২৫ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:২২ পিএম

রহস্যময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত বাংলাদেশ

রহস্যময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত বাংলাদেশ

মেডিভয়েস ডেস্ক: চীন থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে যেকোনো সময় এ ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।  তাই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এবং আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চীনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪১ জনই মারা গেছেন। শুধুমাত্র গতকাল শুক্রবারে (২৪ জানুয়ারি) আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০ জন।

এরইমধ্যে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশপথে করোনাভাইরাস স্ক্রিনিং (শনাক্ত) কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে।  জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ভাইরাসটি প্রতিরোধের জন্য এ সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রমও নেয়া হয়েছে।

ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা ও জনসচেতনতা তৈরির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত গাইডলাইনও প্রস্তুত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিডিসি ও আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) চারটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে- ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এ ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডও করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধী পোশাক মজুদ রাখা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে।  বিমানবন্দরের ভেতরে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ক্রুদের মাধ্যমে চীন ও আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে হেলথ ডিক্লারেশন ফর্ম ও প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সরকারের সতর্কতামূল কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন এবিএম আব্দুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে যেকোনো সময় এ ভাইরাস বাংলাদেশে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  বিশেষ করে প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে চীনে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা আসা-যাওয়া করছে।  এছাড়া ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে এমন অনেক দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।  তাই এখনও কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও, এ ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি তো আছেই।

তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস যাতে না ছড়াতে পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের উপশম হলো (জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সাথে কাশি ও নিউমোনিয়া)।  আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিং করা। বিশেষ করে চায়না থেকে যারা আসা যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিং করতে হবে।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, নরমাল সর্দি-কাশি হলে রোগীর যে রকম উপশম দেখা দিবে, ঠিক করোনাভাইরাসের উপশম একই রকম। এই ভাইরাস সর্দি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। তবে এ ভাইরাসে সুনিদির্ষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তাই রোগীর লক্ষণগুলো ভালো না হওয়া পর্যন্ত অনন্ত দুই সপ্তাহ বাসায় থাকতে হবে। প্রচুর পানি খাবে।  প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবে। সবার সচেতনতাই পারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে চীন থেকে বাংলাদেশে আগত চারটি ফ্লাইটের (চায়না সাউদার্ন, চায়না ইস্টার্ন, ড্রাগন এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা) যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিং করা হয়।  এদের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে (জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সাথে কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি) এমন আটজনের রিপোর্ট আসে।  এদের মধ্যে দুইজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।  কিন্তু পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি, ধরা পড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা বি ভাইরাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা করে দেখেছে, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের সবাই অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বলছে, এ ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই সামান্য।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি