১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৩:৪৩ পিএম

রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা

রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে পরিচালিত চিকিৎসকদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সের (এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম) নানা অসঙ্গতি, অনিয়ম ও এর সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার এ বিষয়ে জনমত গঠন ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গণস্বাক্ষর অভিযান নামে একটি অনলাইন পিটিশন খুলেছেন তারা।

অনলাইন পিটিশনে বলা হয়েছে, এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম আজকে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। একশোর বেশি ডাক্তার ইতিমধ্যে কোর্স আউট হয়ে গিয়েছেন এবং এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই জানুয়ারি সেশনেও একই পরিমাণ ডাক্তার কোর্স আউট হয়ে যাবেন। যে কোন পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সে সুযোগ পাওয়া এবং পাশ করা দুটোই কঠিন এবং পাশের হার অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম।

এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হল-

১. সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে গত কয়েক বছরের এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণসমূহ উদঘাটন করা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের শিক্ষক এবং পরীক্ষকগনের জন্য একটি পরিপূর্ণ, যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা।

৩. এমডি/এমএস, রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একটি গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং জৈষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরীক্ষক নির্বাচন করা।

৪. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে সম্পৃক্ত সকল শিক্ষকদের কোর্স কারিকুলাম সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

৫. বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ প্রদান করা।

৬. শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি মানসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক এবং পরীক্ষক মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৭. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এমডি/এমএস ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৮. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম সম্পৃক্ত যে সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৯. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম সম্পৃক্ত যে সব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণ নেই, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষা উপকরণ সরবারহ নিশ্চিত করা।

১০. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের পাশাপাশি বিষয় বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া।

১১. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে আলাদা করে অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করা।

১২. এমডি/এমএস, রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের সনয়কালকে ‘পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং’ হিসেবে স্বীকৃতি দান করা।

১৩. এমডি/এমএস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষার ফি, কোর্স ফি এবং ফেইজ এ ও ফেইজ বি পরীক্ষার বর্তমান ফি ৪০% হ্রাস করা।

১৪. এমডি/এমএস, রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের রেসিডেন্টদের বর্তমান মাসিক ভাতা ৫০% বৃদ্ধি করা এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা।

এ প্রসঙ্গে কোর্সের সাবেক ছাত্র ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, গুটিকয়েক মানুষের হীনমন্যতায় আধুনিক বিশ্বের কয়েকটি দেশে প্রচলিত কারিকুলামের আদলে চালু হওয়া ডাক্তারদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স ধ্বংসের মুখে পতিত। একশ’র বেশি চিকিৎসক ইতিমধ্যে কোর্স আউট হয়ে গেছেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই জানুয়ারি সেশনেও সমপরিমাণ ডাক্তার কোর্স আউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, যে কোনো পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সে সুযোগ পাওয়া এবং পাস করা দুটোই কঠিন এবং পাসের হার অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু এই রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম নিয়ে বর্তমানে যা করা হচ্ছে সেটি এক কথায় স্বেচ্ছাচারিতা।

ডা. জাহিদ বলেন, আমরা আমাদের দাবির সপক্ষে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে এই কোর্স চালু করার সঙ্গে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। ইতিমধ্যে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম সংস্কারের দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী বরার্বূর স্মারকলিপি প্রদান করব।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি