২৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০৯:৫৪ পিএম

‘করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে’

‘করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে’

তানভীর সিদ্দিকী: করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ এবং এ রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে শিগগিরই গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। সময়োপযোগী ও জ্ঞানলব্ধ কার্যকরী গাইডলাইন তৈরির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা এ বিষয়ে একাধিক সভা করেছি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে  ‘নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশে এখনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী সনাক্ত না হলেও যে কোন সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ মুহূর্তে এই ভাইরাস প্রতিরোধেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আমাদের সকলকেই সর্তক থাকতে হবে।

সেমিনারে করোনা ভাইরাইসের বিস্তার, রোগটি কীভাবে ছড়ায়, কারা আক্রান্ত হয় এবং ভাইরাসটি কীভাবে রোগ তৈরি করে তা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুনীরা জাহান।

এছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া, প্রতিরোধ, প্রতিকার ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নামজুল হাসান।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিয়মিত হাত পরিস্কার রাখতে হবে ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট অসুস্থ রোগীর সংস্পর্শে থাকা যাবে না। দেশের বাইরে থেকে কেউ আসলে দু’সপ্তাহ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কাঁচা বাজারে গেলে পশু-পাখির মাংস ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। মাংস ধরলে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মাংস ধরে হাত না ধুয়ে মুখমন্ডল টাচ করা যাবেনা। মাংস ও ডিম ভালো করে সেদ্ধ ও রান্না করে খেতে হবে। পোষ্য প্রাণীদের সাথে থাকার ক্ষেত্রে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।

প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষদের থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের জ্বর আছে কিনা সেই তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল ২৭ জানুয়ারি ২০২০ইং পর্যন্ত ২৫০০ জনেরও বেশি জনের তাপমাত্রা পরীক্ষায় করা হয়েছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ২টি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি ও ভাইরোলজি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছেন।

রোগের লক্ষণ, উপসর্গ, জটিলতা ও চিকিৎসা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যক্ষব্যধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশি, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে সকলকেই অধিক সতর্ক হতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগে নিউমোনিয়া হয়ে ফুসফুস অকেজো হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কিডনী, হার্ট ও লিভার অকেজো হয়ে যায় এবং এতে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে রোগীকে অবশ্যই আইসোলেটেড থাকতে হবে। এছাড়া তরল ও পুষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ এই ভাইরাসটির মোকাবেলায় ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. জিলন মিঞা সরকার, শিশু অনুষদের ডীন ও সেমিনার সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ আবদুর রহিম, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, অধ্যাপক ডা. শাহিনা তাবাসসুম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার রায় প্রমুখসহ বিশেষজ্ঞগণ, শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী ও নার্সবৃন্দ।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি