২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ০৭:৩৭ পিএম

‘ডায়রিয়া’ বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ

‘ডায়রিয়া’  বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডায়রিয়া রোগ এখনো বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ । ২০১৭ সালে প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ ডায়রিয়াজাতীয় রোগে মারা যায়। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগের মৃত্যুর কারণ ডায়রিয়া। বাচ্চাদের ডায়রিয়া হয় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এর মধ্যে ভাইরাসের কারণেই সবচেয়ে বেশি এই রোগ দেখা যায়। রোটাভাইরাস আর অ্যাডিনোভাইরাস এর মধ্যে বেশি সক্রিয়।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ডায়রিয়া হল বিশ্বে মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে একটি। কিছু দেশে, ডায়রিয়াই মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

২০১৭ সালের এক বাংলাদেশ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ১৯৯৮ সাল থেকে সারা দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা সংরক্ষণ করে আসছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ডায়রিয়ার কারণে দেশে মৃত্যু অনেক কমেছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৯৮ সালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৭ জন। মারা গিয়েছিল ২ হাজার ৩২৭ জন। ২০১৬ সালে আক্রান্ত হয় ২৪ লাখ ৯ হাজার ২৯৪ হাজার। মৃত্যু হয় মাত্র ৫ জনের। বর্তমানে দিনে ৬ হাজার ৬০০ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বহু মানুষ পুষ্টিহীনতা ও স্থুলকায় ভুগছে। 

বৈশ্বিক জনস্বাস্থের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ডায়রিয়া ও পুষ্টি বিষয়ক পঞ্চদশ এশীয় অ্যাসকড সম্মেলন শুরু হবে আগামী ২৮ জানুয়ারী ২০২০। চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনকে সামনে রেখে রবিবার (২৬ জানুয়ারী ২০২০) সকালে রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাসকড। এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘টাইফয়েড, কলেরা ও অন্যান্য আন্ত্রিক রোগের সাথে পুষ্টি-সংশ্লিষ্ট ব্যাধির সম্পর্ক; মানবিক বিপর্যয়ের যুগে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ’। 

আইসিডিডিআর,বি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সারা বিশ্বে ২.৬৯ কোটি অপুষ্টিতে ভোগা অর্ধেকেরই বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশ্বের খর্বাকৃতির বা বয়সের তুলনায় কম উচ্চতাবিশিষ্ট সব শিশুদের প্রায় অর্ধেক (৪৭.২%) তিনটি দেশে বাস করে। যার মধ্যে দুইটি দেশে হলো ভারত (৪.৬৬ কোটি) এবং পাকিস্তান (১.৭ কোটি)। আর বাংলাদেশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ৩১ ভাগই খরবকায়।  যাদের মধ্যে ৯ ভাগ অতি খরবকায়। আর ৮ ভাগ কৃশকায়। এর পাশাপাশি, বিশ্বের স্থুলকায় শিশুদের মধ্যে ৫৪ লক্ষ দক্ষিণ এশিয়ায় এবং ৪৮ লক্ষ পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করে। যা মোট স্থুলকায় শিশুর ২৬.৬ শতাংশ। বিশ্বের প্রায় ১.১-২ কোটি মানুষ টাইফয়েড জ্বরে ভোগে। 

এছাড়া অতীতের চেয়ে এখন অনেক বেশি মানুষ সংঘাত, জরুরী অবস্থা, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। ২০১৯ সালে ৪২টি দেশের ১৩.৪ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হয়েছিলো। এমনকি পুরাতন কলেরা রোগের মারা গেছে বিপুর সংখ্যক মানুষ। এমন বাস্তবতায় প্রায় দেড় যুগ ধরে অ্যাসকডের পঞ্চদশ সম্মেলন সময় উপযোগী। 

সংবাদ সম্মেলনে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ক্লেমেন্স বলেন, আমারা ঢাকায় পঞ্চদশ অ্যাসকড এ মিলিত হতে যাচ্ছি । আমাদের উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেসব বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য - সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলছে, এসব চ্যালেঞ্জ সমাধানের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং আমাদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মকৌশলসমূহ আলোচনা ও মূল্যায়ন করাই এই সম্মেলন উদ্দেশ্য।  

সম্মেলনে ৮১টি মৌখিক এবং ১১৩টি পোস্টার উপস্থাপনা পেশ করা হবে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকার ৪৫০ জনেরও বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী এতে অংশ নিবে। এছাড়া ৪৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নীতি নির্ধারক এই সম্মেলনে অংশ নিবে বলে জানান আইসিডিডিআর,বি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও অ্যাসকড এর সভাপতি ড. ফেরদৌসী কাদরী। 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সুইডিশ ইন্টারন্যাশানাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেইটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পঞ্চদশ অ্যাকসড এর আয়োজন করছে আইসিডিডিআর,বি। ১৯৮১ সালের দিকে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিলো ডায়োরিয়া । সে থেকে অ্যসকড বাংলাদেশসহ, ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই প্রথম বাংলাদেশে আয়োজন হতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো জানা যায়, অ্যাকসডের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক(এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম এবং স্বাস্থ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ।

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি