২৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০৩:০৯ পিএম

বিরল আট রোগ: এখনো আবিষ্কৃত হয়নি অনেক প্রতিষেধক

বিরল আট রোগ: এখনো আবিষ্কৃত হয়নি অনেক প্রতিষেধক

মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রকৃতির নিয়মেই আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিনিয়তই নতুন নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার করে চলছে। এমনকি এসব রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিকারও আছে। কিন্তু কিছু রোগের প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি চিকিৎসা বিজ্ঞান। আর ওই সব রোগগুলোকেই চিকিৎসকরা বলছে ‘বিরল রোগ’।  

চিকিৎসাবিদরা পৃথিবীতে এমন কিছু বিরল রোগের সন্ধান পেয়েছেন, যার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে। এরক ৮টি বিরল রোগের সর্ম্পকে কিছু তথ্য। 

১. প্রোজেরিয়া: বিশ্বের প্রতি ৮ মিলিয়ন শিশুর মাঝে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়। প্রোজেরিয়া একটি জেনেটিক রোগ, যাতে আক্রান্ত রোগীর দেহে শৈশবেই বার্ধক্যের ছাপ চলে আসে। আর এতে যে শিশুরা আক্রান্ত হয় তারা তাদের ১৩ থেকে ২০ বছরের মাথায় মারা যায়।  ভয়াবহ এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের লক্ষণ হলো, চেহারাতে অকালে বার্ধক্যের ছাপ চলে আসা, চোখ ফুলে যাওয়া, মুখের আকৃতি অস্বাভাবিকভাবে ছোট হয়ে যাওয়া ও দেহের ত্বকে ভাঁজ পড়া।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কিংবা মস্তিষ্কের রক্ত ক্ষরণে মারা যায়।

২. পানির প্রতি এলার্জি: এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা এই ‘ওয়াটার এলার্জিতে’ আক্রান্ত। এটি সাধারণত পরিণত বয়সে দেখা দেয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় দেহের হরমোনের তারতম্যের কারণে নারীরা এটিতে আক্রান্ত হন। এটা প্রধানত পানিতে উপস্থিত আয়নের কারণে হয়ে থাকে।

৩. এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম:  এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোমে (এএইচএস) আক্রান্ত ব্যক্তির হাত অস্বাভাবিকভাবে নড়তে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির তার হাতের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণই থাকে না। হাতটি দেখে যেকারোই মনে হবে এটি যেন নিজেই আলাদা একটি জীবিত সত্ত্বা! রোগী বুঝতেই পারে না তার হাত কি করছে। ১৯০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তিকে পাওয়া গিয়েছে যারা এই বিরল রোগে আক্রান্ত ছিল।

৪. বৃক্ষমানব: আক্রান্ত রোগীর ত্বকের উপর হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। রোগীর দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আগে থেকেই রোগী দুর্বল হয়ে থাকে। এ সুযোগে ভাইরাসটি রোগীর দেহের সব স্থানের ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে রোগীর ত্বক গাছের বাকলের মতো হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবিত হয়নি।

৫. আরজিরিয়া বা নীল ত্বক: ফুগেট পরিবার গত ২০০ বছর ধরে এই সমস্যায় আক্রান্ত। বংশ পরম্পরায় এই রোগ এই পরিবারের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে এদের সবার দেহের রঙ নীল বা বেগুনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে methemoglobinemia। এর ফলে রক্তে অতিরিক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে থাকে। রোগীর শরীরের চামড়া নীল হয়ে যায়, ঠোঁট হয় বেগুনি আর রক্তের রঙ হয় বাদামি। এই রোগ হলে তা বংশ পরম্পরায় চলতে থাকে। 

৬. ফাইব্রোডিসপ্লেসিয়া অসিফিকেনস প্রগ্রেসিভা: এই রোগের কারণে আক্রান্তের শরীর পুনঃগঠন প্রক্রিয়ার ফলস্বরুপ বিভিন্ন তন্তুকলা যেমন পেশি, লিগামেন্ট বা রগ আঘাতের কারণে হাড্ডিসারে পরিণত হয়। মাঝে মাঝে আঘাতপ্রাপ্ত জয়েন্টগুলো নিথর হয়ে যায়। যখন অতিরিক্ত হাড় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের চেষ্টা করা হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় আরো হাড় গজিয়ে উঠে।

৭. মায়োসটেটিন রিলেটেড মাসল হাইফারট্রোফি: এই বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরের চর্বির পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং পেশি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এদের পেশিতে শক্তিও অনেক বেশি থাকে।

৮. মারি অ্যানটোইনেট সিনড্রোম: এই সিন্ড্রোম আক্রান্ত রোগীদের চরম আবেগ, অনভিপ্রেত সংবাদ, নির্যাতন ও এমনকি অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে হঠাৎ করে চুল সাদা হয়ে যায়। এদের চুল তার আসল রঙে ফিরে আসতেও পারে আবার নাও পারে। মারি অ্যানটোইনেট এর চুল হঠাৎ তিনবার সাদায় পরিণত হওয়ার পরেই চিকিৎসাবিদরা এই রোগের সন্ধান পান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও