২৫ জানুয়ারী, ২০২০ ১১:২৬ এএম

করোনা ভাইরাস: রোগীদের চিকিৎসায় চীনে নতুন হাসপাতাল

করোনা ভাইরাস: রোগীদের চিকিৎসায় চীনে নতুন হাসপাতাল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছে চীন। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে উহান সেন্ট্রাল সিটিতে হাসপাতালটি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালটিতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। ২৫ হাজার বর্গফুটের হাসপাতালটিতে শয্যাসংখ্যা থাকবে এক হাজার।

তবে চীনসহ বিশ্বব্যাপী ‘প্রাণঘাতী’ হয়ে ওঠা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা খুবই কম। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪১ জনই মারা গেছেন।

২০০২-০৩ সালে চীনে এক সার্স ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের মূল ভূ-খণ্ডে প্রায় সাড়ে তিনশ ও হংকংয়ে প্রায় তিনশ মানুষের মৃত্যু হয়। 

এ অবস্থায় বেইজিংয়ের আশপাশে সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্স ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতেও নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষ। 

বেইজিংয়ে সেসময় যে কাঠামোতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন হাসপাতালটিও একই কাঠামোতে নির্মাণ হবে।

এরইমধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে চীনের অন্য অঞ্চলসহ থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাই সম্প্রতি উহান ভ্রমণ করেছেন বা সেখানে বসবাস করেন।

চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে এই প্রদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে সরকার। এছাড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্ধারণে গতকাল বৈঠক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভ্যান কেরখোভে জানিয়েছেন, চীন থেকে নতুন যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে তার সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বিশ্বের সমস্ত হাসপাতালকে নির্দেশনা দিয়েছে তারা। এছাড়া ভাইরাসটির সংক্রমণ এড়াতে বিশ্বের অনেক দেশ বিমানবন্দরে চীনা নাগরিকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ ভাইরাস মানুষের ও প্রাণীদের ফুসফুস সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লু’র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস।

এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো এখনো ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা।
 

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত