২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ০৩:৩৫ পিএম

‘করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই, প্রস্তুত’

‘করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই, প্রস্তুত’
ছবি: মাহফুজ উল্লাহ হিমু

তানভীর সিদ্দিকী: করোনা ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয় বরং এ ভাইরাসকে মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তত বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গোটাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই, বরং আমরা প্রস্তুত।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যেহেতু চীনের সাথে আমাদের ঘনিষ্ট যোগাযোগ, সুতরাং সেখান থেকে রোগটি বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সেটা মাথায় নিয়েই আমরা আরও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি, এই সপ্তাহ থেকে সেটা আরও ইনটেনসিভ করার চেষ্টা করছি। করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা একটা কন্ট্রোল রুম খুলেছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক্রমে আমরা কাজ করছি।  আমরা এই ভাইরাস মোকাবেলা করবো।

ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএসইডিসিকে নিয়ে আমরা একটি টিম তৈরি করেছি। তারা প্রতিদিন এটা রিভিউ করবে যে, গতকালের অবস্থা অনুযায়ী আমাদের পরবর্তী করণীয় কি আছে, এর প্রেক্ষিতে আমরা আজকেও বসেছিলাম। সেখান থেকে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে, এই মুহূর্তে স্থলবন্দরগুলোকে সতর্ক রাখবো। কিন্তু যেভাবে চায়না থেকে আগত ফ্লাইটগুলোকে মনিটরিং করেছিলাম, সেটা এখনও অব্যাহত রাখবো। এক্ষেত্রে আমরা চায়নাকেই অধিকতর গুরুত্বের মধ্যে রাখছি। তার কারণ হলো, অন্য দেশে যতগুলো এ রোগী পাওয়া যায়, কিছু সাসপেক্টেড (সন্দেহভাজন) পেশেন্ট আর কিছু আক্রান্ত।

এ পর্যন্ত কতোজনকে পরীক্ষা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাব সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের কাছে ফোনকল এসেছে ৯ জনের। ৯ জনকেই আমরা টেলিফোন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করে ২জনকে সেম্পল নিয়ে পরীক্ষা করেছি। এছাড়া বাকিদের কারও মধ্যে প্রাসপেক্টিভ কেস আমরা পাইনি, তাই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়নি। পরীক্ষাকৃত দু’জনকে সন্দেহভাজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসাবে ধরা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসাবে ধরা ঠিক হবে না। কারণ, তারা চীন থেকে আসলেও আক্রান্ত এলাকা থেকে আসেননি। আমরা অতি সতর্ক হয়েই তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। 

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রথমত চায়না থেকে আগত প্রত্যেক যাত্রীর টেলিফোন নাম্বারসহ তালিকা নিয়ে পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেককেই আমাদের কল সেন্টারের মাধ্যমে কল করে তাদের কাছ থেকে আমরা নিয়মিত ভিত্তিতে হিস্ট্রি জানবো। কারণ, এই মুহুর্তে জ্বর না থাকলেও পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে যদি কারও যদি কোন লক্ষণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকে আমরা আমাদের পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসবো।

কতোজন যাত্রী চীন থেকে দেশে এসেছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও সংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত ১৮৩ জন যাত্রী চীন থেকে এসেছে। এয়ারপোর্টে দুটি স্কেনার দিয়ে তাদের প্রত্যেককেই স্ক্রিনিং করা হয়েছে।  ৩টা স্কেনারের মধ্যে ২টা স্কেনার ভালো আছে। স্কেনারগুলো যাত্রীর কাছে থেকে ধরলে যদি তার জ্বর-সর্দি থেকে থাকে, তাহলে খুবই দ্রুত সনাক্ত করতে পারে। আজকে সকালের প্রোগ্রামে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সেখানে আরও দুটি স্কেনার দেয়া হবে। প্রতিদিন কতোজন যাত্রীকে স্কেনিং করা হচ্ছে, তারমধ্যে কেউ অসুস্থ আছে কিনা, এগুলো আমরা দেখবো।

এই রোগ চিহ্ণিত রোগীরা কোথায় চিকিৎসা নিবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কারও মধ্যে এই রোগ চিহ্ণিত হয়, তাহলে তাদের জন্য প্রাথমিকভাবে কুর্মিটোলা হাসপাতালকে আমরা প্রস্তুত রেখেছি। দ্বিতীয়ত আমরা ইনফেকশন ডিজিজ হসপিটালকে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় আছি, বিকালে আমরা এটা নিয়ে আরেকটা মিটিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজীদ খুরশীদ রিয়াজ, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মেডিসিনের অধ্যাপক এডওয়ার্ড টি রায়ান, আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যালেন রস প্রমুখ।

এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে সেখানে বাংলাদেশিরা ভাল আছেন। চীনে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এছাড়া চীনের উহানে থাকা প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি হটলাইন খোলা হয়েছে। এই হটলাইন নম্বর হচ্ছে- (৮৬)-১৭৮০১১১৬০০৫।

করোনা ভাইরাস চীনের এখন পর্যন্ত ৫৬ জন মারা গেছেন। এছাড়াও অস্টেলিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে বলে দেশগুলো নিশ্চিত করেছে। গত ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।

 

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি