেছে। এর পেছনে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আপনি মনে করেন?
ডা. শাহ গোলাম নবী: অনেকগুলো বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত বলবো, আমাদের শিক্ষকদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা। মুগদা মেডিকেল কলেজ নতুন হলেও ঢাকায় এর অবস্থান। যেহেতু ঢাকার তিনটি মেডিকেল কলেজ প্রথম সারির। সুতরাং যেসব শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়, তারা একটি প্রত্যাশা নিয়ে ভর্তি হয় যে তারা ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। আমার শুরু থেকে এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়েছে, মুগদা মেডিকেল কলেজ ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজ। সুতরাং ঢাকার তিনটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ছাত্রী-ছাত্রীরা যাতে অন্য তিনটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে সমানতালে লেখাপড়া শিখতে পারে এবং একজন ভালো চিকিৎসক হতে পারে—সেটি আমিসহ আমাদের সকল শিক্ষক তাদের মননে গেঁথে নিয়েছিলেন। আমরা প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করি। সময়মতো ক্লাসে আসছে কিনা, যারা একটু পিছিয়ে পড়ছে, তাদেরকে কিভাবে মূলধারায় নিয়ে আসা যায় এবং ধরে রাখা যায়—এ ব্যাপারে আমরা সব সময় সচেষ্ট। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে আমরা বেশ কিছু কার্যক্রম নিয়মিত করে থাকি। সেগুলো হলো: একাডেমিক ও এক্সটা কারিকুলাম কার্যক্রম। এছাড়া মেডিকেল শিক্ষার চাপে তারা যেন হতাশায় না ভুগে সেজন্য আমাদের মেডিকেলে বিভিন্ন টিম সক্রিয় রয়েছে। ভালো ফলাফলের পেছনে এসব বিষয়গুলো কাজ করেছে বলে আমরা মনে করি।

মেডিভয়েস: কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে? 
ডা. শাহ গোলাম নবী: একটি কলেজের মানোন্নয়নে দুটি বিষয়ে নজর দেওয়া অপরিহার্য। এক. অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুই. শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন মেডিকেল কলেজের প্রশাসনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। তাই মেশিনারিজসহ অন্যান্য উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আছে, এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের চাহিদার কথা সময় মতো অবহিত করছি। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব সময় আমাদের সাহায্য করছে। তবে শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল কলেজের প্রশাসন বা শিক্ষকমণ্ডলীর ওপর নির্ভরশীল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। 


মেডিভয়েস: বর্তমান সরকার প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এর ভূমিকা নিয়ে কিছু বলুন।

ডা. শাহ গোলাম নবী: এখানে দুটি বিষয় আছে। এক. শিক্ষার মানোন্নয়ন, দুই. রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা। উভয়ক্ষেত্রে এগুলো যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমি মনে করি, আমাদের মেডিকেল শিক্ষায় যে দিকটিতে গুরুত্ব বাড়ানো উচিত, যেটা কাঙ্ক্ষিতভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি; তাহলো গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণাধর্মী কাজই বেশি করবে। তাতে আত্মবিশ্বাসী শিক্ষক তৈরি হবে, যারা আমাদের মেডিকেল শিক্ষাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।


 
মেডিভয়েস: মেডিকেলে এ বছর যারা নতুন ভর্তি হয়েছে—তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী? 
ডা. শাহ গোলাম নবী: একজন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তাদের প্রতি উপদেশ হলো, মেডিকেল শিক্ষাকে ভয় পেতে হয় না। এতে ভয় আরও বেড়ে যায়। এটিকে স্বাভাবিক একটি শিক্ষা হিসেবে নিয়ে প্রতিদিন যদি ক্লাসে আসে এবং শিক্ষক যা বলছেন, তা মেনে চলে—তাহলেই মেডিকেল শিক্ষা তার কাছে সহজ হবে। যদি প্রতিদিন ক্লাসে না আসে, যা জানা দরকার তা শিক্ষকের কাছে গিয়ে না জানে, তাহলে অনেক সময় বিষয়গুলো কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষকের কাছে গিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে মেডিকেল শিক্ষা বুঝে বুঝে সহজে শেখা যায়।

মেডিভয়েস: দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এসব মেডিকেলের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ডা. শাহ গোলাম নবী: মেডিকেল শিক্ষার দুটি দিক রয়েছে। এক. বেসিক সায়েন্স বা প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স, দুই. ক্লিনিক্যাল সায়েন্স। বেসিক সায়েন্সে শিক্ষকের অভাব আগে থেকেই রয়েছে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে খুবই সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে, মানটা ধরে রাখার জন্য। নতুন নতুন শিক্ষক নিয়ে স্বল্পতা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য। এভাবে নতুন মেডিকেল কলেজগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এটা ঠিক, এখনো বেসিক বিষয়গুলোতে আমাদের শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। পোস্ট গ্রাজুয়েশন করা চিকিৎসকরা বেসিক বিষয়গুলোতে আসছে কম। এখানে দুটি কারণ আছে, তাহলো: সামাজিক ও অর্থনৈতিক। আমরা মনে করি, বেসিক বিষয়ের শিক্ষকরা রোগী দেখেন না। পরিবার ও সমাজের অনেকে মনে করে, সেতো ডাক্তার না। ডাক্তার নামটা কেটে যাচ্ছে—এ নিয়ে তারা দ্বিধা-দ্বন্দে থাকেন। দ্বিতীয়ত হলো: একজন চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করে অনেক অর্থের সন্ধান পান, কিন্তু নন-ক্লিনিক্যাল বা বেসিক বিষয়ে যারা চাকরি করেন তারা প্রাইভেট প্রাকটিস করেন না। ফলে ক্লিনিক্যাল সাইডের চিকিৎসকদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে তারা পিছিয়ে থাকছেন। এসবই মূল কারণ। এ সংকট দূরীকরণে সরকার এরই মধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপের বিষয়ে চিন্তা করেছে, যার কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয়। যেমন তাদেরকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া। এটি হলে আমার ধারণা, যারা বেসিক বিষয়ে বা গবেষণাধর্মী কাজ করতে চায় তারা এসব বিষয়ে আসবে।

মেডিভয়েস: বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাস করা বিদেশি চিকিৎসকরা নিজ দেশে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি কিভাবে দেখেন?

ডা. শাহ গোলাম নবী: আসলে যে কোনো পরীক্ষা দিয়ে মানুষকে বিচার করা কঠিন। আমরা কাউকে যাচাই করতে গিয়ে একটি পরীক্ষা নিয়ে থাকি। কিন্তু একটি পরীক্ষা দিয়ে যে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে যাচাই করা কঠিন। পরীক্ষায় হয় তো ১০০ বা ৫০টি প্রশ্ন থাকলো, দেখা গেলো ওই দিন ওই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর কোনো কারণে চিকিৎসক দিতে পারলেন না। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো যৌক্তিকতা নাই।

মেডিভয়েস: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
ডা. শাহ গোলাম নবী: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষা ও সেবা—দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন: শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এটি দুই ধরনের; যথা: বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল শিক্ষার প্রশিক্ষণ। কোন উপায়ে সুন্দরভাবে একটি ক্লাস পরিচালনা করতে হয় এবং কিভাবে মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি করা যায়। সেই সঙ্গে আমাদের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
 
মেডিভয়েস: দুই বছরের ইন্টার্নশিপ নিয়ে কিছু বলুন। 
ডা. শাহ গোলাম নবী: উন্নত দেশগুলোতে প্রি মেডিকেল, মেডিকেল ও ইন্টার্নশিপ নিয়ে এমবিবিএস কোর্স প্রায় সাত বছর আছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাড়ে চার বা পাঁচ বছর এবং ইন্টার্নিসহ অনেক জায়গায় ছয় বছরও আছে। আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কোন মানের সেবা চাই। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো সেবা চাই, তাহলে সাত বছর করতে হবে। আমাদের কাছাকাছি উদাহরণ আছে, যেমন ভারত ও মালয়েশিয়ায়। সেসব দেশে পাঁচ বছর বা ছয় বছর। আসলে এর সময়সীমা এটা নির্ভর করছে, আপনি কী ধরনের সেবা চাচ্ছেন। কত দক্ষ চিকিৎসক বা শিক্ষার্থী চাচ্ছেন। অন্য সব ক্যাডারে চার বছরের অনার্স করেই চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসকরা ছয় বছর লেখা-পড়া করে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে তারা এমনিতেই অন্য ক্যাডারের চেয়ে দুই বছর পিছিয়ে যাচ্ছেন। যদি তাদের নিশ্চিত করা যায় যে, এটি সমন্বয় করা হবে। তাহলে তারা দুই বছরের ইন্টার্নশিপের বিষয়ে অসম্মত হবে না।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ইন্টার্নশিপ কিন্তু একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ একজন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর কোনো শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপের স্বীকৃতি মিলবে। কিন্তু যখন তাকে উপজেলায় পাঠানো হবে; সেখানে ইনস্টিটিউশন নেই, অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক নেই। তাহলে কে তাকে প্রশিক্ষণ দেবেন, কে তাকে সনদ দেবেন? সেখানে আছেন একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া সনদটি দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং উপজেলায় ইন্টার্নশিপ হচ্ছে না। মূলত সে সরকারকে সেবা দিচ্ছে। এটা ইন্টার্নশিপ নয়, সেবা।

মেডিভয়েস: তরুণ চিকিৎসক এবং মেডিকেলে পড়তে আগ্রহী তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
ডা. শাহ গোলাম নবী: আমরা যদি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা তৈরি করতে পারি, তাহলে মেডিকেল শিক্ষায় যারা আসবেন তারা হতাশ হবেন না। তারা তাদের ক্যারিয়ার প্লান তৈরি করতে পারবে যে, আমি কি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হবো, নাকি জেনারেল ফিজিশিয়ান হবো। যদি সবাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে যায়, তাহলে গ্রামে-গঞ্জে যাবে কে? প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা করবে কে?যখন একজন চিকিৎসক পোস্ট গ্রাজুয়েশন করবেন, তখন তিনি চাইবেন টার্শিয়ারি বা সেকেন্ডারি লেভেলের কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। তিনি সহজেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে চিকিৎসা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন না। এজন্য মেডিকেল শিক্ষায় যারা আসবে, তাদের আগেই ক্যারিয়ার প্ল্যান তৈরি করে আসতে হবে। সে আসলে কী চায়?এ রকম পরিকল্পনা থাকলে মেডিকেলে ক্যারিয়ার তৈরি করা তার জন্য সহজ হবে। অন্যথায় তার মধ্যে হতাশা কাজ করবে।

এক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষার সময় কমানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ এক বছরের ডিপ্লোমা সারা পৃথিবী থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সংক্ষিপ্ত কোনো চিন্তা করার অবকাশ নাই।
 
মেডিভয়েসের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
ডা. শাহ গোলাম নবী: মেডিভয়েস একটি সুন্দর পত্রিকা। এটি পড়ে আমরা মেডিকেল শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় জানতে পারি। এজন্য মেডিভয়েসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তারা মেডিকেল শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আছে। এবং এর উন্নয়নে কাজ করছে। কিছু গণমাধ্যমের ভুল ম্যাসেজ দেওয়ার কারণে আজকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে মেডিভয়েসের আয়োজন ব্যতিক্রম।

 

যা কিছু প্রিয়

প্রিয় রঙ: নীল। 
প্রিয় পোশাক: শার্ট-প্যান্ট। 
প্রিয় গান: লাল ফিতা, সাদা মোজা, স্কুল ইউনিফর্ম। 
প্রিয় শিল্পী: তপন চৌধুরী। 
প্রিয় খেলা: ফুটবল। 
প্রিয় চলচ্চিত্র: ঢেউয়ের পরে ঢেউ।  
প্রিয় লেখক: হুমায়ুন আহমেদ। 
প্রিয় বই: শীর্ষেন্দুর মানবজমিন। 
প্রিয় ব্যক্তিত্ব: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর আমার পিতা। 
অবসরে যা করেন: ছেলের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স